আগের পর্ব – বড় পাখি  

কালো বলে অচ্ছেদ্দা করবেন না। নর্থ ক্যারোলিনার পাখিদের মধ্যে আমার অন্যতম প্রিয় পাখি কিন্তু এই দলেই পড়ে। আজ বলব এই ব্ল্যাকবার্ডদের কথা। টেকনিকালি ব্ল্যাকবার্ড হলেই সে কুচকুচে কালো হবে এমন কোনো কথা অবশ্য নেই, তবে আমার এই পর্বের পাখিদের পুরুষরা সকলেই কালো। মেয়েরা, কে না জানে, সর্বদাই কম চোখে পড়ার মত হয়।

Common Grackle

এই অঞ্চলে সারা বছর দেখা যায় Common Grackle। বিশেষ আকৃতির তিনকোনা লম্বা লেজ। ছেলেদের গায়ের রঙ কুচকুচে এবং চকচকে কালো। গায়ে রোদ পড়লে কোনো কোনো অ্যাঙ্গল থেকে সেই চকচকে কালোর মধ্যে সব্জে বেগুনি আভাস পাওয়া যায়। মেয়েদের রঙ অপেক্ষাকৃত কম চকচকে কালো কিম্বা বাদামী ঘেঁষা। এরা সাধারণত দল বেঁধে থাকে, ঘাসে মধ্যে থেকে বীজ কিম্বা পোকা খুঁটে খায়। স্বভাবে খুব তিরিক্ষি মেজাজের। অন্য পাখিরা একই জায়গায় এসে ওদের সাথে খাবার ভাগ করে খায়, সেটা একেবারেই নাপসন্দ! গলার আওয়াজও সুমধুর নয়।

Boat Tailed Grackle (male)

Boat Tailed Grackle (female)

অনেকটা একই রকম হলেও Boat Tailed Grackle রা কিন্তু স্বভাবে গায়ক। যদিও এদের গলাও বেশ খারাপ। কিন্তু তাতে কি? ওদের প্রেমিকাদের পছন্দ হলেই হল। এদের দেখতে গেলে যেতে হবে পূর্ব সমুদ্র উপকূলে। সেখানে সর্বত্র দেখতে পাবেন বোট-টেইলড গ্র্যাকলরা গলা উঁচু করে গান ধরেছে। চেহারায় কমন গ্র্যাকলের মতই, তবে আকারে একটু বড় আর লেজটা আরও বাহারী। লেজটা এরা অনেকসময় এমনভাবে ভাঁজ করে রাখে যে নৌকোর মত লাগে। সেখান থেকেই এই নামকরণ। 

Brown Headed Cowbird (male)

Brown Headed Cowbird হল এই অঞ্চলের ব্ল্যাকবার্ডদের মধ্যে সবচেয়ে সুগায়ক। গলার আওয়াজ তীক্ষ্ণ। মাঝে মাঝে গলা দিয়ে অদ্ভুত একটা জলের ওপর জলের ফোঁটা পড়ার মত টপ টপ আওয়াজও করতে পারে। ব্রীডিং সীজনে পুরুষ পাখিরা অবিরাম গান গেয়ে চলে। পুরুষ পাখিদের দেখতেও বেশ সুন্দর, চকচকে কালো গা আর লালচে মাথা। মেয়েদের রঙ ধূসর গোছের। এরা নিজেরা বাসা বানায়না, অন্যের বাসায় ডিম পেড়ে আসে, এবং সেই অন্য পাখির মা বাবার হাতেই ছেড়ে দেয় বাচ্চাদের দেখাশোনার ভার। শুনেছি এরা নাকি গোরুদের পিছন পিছন ঘুরে ঘুরে গোরুদের ঘাস খাওয়ার দরুণ উপরে উঠে আসা পোকাদের খেত, সেই থেকে এদের নাম হয়েছে কাওবার্ড। এখন ফার্ম ছাড়া গরুদের পাওয়া ভার, তাই এই ঘটনা নিজে দেখিনি কখনো।

Brown Headed Cowbird (female)

ব্ল্যাকবার্ডদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে পাখি হল Red Winged Blackbird। সারা গা কালো, আর ডানার ভাঁজে অদ্ভুত সুন্দর হলুদ আর টকটকে লালের ছোঁয়া। সবচেয়ে সুন্দর লাগে যখন এরা উড়ে যায় ওই লালের আভা ছড়িয়ে (সেরকম একটা ছবি দিলাম নীচে)। ডানার ফাঁক থেকে ওই লাল রঙ কতটা বেরিয়ে থাকবে সেটা নির্ভর করে সে কতটা মুডে আছে তার ওপর। যত বেশি উত্তেজিত থাকবে, বা মেয়ে পটানোর ধান্দায় থাকবে, তত বেশি বেশি করে বেরিয়ে থাকবে লাল রঙ। নীচের ছবিগুলোয় তফাতটা দেখতে পাবেন।

Red Winged Blackbird (male)

Red Winged Blackbird (male)

Red Winged Blackbird (male)

তবে এ সবই ছেলে পাখিদের বর্ণনা। মেয়েরা মেটে রঙের, সাদা বুকে খয়েরী ছিটে। ছেলে মেয়ে কেউই দারুণ গান করতে পারেনা, ক্যাঁক ক্যাঁক করে অদ্ভুত একটা আওয়াজ বের করে। এই অঞ্চলে মূলত দেখা যায় গ্রীষ্মকালে। ওটাই ব্রীডিং সীজন। সেই সময় প্রায়ই এদের দেখা যায় গাছের ডালে বসে ওই অদ্ভুত সঙ্গীতসাধনা করতে।

Red Winged Blackbird (male)

Red Winged Blackbird (female)

পরের পর্বে বলব আমার সবচেয়ে প্রিয় পাখিদের কথা। তারা কারা? সেটা নাহয় সাসপেন্সই থাক।

 

পরের পর্ব – কাঠঠোকরা  

*** সমস্ত ছবি আমার Canon Powershot S3 IS দিয়ে তোলা।

নর্থ ক্যারোলিনার পাখি (৮) – কালো তা সে যতই কালো হোক
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments