আগের পর্ব – সোয়ালো  

মাঝের বিরতির জন্য আবার পরপর দুটো পর্ব একসাথে দিচ্ছি। মেঠো পাখি বলে আলাদা করে কিছু হয়না হয়তো, অনেক মেঠো পাখিকেই এর আগে অন্য দলে অন্তর্ভুক্ত করেছি। বাকি যারা থাকে তাদের কথা এখানে বলব।

এই দলের মধ্যে একমাত্র যাকে এ অঞ্চলে শীতকালে দেখা যায় সে হল American Pipit। আমাদের দেশের পিপিট এবং ওয়্যাগটেল (খঞ্জন পাখি) যাঁরা চেনেন, তাঁরা খুব সহজেই চিনতে পারবেন একে দেখেই। একই রকম ধূসর হলুদ চেহারা। চড়াই এর থেকে একটু বড়। খঞ্জন পাখির মতই এদের চলা দেখলে মনে হয় খুব সাবধানে পা টিপে টিপে যাচ্ছে, দারুণ মজাদার এদের হাঁটার কায়দা। বসে থাকলে ক্রমাগত লেজটা ওঠানামা করে। ঘাসের ফাঁক থেকে পোকা ধরে খাওয়ার ওস্তাদ এই আমেরিকান পিপিট।

American Pipit

American Pipit

গ্রীষ্মকালে অল্পদিনের জন্য এ অঞ্চলে "ভিজিট" করে Bobolink রা। কালো মুখ, বুক এবং হলদেটে ঘাড় আর পিঠের সাদা দেখে এদের সহজেই চেনা যায়। আমেরিকায় আর কোনো পাখির বুক পেট কালো আর পিঠের দিকে হাল্কা রঙ দেখা যায়না। এদের মাথা এবং ঘাড় দেখলে মনে হয় হলুদ ঘোমটা দিয়ে আছে। ব্রীডিং সীজনে ছেলে পাখিরা বেশ সুন্দর গান করে।

Bobolink

Eastern Meadowlark হল আরেক মেঠো পাখি যাদের গ্রীষ্মে দেখা যায়। এরাও গলা উঁচু করে গান করে প্রবলভাবে। সাধারণত মাঠের পাশে খুঁটিতে বা টেলিফোনের তারে এদের বসে গান করতে দেখা যায়। মেঠো পাখিদের মধ্যে আমার অন্যতম প্রিয় এই হ্যান্ডসাম ইস্টার্ন মিডোলার্ক। 

Eastern Meadowlark

Blue Grosbeak (male, immature)

Blue Grosbeak (male)


অসাধারণ দেখতে এবং সুগায়ক মেঠো পাখি Blue Grosbeak দের ক্যামেরার কাছে পাওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার, কারণ এরা স্বভাবত বেশ লাজুক। অনেক দূর থেকেই এদের দেখেছি বেশিরভাগ সময়। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এদের ঠোঁট অত্যন্ত পুরু। গায়ের রঙ খুব সুন্দর নীল, আর ডানায় বাদামী ডোরা। মেয়েরা হলদেটে রঙের। গানের আওয়াজ অনেকটা একই রকম রঙের ইন্ডিগো বান্টিং এর মত। সেই ইন্ডিগো বান্টিং এবং অন্যান্য গ্রীষ্মের পাখিদের নিয়ে শিগগিরই ফিরে আসব। আজকের মত এটুকুই…

*** সমস্ত ছবি আমার Canon Powershot S3 IS দিয়ে তোলা।

নর্থ ক্যারোলিনার পাখি (১১) – মেঠো পাখি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments