বছর আড়াই আগে "নর্থ ক্যারোলিনার পাখিরা" নামে একটি ছবিব্লগ লিখেছিলাম। পাখপাখালির ছবি তোলার বাতিক তখন সদ্য শুরু হয়েছে। যেখানে যা ছবি তুলেছিলাম সব একসঙ্গে দিয়ে দিয়েছিলাম সেই লেখায়। তার ফলে লেখাটি দৈর্ঘ্যে হয়ে গিয়েছিল অনেক লম্বা। সেই সঙ্গে একই পোস্টে প্রচুর ছবি থাকায় পোস্ট লোড হতে অনেকটা সময় লেগে যেত।
 
আড়াই বছর ফাস্ট ফরওয়ার্ড করে বর্তমানে চলে আসা যাক। ইতিমধ্যে আরও অনেক অনেকটা সময় কাটিয়েছি এই ডানা-ওয়ালা দু-পেয়েদের পিছনে। নর্থ ক্যারোলিনার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখা পাওয়া গেছে আরও অনেক নতুন প্রজাতির। সেইসঙ্গে আরও পক্ষীপ্রেমী বেশ কিছু বন্ধুর সাহচর্যে জ্ঞানলাভও নেহাত কম নয়। সেই সমস্ত স্মৃতি সম্বল করে আরেক দফা পাখি-ব্লগ লেখার ইচ্ছে হল। এবারে ঠিক করেছি একসাথে একগাদা ছবি না দিয়ে পর্বে পর্বে প্রকাশ করব। একেক পর্বে থাকবে একেক জাতের পাখি। এই পর্বের ভাগগুলো কোনো রিগোরাস বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ মেনে করা হয়নি, হয়েছে স্রেফ আমার নিজের সাজানোর সুবিধে মত।

এই শুরুর কথা পর্বে কেবল যেসব বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলেছি সেইসব জায়গার কিছু ঝলক দেখাব। ছবি ব্লগ লেখার সময় "কথা কম, ছবি বেশি" এই তত্ত্বে আমি বিশ্বাসী, কারণ এইসব জায়গাগুলো, যা আমার অত্যন্ত কাছের, তাদের ভাষায় বর্ণনা করার মত কলমের জোর আমার নেই। ছবির মাধ্যমেই পাঠক বন্ধুরা দেখে নিন বরং।

একটা সাফাই আগে থেকে গেয়ে রাখি। বহু ইচ্ছে থাকলেও উন্নততর ক্যামেরা কেনা হয়ে ওঠেনি নানা কারণে। তাই এই পুরো সিরিজটার ক্ষেত্রে সেই পুরোনো পাওয়ারশট এস থ্রি আই এসই ভরসা। মাত্র ১২এক্স অপটিকাল জুম নিয়ে পাখির ছবি তুলতে বেরোনো খুব বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সময়ে সময়ে অত্যন্ত ফ্রাস্ট্রেটিং হয়ে দাঁড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে বার্ডিং এথিক্স এরও বিরোধী হয়। অবশেষে থ্যাঙ্কসগিভিং সেলে একটা অপেক্ষাকৃত ভাল ক্যামেরা অর্ডার করে এই লেখা লিখতে বসেছি। আশা করছি ভবিষ্যতে আপনাদের আরো ভাল পাখির ছবি উপহার দিতে পারব।

গত দু-তিন বছরে এই অঞ্চলের কিছু নামজাদা পক্ষী-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বিশেষ করে বলতে হয় চ্যাপেলহিল নিউজের মেরি সোনিস এর কথা। তাঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তবু বলতে পারি আমি সেরকম বিশেষজ্ঞ আদৌ নই, কোনও ভুল চোখে পড়লে অবশ্যই ধরিয়ে দেবেন। বাড়তি তথ্যের যোগান দিতে চাইলেও মোস্ট ওয়েলকাম। ছবির সঙ্গে দেওয়া তথ্যগুলো মূলত নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই লেখা। ইন্টার্নেট ঘেঁটে একগাদা তথ্য কপি পেস্ট করে লাভ কি, সেসব তো চাইলেই আপনারা গুগল করে নিতে পারবেন। আমি যা দেখেছি-শুনেছি সেটুকুই কেবল লিখছি এখানে। বাড়তি তথ্যের জন্য উৎসাহীরা এই সাইটে দেখতে পারেন।

যা হোক, আর কথা নয়। কিছু ছবি দেখা যাক বরং।

চ্যাপেল হিলের সেরা বার্ডিং লোকেশন মেসন ফার্ম বায়োলজিকাল রিজার্ভ। এর অনেকটা অংশ ঘন জঙ্গল। সঙ্গে আছে ঝোপে ঢাকা মাঠ, ছোটো ছোটো গাছের সারি, একটা সরু খাল আর একটা পুকুর। সব মিলে নানা ধরণের পাখিদের দেখার আদর্শ জায়গা।
 

মেসন ফার্মের প্রধান অঞ্চলে ঢোকার মুখে গাছের চাঁদোয়ায় ঢাকা মর্গ্যান ক্রীক
 

ইনো রিভার স্টেট পার্কে গেলে পাখি ছাড়াও দেখা যায় অসংখ্য সাদা-লেজ খরগোশ। সারাক্ষণ লাফাঝাঁপা করে বেড়াচ্ছে তিড়িং বিড়িং করে।
 

মানুষের সাড়া পেলেই লেজ তুলে এক লাফে পগার পার!
 

আর আছে রাজকীয় ভঙ্গিমার হরিণ-রা। সর্বত্রই এদের দেখা যায় এখানে, তবে ইনো রিভার স্টেট পার্কের মত এত বেশি কোথাও দেখিনি।
 

সমতলে দেখা যায়না এরকম অনেক পাখিদের দেখা যায় পাহাড়ে গেলে। ফল মাইগ্রেশনের সময় সেখানের গাছগুলো সেজে ওঠে রঙিন পাতায় আর রঙ বেরঙের পাখি-তে।
 

এই পাহাড়ি অঞ্চলে আছে প্রচুর ট্রেল, ক্যাম্পগ্রাউন্ড আর ছোট ছোট ঝর্ণা। দু-তিনদিনের ক্যাম্পিং এর পক্ষে আদর্শ জায়গা।
 

ফল এর সময় গাছের পাতা ঝরে গেলেও গাছ বেয়ে ওঠা লতাদের সবুজ কিন্তু হারিয়ে যায়না। র‍্যালের ইয়েটস মিল পন্ডের কাছে তোলা এই ছবি।
 

তারপর  বসন্ত আসার মুখে সেই শুকনো ডালের প্রান্তে গজিয়ে ওঠে কচি সবুজ পাতা। আর বসন্তের পাখিরাও ফিরে আসে শীতের ছুটি থেকে। (ইয়েটস মিল পন্ড)
 

বসন্ত এসে গেছে – ঘাসফুলরাই বা পিছিয়ে থাকবে কেন তাদের রূপ-প্রদর্শন থেকে?
 

বিভিন্ন লেখার ধারে গেলে দেখা যায় জলের পাখিদের। এই কেন ক্রীক রিজার্ভয়ার আমার সবচেয়ে প্রিয় লেকগুলোর একটা। তবে এই রিজার্ভয়ারের ড্যামের ছবি তুলতে এসছি এই সন্দেহে প্রথমবার এখানের গার্ড আমার ওপর অনেক হম্বি তম্বি করেছিল। পরে অবশ্য বেশ ভাব হয়ে যায় তার সঙ্গে।

 

জর্ডন লেকে সূর্যাস্ত… এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় লেক। সারা বছরই লেগে থাকে সী-গাল আর পানকৌড়িদের ভিড়। এছাড়াও আরো নানান পাখি দেখা যায় লেক সংলগ্ন গাছে গাছে।

 

ডিউক গার্ডেন… নামে বাগান হলে কি হবে, এখানেও দেখতে পাওয়া যায় অনেক আনকমন পাখিদের। এখানের প্রাচীন বাসিন্দা এই গ্রেট ব্লু হেরন টা আমার খুব প্রিয়। পুকুরের ধারে চুপচাপ বসে থাকে মাছের অপেক্ষায়। অসম্ভব ধৈর্য… ডিউক গার্ডেনে যাওয়া হয়নি বেশ কিছুদিন, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যে কোন দিন পৌঁছে গেলেই দেখতে পাব এই টিকিধারী বন্ধু বসে রয়েছে জলের ধারে।

 

 

 

নর্থ ক্যারোলিনার পাখি – শুরুর কথা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments