আগের পর্ব – বাড়ির আশেপাশের পাখি  

মাঝের লম্বা সময় লেখা দিতে পারিনি বলে চটপট পরপর দুটো পর্ব দিচ্ছি। আজকের যাদের কথা বলব তারা হল ফিঞ্চ আর থ্রাশ জাতীয় পাখি। ফিঞ্চ হল এক বিশেষ জাতের পাখি যাদের চেনার সবচেয়ে ভাল উপায় ওদের ঠোঁটের গড়ন। বীজ ভেঙে খাবার জন্য এদের ঠোঁট হয় শক্তিশালী ও পুরু। আকৃতিতে অনেকটা চড়াই এর মত, কিন্তু চড়াই দের থেকে একটু বড়। অন্যদিকে থ্রাশরা হয় অপেক্ষাকৃত ফুলোফুলো, ঠোঁট তুলনায় অনেক সরু। এদের ঠোঁটের আকৃতি অনেকটা ধারালো করে ছোলা পেন্সিলের ডগার মত। বনজঙ্গলের মেঝেতে বেশি ঘুরঘুর করে বেড়ায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য মানুষের কাছাকাছি থাকে দিব্যি।

American Robin

এইরকম একটি মানুষের কাছাকাছি থাকা পাখি হল American Robin। অনেকটা শালিখের মত দেখতে, তবে গায়ের রঙ বাদামী। সব জায়গাতেই দেখা যায় এদের, সারা বছর। গানের গলা সেরকম কিছু ভাল না। মানুষের কাছাকাছি থাকতে আপত্তি না থাকলেও এরা স্টার্লিং এর মত শহুরে পরিবেশে ততটা মানাতে পারেনা, বরং বনজঙ্গলই বেশি প্রিয়। 

American Robin (immature)

এই অঞ্চলের থ্রাশদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে বোধহয় Eastern Bluebird। পুরুষ পাখিদের উজ্জ্বল নীল রঙের পিঠ আর বাদামী পেট। মেয়ে পাখিরাও একই রকম, তবে নীল রঙটা অতটা উজ্জ্বল নয়। ইস্টার্ন ব্লু বার্ডদের দেখতে পাওয়ার সবচেয়ে ভাল জায়গা হল টেলিফোনের তার আর পোস্টের মাথা। এরাও গানের চেয়ে কিচিরমিচিরই বেশি করে।

Eastern Bluebird (male)

Eastern Bluebird (male)

আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়ক Hermit Thrush। এদের দেখতে গেলে একটু জঙ্গুলে জায়গায় যেতে হবে এবং মাটির কাছাকাছি ঝোপঝাড়ে নজর রাখতে হবে। বাদামী পিঠ আর সাদা বুকে ছিট ছিট দাগ। লেজটা বাকি দেহের তুলনায় বেশি লালচে। এমনিতে বেশ লাজুক হলেও গান শুনে এদের সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। চুপ করে থাকা অবস্থায় খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন, কারণ এরা একদম নিশ্চল হয়ে বসে থাকতে পারে দীর্ঘক্ষণ একটুও না নড়ে (হয়তো এর থেকেই হারমিট থ্রাশ নামটা এসেছে)। তার ওপর গায়ের রঙ দেখেই বুঝতে পারছেন নড়াচড়া না করলে শুকনো পাতা আর ঝোপঝাড়ের মধ্যে এদের চোখে পড়া মুশকিল কেন। অনেকটা একই রকম দেখতে Veery, Wood thrush আর Swainson's Thrush। ভিরির গায়ের রঙ আরেকটু লালচে, বুকে ছোপ কম। সোয়েইনসন্স থ্রাশ আবার অপেক্ষাকৃত সবজেটে মেটে রঙের। এরা এই অঞ্চলের পাখি না, মাইগ্রেশনের সময় অল্পদিনের জন্য দেখা যায়।

Hermit Thrush

Hermit Thrush


Veery


Swainson's Thrush


Swainson's Thrush

ফিঞ্চদের মধ্যে সবচেয়ে কমন House Finch, অদ্ভুত সুন্দর লালের বাহার এদের বুকে, মাথায়, পিঠে। অনেকটা একই রকম দেখতে পার্পল ফিঞ্চ, তবে তাদের শীতকাল ছাড়া দেখা পাওয়া যায়না। উভয় প্রজাতির মেয়ে পাখিরাই তুলনায় কম সুন্দর দেখতে। ছাই ছাই রঙের গা, চড়াই এর মত ডিজাইন পালকে।

House Finch (male)
 

House Finch (male)
 

House Finch (female)
 

House Finch (Young)

American Goldfinch অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখতে। উজ্জ্বল হলুদ গায়ের রঙ, কালো ডানা, ছেলে পাখিদের মাথায় থাকে কালো টুপি, মেয়েদের মধ্যে তা অনুপস্থিত। অন্য ফিঞ্চদের মত এরাও বার্ড ফীডারে নিয়মিত আসে। তবে বড্ড ছটফটে। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসতে চায়না। ফলে ছবি তোলা বেশ মুশকিল।

American Goldfinch (male, non-breeding)

American Goldfinch (male, breeding)

অনেকটা মেয়ে গোল্ডফিঞ্চের মত দেখতে Pine Siskin। শীতকালে উত্তর দিক থেকে নেমে আসে এই অঞ্চলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল প্রতি শীতে আসেনা। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে কোনোবার ঝাঁকে ঝাঁকে আসে, তো কোনোবার আদৌ আসেনা। অন্যান্য ফিঞ্চদের তুলনায় ঠোঁট অপেক্ষাকৃত সরু, আর হলুদ রঙ কেবল ডানায় দেখা যায়, বাকি দেহ অপেক্ষাকৃত ম্যাড়ম্যাড়ে। তবে শীতে যেহেতু গোল্ডফিঞ্চদের রঙ ও ম্যাড়ম্যাড়ে থাকে, তাই বুঝতে ভুল হতে পারে।

Pine siskin

Pine siskin

 

আজকের মত এই পর্যন্ত। পরের পর্বে থাকবে চড়াইদের কথা। শিগগিরই ফিরে আসব।

 

*** সমস্ত ছবি আমার Canon Powershot S3 IS দিয়ে তোলা।

পরের পর্ব – চড়াই  

নর্থ ক্যারোলিনার পাখি (২) – ফিঞ্চ আর থ্রাশ
  • 4.50 / 5 5
2 votes, 4.50 avg. rating (87% score)

Comments

comments