আমি চার বছর বয়সে স্কুলে ভরতি হয়েছিলাম; তার আগে জীবনে ঠিক কি কি শিখেছিলাম, এসব সম্বন্ধে নিজের সত্যি কোন ধারণা নেই, তবে আমার মনে থাকুক, বা না থাকুক, কিছু তো নিশ্চয়ই শিখেছিলাম, নাহলে এখনো অবধি দৌড়ে টিকে আছি কি করে; আজকাল তো কিসব গবেষণা টবেষনা হয়েছে দেখছি, যে শিশুর যাবতীয় ব্রেনের বিকাশ নাকি চার বছরের মধ্যেই হয়।
তা যেহেতু আমার নিজের ব্রেনের উপর তেমন কোন ভরসা নেই, তাই ে সব গবেষণা এবং হেলথ ড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপন কে ধ্রুব সত্যি মেনে নিয়েছি, এবং আমার আড়াই বছরের ছানাটিকে দিয়েছি ‘প্লে-স্কুল’ ে ঠুসে। আমার ছোটবেলার স্মৃতিতে পড়াশুনার কথা মনে না থাকলেও , খেলতে যাওয়ার স্মৃতি অনেক কিছু আছে। আমি আর দিদি, পাশের বাড়ির মৌসুমি, পুতু আর সামনে গলির দোয়েল এর সাথে খেলতে যজেতাম।মন্দিরতলা মাঠেও খেলতে যেতাম, সানি, রনি, খুকুমনি, মৌ, দেবাশিস, শ্রীময়ী দি, খেলতে আস্ত, মৌয়ের পিসি আমাদের খেলাত।
আর একটু বড় বয়সে মানিদের মামারবাড়ির সামনের মাঠে খেলতে যেতাম, মানি, টুয়া, মুন্টিল– এসব বন্ধু ছিল। এসব স্মৃতিচারণের কারণ হচ্ছে আমার বাপ-মায়ের সাথে আমার নিজের তুলনা টানা। আমি যে সব জায়গায় খেলতে যেতাম, সেগুলো সব ফ্রি ছিল, মানে খেলার মাধ্যমে একমাত্র কন্যের ‘মিড ব্রেন’ (মধ্য মেধা??) এর উন্নতি ঘটাতে আমার বাবা মায়ের বিশেষ খরচা-পাতি হয়নি আর কি!।
দু-একবার খেলে ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে যাওয়াতে, মায়ের বকুনি টকুনি, কান্ মলা খেয়েছি, সেও মনে আছে বেশ (আমার মা মনে হয় আসলেই জানত না, যে খেলতে গেলে মেয়ের মাথা খুলবে)
যাকগে, সেই বাবা মায়ের মেয়ে হয়ে আমি এটা জেনে ফেলেছি, যে খেলাধুলো করলে আমার ছানার মেধা উন্নত হবে, তাই গাঁটের কড়ি খরচ করে, আমি তাকে প্লায়-স্কুল পাঠাই খেলা করতে!! ে পর্যন্ত ঠিক-ই ছিল, তবে কিনা পয়সা খরচ করি বলে, স্কুলের ধারণা, শুধু মাত্র খেলিয়ে বাড়ি পাথিয়ে দিলে আমি এবং আমার মত অন্যান্য বাবা-মায়েরা বেজার হব, তাই তারা খেলার মাঝে একটু একটু পড়তেও বসান আর কি। পড়া মানে আর কিছু নয়, বাড়িতে লোকজন থাকলে যেগুলো শিখে নিত, সেই সব গুলোই ওখানে সেখানো হয়।
তো এখন তাদের বিষয় চলছে, ইন্ডিপেন্ডেন্স দে, ফ্রেন্ডশিপ ডে, রাখী বন্ধন এবং জন্মাষ্টমী। শিক্ষিকা প্রবল উতসাহে জন্মাষ্টমীর মহিমা কীরতন করছিলেন, আমার বকম বাগীশ পুত্র পূরো কাহিনী শুনে উঠতে পারেননি ( “কেমন শকুন্তলাবন্য দেখ”, মাতার নাম করনগোচর হওয়াতে সেই বালক দুশমন্তের গল্পের মত) , নাম মাহাত্মেই লাফিয়ে উঠে নিজের পেট দেখিয়ে, শিক্ষিকাকে প্রশ্ন করেছেন “জিষ্ণুর টামি মে ক্যা হুয়া?” । জিষ্ণু তার ডাকনাম, কাজেই শিক্ষিকা ‘জিষ্ণুর টামি’ ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারেননি। পরে একদিন আমি স্কুল থেকে আনার সময় তাকে জিষ্ণু বলে ডাকাতে শিক্ষিকার বোধগম্য হয়েছে, এবং তিনি আমাকে পূরো কাহিনী টি শুনিয়েছেন।
ব্রেন ডেভেলপমেন্ট -এর এমন প্রমাণ পেয়ে আমি চমৎকৃত, তাই আপনাদের সাথেও ভাগ করে নিলাম!!

নিউট্রনের ব্রেন ডেভেলপমেন্ট…
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments