ইদানিং আমার সংসারে একটা ফিউসন ঘটে গেছে, প্রোটনবাবু অফিসের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে, আমাদের সংসারের কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে পড়েছেন। আর ইলেক্ট্রন/নিউট্রন ের জীবনেও বেশ কতগুলো সমস্যা তৈরি হয়েছে। যেমন শনিবারদিন মায়ের অফিস খোলা থাকে আর নিউট্রনের ডে-কেয়ার বন্ধ, তাই কোন উপায়ন্তর না দেখে গত শনিবার, মা নিউট্রনকে কাঁখে করে অফিস নিয়ে যেতে বাধ হয়েছিল। নিউট্রনের অবশ্য ভারি মজা হয়েছে, মায়ের অফিস গিয়ে! কত নতুন নতুন জিনিস চারপাশে! আর মায়ের হয়েছে তেমন সমস্যা। কোনটা যে লুকোবে, আর কোনটা হাত দিতে দেবে, সে ব্যপারে প্রচন্ড দিশাহারা। তো হঠাতি একটা ড্রয়ার খুলে নিউট্রনের হাতে উঠে এলো মায়ের গোটা তিনেক পাসপোর্ট ফটো! তা দেখে তার আনন্দ বাঁধ মানে না, মায়ের কাছে এসে প্রবল ঘাড় নেড়ে জানাল “মা দ্যাখো না, ওইখানে কত কত মা!”। মায়ের আবার সুযোগ পেলেই একটু পড়ানোর জন্য প্রাণটা আকুলিবিকুলি করে!, মা বলল “কটা মা, কাউন্ট কর!”। নিউট্রন গুনতে থাকে “১, ২ ৩, ৪ টা মা”। মা আনন্দে ছেলেকে জড়িয়ে গোটা কতক হামি দিয়ে বলল “এবার মাকে হামি দে”। কিন্তু ছেলে আবার স্বাধীনচেতা, তার ইচ্ছে-অনিচ্ছে ব্যাপারটা সত্যি প্রবল। সে রক্ত মাংসের মাকে ছেড়ে পাসপোর্টছবিকে হামি দিতে উদ্যত। বলা বাহুল্য, ব্যাপারটা মায়ের বিশেষ পছন্দ হল না, বলল, “ওই মাটাকে হামি দিচ্ছিস কেন?” । ছেলেঃ “ঐ মাটা ভালো”। মাঃ কিন্তু তোকে কি ঐ মাটা হামি দিতে পারে?। ছেলেঃ নাক কুঁচকে দু মিনিট চিন্তা করল, আর তারপর মায়ের গলা জড়িয়ে হামি দিয়ে বলল “এই মাটা ভালো, হামি দিয়েছে”। ছেলেকে দেওয়ানেওয়ার সম্পর্ক বুঝিয়ে উঠতে পেরে মাও খুব খুশি, কিম্বা হয়ত মনের কোণে একটু অখুশিও; আমার ছেলেটাও তাহলে সব কিছুর দাম বুঝে নিতে শিখে গেছে, চোখের সামনে বড় হয়ে যাচ্ছে ছেলেটা!!

নিউট্রন, মা এবং গিভ অ্যান্ড টেক শিক্ষা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments