ঈশ্বরের ন-লক্ষ কোটি নামের মতন আমারও ন-লক্ষ কোটি অ্যাকাউন্ট আর কাছাকাছি সংখ্যার পাসওয়ার্ড আছে, তো কাল সকালে সেরকম একটা গোলমেলে পাসওয়ার্ড খুঁড়ে বের করতে গিয়ে দেখি সিক্রেট কোশ্চেন উত্তর দিতে বলছে, মনে মনে ঘাবড়ে গেলাম, গোপন কথাটি কি রয়েছে গোপনে? তারপর দেখলাম প্রশ্নটা খুব-ই সহজ, ‘তোমার প্রথম পুষ্যির নাম কি?’ … চট করে উত্তর দিলাম, আর দিতে দিতে মনে অনেক অনেক তুলতুলে নরম স্মৃতি ভেসে উঠলো – এই লেখাটা সেই তুলতুলেদের জন্য ! 

… ভজার গল্প …

আমার প্রথম পুষ্যি, একটি মিষ্টি মেনি বেড়াল এবং আমার এক খুব কাছের বন্ধুর ডাকনাম এক-ই, ‘ভজা’ ! ভজা-কে আমার পাশের বাড়ির দুই দাদা কুড়িয়ে এনেছিলো কাক-চিলের ঠোক্কর খাওয়ার হাত থেকে – তখন অতো হুলো-মেনি জ্ঞান হয়নি, ওইটুকু ছোট্ট, চোখ না মেলা, প্রায় মুমুর্ষু ছানাটাকে কিছু একটা ডাকতে হয়, তাই নাম দেওয়া হলো ‘ভজা’ ! দিন কয়েকের মধ্যে দেখা গেলো, রোজ চেলপার্ক কালির ড্রপারে করে ফোঁটা ফোঁটা দুধ খাইয়ে খাইয়ে ভজা অল্প অল্প দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আর ঘর ঝাঁট দেওয়ার সময় এসে লাফিয়ে ফুলঝাড়ুর ফুল-টিকে প্রবল বিক্রমে আক্রমণ করছে ! আমি এদিক ভজার পুরুষকার দেখে একটা হাল্কা গর্ব অনুভব করবো কিনা ভাবছি, একদিন মা বললেন, এটা তো মেনি, ওর নাম ভজা কেনো?

সে প্রশ্নের উত্তর আর হয়নি, আসলে সেই অপাপবিদ্ধ বয়সে অতো হুলো-মেনি বুঝতাম না ! বোঝার পর কিছু সাঙ্ঘাতিক নাম ভেবেছিলাম, বিন্ধ্যবাসিনী কিম্বা কুসুমকুমারী … কিন্তু ভজা, ভজা-ই রয়ে গেলো ! আমাদের বাড়িতে চিরকাল-ই প্রচুর বেড়াল, যেকোনো সময়ে অন্ধকার কোণে বা বেঞ্চির তলায় হাত ঢোকালেই তা দিব্যি টের পাওয়া যায় ! তবে ওই মধ্যযুগের বাংলার মতন, মাৎস্যন্যায় চলছিলো – ভজা এসে অচিরেই ঝগড়া-ঝাঁটি-হুলুস্থুলু করে নিজের রাজপাট স্থাপন করে বসলো।

তিনি ঘুমোতেন আমার খাটে, ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে সোজা চলে যেতেন বাবার চেম্বারের একটা সিংহাসন দখল করতে, যতক্ষণ না অনেক পেশেন্ট এসে তাকে গদিচ্যুত করছে – সেখান থেকে মায়ের রান্নাঘরে খানিক ম্যাওম্যাও করে, অল্প আদর ও ব্রেকফাস্ট খেয়ে আবার ঘুম-লাঞ্চ-ঘুম-ডিনার-ঘুম আর রাত্রে অল্প এদিক-ওদিক ঘুরে ইন্টুমিন্টু !

এখানে বলে রাখি, বেড়ালদের সমাজ বড়োই প্রগতিশীল, তেনারা মুক্ত সম্পর্ক, এবং ততোধিক মুক্ত যৌনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু আনুগত্যও জানে ! আমাদের মধ্যবিত্ত মোনোগ্যামিস্ট সমাজে থেকেও সেটা যে পালটায়নি, এজন্য তাদের বিশেষ সাধুবাদ প্রাপ্য …

যা হোক, কয়েক বছর পরের কথা, একদিন সকালে ঘুম ভাঙলো মায়ের ফোনে, শুনলাম ভজার নাকি ছোট্ট-ছোট্ট কয়েকটা ছানা হয়েছে ! আমি হোস্টেল ঘুরে যাকেই বলছি, ভজার বাচ্চা হয়েছে, সেই দেখি কিঞ্চিৎ সন্দেহের চোখে তাকায়, তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেটে পড়ে … শেষমেশ এক জুনিয়র বললো, যাই তাহলে একটা ট্রিট চেয়ে আসি গে, বুঝলাম ‘নেমসেক’ হওয়ার বিড়ম্বনা একা গোগোল-ই ভোগ করেনি …

ভজা আর নেই, অনেকদিন আগে বেড়ালদের স্বর্গে চলে গেছে (অবিশ্যি মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণীর নরক হয় বলে আমি বিশ্বাস করিনা) … তবে ভজার বংশধরদের এখনো দেখতে পাবেন আমাদের একশো আটাত্তর নম্বরে গেলে ! তবে তাদের নামগুলো অনেক ভেবেচিন্তে রাখা, ন্যাড়া এবং বেলতলা আর কি? ভজার ছেলের নাম ছিলো চ্যাটকা, আমাদের আদরে সে বেশ সুন্দর বড়োসড়ো হয়েছিলো – চ্যাটকার সাইজ দেখলে ছোটো বাচ্চারা অনেক সময় জিগ্যেস করতো ও-কি সত্যি বিড়াল? চ্যাটকার টিন-এজ পেরোতে না পেরোতেই এক গার্লফ্রেণ্ড হয়, সে-ও চ্যাটকার সাথে এসে আমাদের বাড়িতেই আশ্রয় নেয়, তার নাম বান্ধবী … চ্যাটকা-বান্ধবী সুখী দম্পতির মতো থাকতো -  তাদের যথাসময়ে দুই ছেলে হয়, হলদিরাম এবং জয়পতাকা ! হলদিরামের নাম ব্যাখ্যা করার দরকার নেই, জয়পতাকার নাম তার চির-উন্নত নেজটিকে দেখেই রাখা হয়েছিলো …

হলদিরাম ও জয়পতাকা 

এখন তারাও অনেক বড়ো, তাদের-ও ছানারা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আমাদের উঠোনে, কলতলায়, রান্নাঘরে, তবে দুঃখের কথা তাদের নাম রাখার লোক আর সে বাড়িতে নেই …

… ঘঞ্চুর গল্প …

আমি তখন আই-এস-আইতে পড়ি, সম্ভবতঃ ফাইনাল ইয়ার, একদিন বাবুদার দোকানে চা খেতে গিয়ে দেখি একটা অতিছোটো বেড়াল জিএলটি রোডের ধারে কুঁকড়ে শুয়ে আছে, কাকেরা গোল করে ঘিরে ধরে আছে তাকে … দেখে ভারি মায়া হলো, লক্ষ্মণদার দোকান থেকে একটা বড়োসড়ো পেপ্সির ক্রেট নিয়ে তাতে ছানাকে পুরে হোস্টেলের ঘরে নিয়ে এলাম, সঙ্গে সঙ্গে জুটে গেলো একদল জুনিয়র, অনীশ, জেজেয়ার … মুহুর্তের মধ্যে দুধ, মিল্ক পাউডার, ড্রপার নিয়ে সবাই যারপরনাই চেষ্টা করতে লাগলো তাকে কোনোরকমে শ্রুশুষা করে বাঁচাতে  …

কিন্তু ভবি ভোলবার নয়, সে বেল্লিছানা এক-পা এক-পা হেঁটে দুধের বাটির কাছে যায়, গন্ধ শোঁকে আর পালায় … জেজে বললো এক গামলা দুধে একটা ফোঁটা হুইস্কি ফেলতে, পোষা হলেই কি আর হেরিডিটি বলে কিছু নেই? আমিও অবাক হয়ে দেখলাম, সেই খুদে বেড়াল একটা ফোঁটার ম্যাজিকে এক গামলা মুহুর্তে নিঃশেষ করে ফেললে … আমার নতুন ছানার নাম রাখলাম ঘঞ্চু !

ঘঞ্চু ও আমি 

ঘঞ্চুর অ্যাক্রোব্যাটিক্স 

যারা পশুপাখি পুষেছেন, তাঁরা জানেন পশুপ্রেমিক থেকে প্রেমিক হওয়ার রাস্তাটি একটি আশ্চর্য শর্টকাট – কাজেই অচিরেই ঘঞ্চু গোটা হোস্টেলের মোস্ট ওয়ান্টেড সেলিব্রিটি হয়ে গেলো ! এমন সব লোকজন যাঁদের সাথে গত চার বছরে কথা হয়নি, আগামি চল্লিশেও হওয়ার আশঙ্কা নেই, যাঁরা জীবনের ওই কয়েকটি বসন্তমাস ছাড়া কোনোদিন জান্তব ভালোবাসায় উদ্বেল হননি – তারাঁও, বা বলা ভালো তাঁরাই, অজ্ঞাত* এক টানে আমার ঘরে এসে ঘাঁটি গাড়লেন … আর আমি প্রাণ হাতে করে ঘাঁটি গাড়লাম  তাপসদার চায়ের দোকানে !

সেই এক সময় ছিলো বটে, সকালবেলা ক্লাসে যাওয়ার আগে আমন্ত্রণ নামে বনহুগলীর পাইস হোটেল থেকে বাবলুদা দিতো দু-পিস হাফ-ভাজা ভালো মাছের টুকরো, ঘঞ্চুর লাঞ্চ-ডিনারের জন্য … এক জুনিয়র ছিলো প্রিয়ম, সে বাড়ি থেকে একদিন নিয়ে এলো এক বড়ো বয়াম ভর্তি কেক-বিস্কুটের টুকরো ! আর একটা স্পঞ্জের খেলনা বেড়াল, ঘঞ্চুর গুহায় রাখার জন্য !!

ঘঞ্চু আর নেই, কেন নেই সে-ও এক যন্ত্রণার গল্প, যা করার ক্ষমতা নেই … তবে ওর স্মৃতিটুকু রয়ে গেছে, এই দু-একটা ছবি, সেই স্পঞ্জের খেলনা, আমার পুরনো ডায়রির ছেঁড়া স্পঞ্জের কভারের মধ্যে …

আর যা রয়ে গেছে তার নাম বন্ধুতা !

ঘঞ্চুর অল্প বয়সে রাস্তায় কিছুদিন কাটিয়ে অনেক অনেক কৃমি হয়েছিলো ! প্রত্যেক সপ্তাহে ওকে একটা কাঁথায় জড়িয়ে ছুটতাম সিঁথির মোড়ের কাছে এক ভেটেরিনারি ডাক্তারের চেম্বারে … একটা দিন, অপারেশানের তখনও দেরি … হঠাৎ একদিন সন্ধ্যে থেকে ঘঞ্চুর একের পর এক ফিট হতে আরম্ভ হলো, দেখলাম চোখের সামনে নেতিয়ে পড়লো আমার হাতের উপর, যেন আর্ধেক ঘুম, আর্ধেক জাগা অবস্থায় ঘঞ্চু প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে একফোঁটা জীবনীশক্তি দিয়ে … সেই সারা-রাত ঘুমোইনি আমি, খাটের পাশে বসেছিলাম এই বিশ্বাসে যে আমার চোখের সামনে কিছুতেই চলে যাবে না …

ভোর-রাত্রে যখন চোখ লেগে এসেছে, হঠাৎ শুনি দরজায় কড়া নাড়া, আমার বন্ধু শ্রীরামপুর থেকে সেই ভোরে যখন বাস চলে না, নৌকো ছাড়ে না … সাইকেল নিয়ে এসেছে ঘঞ্চুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবে বলে !

একটু, একটু করে ওষুধ দিয়ে, একটা অপারেশানের পর সেযাত্রা ঘঞ্চু বেঁচে যায় – আর ২০০৮ সালে আমাদের  গোটা ব্যাচের সাথে একটা বেড়াল-ও রীতিমত হাতে-বানানো উপহার আর কার্ড-শুদ্ধু ফেয়ার-ওয়েল পায়, আই-এস-আই-এর ইতিহাসে না-মানুষের আলতো আঁচড় বোধকরি সেই প্রথম !

.. মেচকুবাবুর গল্প  .. 

আমি যখন বেশ ছোটো ছিলাম, একদিন বাবাকে অফিস থেকে ফেরার সময় ঠিক বাড়ির সামনের গলিতে একটা কুকুর কামড়ে দেয় ! সেটা দেখে কিনা ঠিক জানিনা, তবে সেই থেকে আমার কুকুর দেখলেই প্রচন্ড ভয় করতো, মানে হাত-পা পেটের মধ্যে সেঁধিয়ে যাওয়া ভয় ! ভালোবাসতাম কিন্তু তাও ভয় – প্রসঙ্গতঃ বলি, যাঁরা বলেন ভালোবাসা আর ভয় ডিসজয়েন্ট সেট, তাঁরা হয় সেট থিয়োরি জানেন না নইলে প্রেমে পড়েননি ঠিক করে !

যা হোক, অনেক অনেক বড়ো বয়েস অব্দি মা নয় বাবা কাউকে বলতাম  আমাকে গলির মুখটা অব্দি এগিয়ে দিয়ে আসতে ! অনেকদিন বাড়ি ফেরার সময় দেখতাম গলির মুখটায় কুকুর-দম্পতি ভাব-ভালোবাসা করছেন – সেদিন সাত পাড়া ঘুরে পেছনের এঁদো গলি টপকে বাড়ি দিরতাম যাতে ওদের কু-নজরে না পড়ি ! একবার মনে আছে তাঁদের একজনের তাড়া খেয়ে মুড়ি-চানাচুর-তেলেভাজা সব রাস্তায় ফেলে এইসান দৌড় দিয়েছিলাম যে পরের ক’দিন সেই খেয়ে পাড়ার নেড়িদের চেহারা ভালো হয়ে গেছিলো ! আমেরিকা এসে দেখলাম যাক আর যাই হোক, রাস্তায় নেড়ি তাড়া করার ভয় নেই, গলির মুখে গুলি খেলেও খেতে পারি কিন্তু কুকুরের কামড় নয় !

কিন্তু বিধি বাম, যে দিদির বাড়ি সু্যোগ পেলেই ছুটে যাই, তাঁর পুষ্যি এক এইয়া চকোলেট ল্যাব – সে বেচারি ভালোবাসার কাঙাল, কাউকে দেখলেই ভাবে এই তো আরেকটা মানুষ, অর্থাৎ আরেকটু আদর – আর বেচারা ভিতুর ডিম আমার জায়গা হয় ব্যাল্কনির ওপারে, কাঁচের আড়ালে !

ঠিক এই সময় আমাদের জীবনে একদিন এসে থ্যাপ পরে বসে পড়লো মেচকু, রাজা ম্যাক্সওয়েল চৌধুরী !

পার্ডুতে পড়ি দুজনেই তখন – একদিন আমার গিন্নি কাছের এক শেল্টার থেকে ফিরে বললেন, একটা খুব জাম্পি ডগি দেখে এসেছি, চল কাল আবার যাই … আবার গেলাম, খুব ভয়ে আছি, একজন ভলান্টিয়ার এসে হাতে একটা লিশ দিয়ে বললেন, নাও হাঁটাও … হাঁটতে শুরু করতেই বুঝলাম, এইটুকু ছোট্ট একটা ছানাকে ভয় পাওয়া অসম্ভব, আর তার থেকেও বড়ো কথা, বেচারা আমার থেকেও ভীতু, আর আমার অকারণ ভয়ের থেকেও অনেক অনেক বড়ো ভয় সে রোজ দেখে, শেল্টারের ছোট্ট খাঁচায় ! সেদিন হাঁটা শেষ করে সেই ছানাটিকে আর ফেরত দিতে পারিনি, দিলে দুঃখে সেদিন-ই মারা যেতাম … ২০১২-র পয়লা সেপ্টেম্বর আমাদের সাথে হইহই করে চলে এলো ম্যাক্স !

খতর-নাক?

ম্যাক্সের নাম ম্যাক্স-ই ছিলো, আর কিছুই জানিনা আমরা – কে ওকে কোথায় ফেলে পালিয়ে গেছিলো, কত-ই বা বয়েস, কাদের সাথে বড়ো হয়েছে, কিছুই না ! তাতে অবশ্য কি-ই বা যায় আসে? ম্যাক্স এখন পুরোপুরি বাঙালি একটি লেদু কুকুর ! সকালে হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বাইরে অল্প হাঁটে, বাড়ি ফিরে সোফায় বসে সারাদিন বাইরে দেখে আর বিভিন্ন সুরে রাগ-রাগিনী গায় ! আর মাঝে মাঝে এসে ঝাঁপিয়ে উঠে পড়ে কোলে, তার আদর চাই যখন, বাকি পৃথিবী অল্প হল্ট করে দাঁড়িয়ে যায় …

সূর্য তাকেই দেখতে চায় 

আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন

এই লেখা যখন লিখছি, ম্যাক্স আমার পাশে সোফায় গোল হয়ে শুয়ে নাক ডাকাচ্ছে … এখন থ্যাঙ্কসগিভিং-এর ছুটি, আমরাও সারাদিন বাড়ি, আজ খুব আনন্দ !

পাঁচ-বছর হয়ে গেলো, এখনও যখন সকালে অফিস যাই, কোথাও একটা একটু কষ্ট হয় বাড়িতে রেখে যেতে, আর যখন-ই ফিরি, সে পাঁচ মিনিট হোক বা পাঁচ ঘন্টা, দৌড়ে এসে লাফায় যখন, সত্যি মনে হয় আমরা মানুষরা, কুকুরদের ডিজার্ভ-ই করি না, এই স্বার্থশূন্য ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা আমাদের নেই …

মেচকুবাবুর মানুষ বন্ধু অজস্র, আমাদের সব বন্ধু-বান্ধব-জুনিয়র এমনকি আত্মীয়রাও, সে গুনে শেষ করা যায় না এমন ! আর আমি-ই প্রথম হলেও, আমি-ই শেষ ব্যাক্তি নই যে মেচকুর প্রেমে পড়ে কুকুরের ভয় কাটিয়েছে, সে লিস্টিও বেশ লম্বা !

তবে ওর কুকুর বন্ধু মাত্র একটা কি দুটোই ! স্বজাতিদের একটুও সহ্য করতে পারে না ম্যাক্স – তাদের সাথে আলাপ করার থেকে তাদের খেয়ে ডিনার করার ইচ্ছেই কিঞ্চিৎ অধিক মনে হয় আমাদের ! ওর একমাত্র বন্ধু, মাটলি-ও এখন অনেক দূরে থাকে, বচ্ছরে একবার কি দুবার বড়োজোর দেখা হয় – সে আরেক ভারী মিষ্টি কুকুর ! তাঁর জীবনের ফিলোসফি মেচকুর ঠিক উলটো, কুকুর-মানুষ-বাচ্চা মানুষ সবাইকেই সে ভালোবাসা বিলিয়ে বেড়ায় !মাটলি মানুষ হলে বৈষ্ণব হতো, মেচকু শুধুই স্নব !

এই পারে আমি আর ওই পারে তুমি

মন দিলো না বঁধু 

একসময় এই নিয়ে ভারী বিব্রত থাকতাম, তারপর একদিন নিজেদের-ই মনে হলো, যা করছে বেশ করছে ! আমার চারপাশে যদি এই সামাজিক ভদ্রতার মশারিটা না টাঙ্গানো থাকতো, আমি-ই যে কত লোককে আঁচড়ে-কামড়ে-চোদ্দ-গুষ্টি-উদ্ধার-করে দিয়ে আসতাম, তার কি কোনো ঠিক আছে?

না-মানুষী ছানাপোনা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments