আগের পর্ব – ছোট্ট আর সুরেলা  

বহুদিন বিরতির পর আবার ফিরে এলাম পাখির দলকে নিয়ে। এই পর্বের পাখিরাও আকারে ছোট্ট, কিন্তু গানের গলার দিক দিয়ে ওয়ার্বলারদের মত সুগায়ক নয়। প্রথমেই বলা যাক নাটহ্যাচ (Nuthatch) দের কথা। বাদাম ভেঙে খেতে পারে বলে বোধহয় এদের এরকম নাম হয়েছে। ছোট্ট চেহারা, শরীর অনুপাতে বড় মাথা এবং ঠোঁটে অসম্ভব জোর। বীজ ছাড়াও এরা পোকামাকড় খায় প্রচুর। নাটহ্যাচদের চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হল গাছের গা বেয়ে এদের উপর থেকে নীচে নামার কায়দা। মাথা নীচের দিকে করে এরা গাছের গায়ে বসে, তাকাতে হলে মাথাটা তুলে তাকায়। আর গাছের গা থেকে খুঁটে নেয় পোকামাকড়।

White Breasted Nuthatch

White Breasted Nuthatch

নাটহ্যাচরা সাধারণত গাছের কোটরে বাস করে। বেশিরভাগ সময়ই কাঠঠোকরা দের ফেলে যাওয়া বাসা ব্যবহার করতে ভালবাসে এরা। নিজেরা বাসা তৈরির ঝামেলায় সেভাবে যেতে চায়না। এই অঞ্চলে সবচেয়ে কমন হল White-breasted Nuthatch। বাড়ির আসেপাশের ফীডারে প্রায়ই আসে এরা। বুক সাদা, পিঠের দিকটা নীলচে ছাইরঙা, আর মাথায় ঘাড়ে কালো। সারা বছর দেখা যায় এদের। 

Red Breasted Nuthatch

Red-breasted Nuthatch দের দেখা যায় শীতের দিকটায়। শীত শেষ হয়ে বসন্ত আসার আগে এরা দলে দলে ভিড় করে। অনেকটা হোয়াইট ব্রেস্টেডদের মতই চেহারা, তবে বুক পেট লালচে। আকারে আরো ছোটো, একদম পুঁচকে Brown-headed Nuthatch। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এদের মাথার রঙ বাদামী। এই পাখিদের সারা পৃথিবীর মধ্যে দেখা যায় একমাত্র আমেরিকার পূর্বভাগে।

Brown Headed Nuthatch

বসন্ত এলে আরেকটা ছোট্ট চঞ্চল পাখি ঝোপেঝাড়ে দেখা যেতে শুরু করে। পোকাখোর Blue-grey Gnatcatcher দের গায়ের রঙ অনেক ওয়ার্বলারদের সাথে একেবারে মিলে গেলেও এদের অপেক্ষাকৃত লম্বা লেজ আর চোখের চারপাশে স্পষ্ট সাদা রিং এদের চিনতে সাহায্য করে। গেছো শ্যাওলা আর মাকড়সার জাল দিয়ে এরা দিব্যি সুন্দর বাসা তৈরি করে গাছের ওপর।

Blue Grey Gnatcatcher (female)


Blue Grey Gnatcatcher (male)

আরেক পুঁচকে পাখি হল Carolina Chickadee। সারা বছরই থাকে, তবে শীতের শেষে বসন্তের সময়ই সবচেয়ে বেশি দেখি এদের। সাধারণত দলে থাকে, গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে লাফিয়ে বেড়ায় প্রতি মুহূর্তে। এদের গাল সাদা, আর মাথা ও গলায় কালো রঙ। সেই দুই কালো এসে মিশেছে ছোট্ট কালো ঠোঁটে। সব মিলে খুব সুন্দর দেখতে ।

Carolina Chickadee


Carolina Chickadee

হামিং বার্ডদের কথা কে না জানে। ছোট্ট এই পাখিরা গরমকালে বেশি আসে এই মুলুকে। সবচেয়ে কমন হল Ruby-throated Hummingbird। গলায় লাল রঙ থাকলেও সেটা সব অ্যাঙ্গল থেকে লাল লাগেনা, অনেক সময়ই কালো মনে হয়। সারাদিন ধরে ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়ায়। বসলে সাধারণত বসে মগডালে। তাই আমার সাধারণ ক্যামেরায় এদের ছবি তোলা খুব কঠিন। একবার সন্ধ্যে নামার মুখে নীচু ডালে একটা রুবি থ্রোটেডকে পেয়েছিলাম। তার ছবি দেওয়া গেল। তবে অন্ধকার হয়ে আসায় ছবিটা খুবই কালচে এসেছে।

Ruby Throated Hummingbird

গরমের দিকে আসে আরেক জাতের পাখি, ভিরিও। এদের কিন্তু গানের গলা বেশ ভালই। এ অঞ্চলের খুব কমন White-eyed Vireo, Red-eyed Vireo আর অপেক্ষাকৃত আনকমন Philadelphia Vireo এর ছবি দিলাম। ভিরিওদের ছবি তোলা ওয়ার্ব্লারদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সহজ, কারণ এরা গান গাওয়ার সময় এক্কেবারে নড়াচড়া না করে একমনে গেয়ে চলে। কিন্তু রেড আইড ভিরিওরা সাধারণত মগডালে থাকায় তাদেরকে ক্যামেরায় বাগে পাওয়া কঠিন।

White-eyed Vireo


Red-eyed Vireo

Philadelphia Vireo

শীতকালে যদি দেখেন গাছের ডালে বসে আছে খুব ছোট্ট সাইজের কোনো পাখি, বুঝবেন নির্ঘাত সেটা কিংলেট। দু রকম কিংলেট এ অঞ্চলে দেখা যায়, Ruby-crowned Kinglet আর Golden-crowned Kinglet। রুবি ক্রাউনড দের ক্রাউন টকটকে লাল, কিন্তু সেটা বেশিরভাগ সময়ই ঢাকা থাকে। ভাগ্য ভাল থাকলে উত্তেজিত অবস্থায় থাকা পুরুষ রুবি ক্রাউনড কিংলেটদের দেখা মিলতে পারে, তখন এর টকটকে লাল ক্রাউন দেখা যাবে। অন্যদিকে গোল্ডেন ক্রাউনড দের ক্রাউন কিন্তু সারাক্ষণই দেখা যায়। হলুদ ক্রাউনের মাঝে আবার অল্প আগুন রঙেরও আভাস আছে। সেই সঙ্গে আছে কালো ভুরু। দুজনেই ভারি চঞ্চল। রুবি ক্রাউনড দের সারাক্ষণ ডানাটা টুকটুক করে নাড়ানো দেখে এদের সহজেই গোল্ডেন ক্রাউনড এর থেকে আলাদা করা যায়।

Ruby Crowned Kinglet

Golden Crowned Kinglet

অনেক হল ছোটো পাখির কথা। পরের পর্বে ফিরে আসব অপেক্ষাকৃত বড় আকারের পাখিদের নিয়ে।

 

পরের পর্ব – বড় পাখি  

*** সমস্ত ছবি আমার Canon Powershot S3 IS দিয়ে তোলা।

 

নর্থ ক্যারোলিনার পাখি (৬) – ছোট্ট আর চঞ্চল
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments