এক
সব সম্পর্ক স্বার্থ দ্বারা জারিত । সম্পর্ক –জাল । ইচ্ছে আর প্রত্যাশা তো এক না।সম্পর্ক জালের কোনো এক বিন্দুতে তো ইচ্ছে আর প্রত্যাশা এক হয়ে গেছে ।বোঝা মুশকিল কোনটা ইচ্ছে —নাকি প্রত্যাশাই ইচ্ছে ।
দুই
আর বস্তা দৌড় হবে না । হাট কবিতা মুখস্ত করতে হবে না । ভোরবেলা ফুল চুরি করতে হবে না ।কানামাছি খেলতে হবে না ।রথের মেলা থেকে লটকন কিনে আনতে হবে না । প্রতিদিন সন্ধায় নিয়ম করে হ্যারিকেনের চিমনি মুছতে হবে না । অনেক –অনেককিছুই আর করতে হবে না । এটাই নিয়ম। স্বাভাবিক। তা না হলে তো বার্ষিক গতি মিথ্যা । ভূগোলের বই গুলি মিথ্যা । লিপ ইয়ার একটা গুজব ।
তিন
কিন্তু বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যে বেলা —হারিয়ে যায় নি তো এখনো । বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যের গন্ধ —কেমন আছে সে ? সেদিন ও সন্ধে । বৃষ্টি ছিল না । ঘরের ভেতরে যন্ত্রের সৌজন্যে তাপমাত্রা খুব কম। রুম ফ্রেশনারের গন্ধ । ঘরের সবার মুখ কেমন থম থমে । শীতল । ঘরের ঠাণ্ডাও মনে হয় শীতল মুখগুলি থেকে উষ্ণ । পেণ্টের পকেটে মোবাইল অনবরত কেঁপে উঠছে । প্লিজ কিপ ইওর মোবাইল সুইচড অফ । লোকটার ইছেও করছে না মোবাইল দেখতে । বাতানুকূল এই ঘরে তো ঘেমে যাওয়ার কথা না । তবুও কী লোকটা ঘামছে ? ঘরের সবাইকে জরিপ করে নেওয়া হয়েছে । বেশ কয়েকবার । কেউ কথা বলছে না । বললেও ফিস ফিস । সবাই কী কাউন্টডাউন শুরু হবে কিনা জানতে এসেছে। লোকটাও কী অনুষ্ঠানিক ভাবে কিছুক্ষন পরে তাই শুনবে । পাশে বসা ছোট্ট মেয়েটা মার কানে কানে কিছু বলল । মহিলা উঠে গেলেন মেয়েকে কোলে নিয়ে । মেয়েটার বাবাই বোধ হয় —কোথায় তাকিয়ে আছে বোঝা যাচ্ছে না । শূন্য দৃষ্টি । কিছু জিজ্ঞেস করা কী ঠিক হবে । কী হয়েছে ওই ছোট্ট পরীর । মিস্টার ……সুরেলা মহিলা কণ্ঠ । হাত তুলবে লোকটি । নাকি বলবে ইয়েস ম্যাম । সবাই না হয় একটু হাসল । ক্ষতি কী । ‘প্লিজ কাম’ । অনেকক্ষণ সময় কেটে গেছে । বার্ডস আই ভিউ সবসময় সুন্দর হয় । রাতের দিল্লী শহর । এগার তলা কেবিন থেকে। বাতি জ্বলছে । নিভছে । দৌড়ে যাচ্ছে গাড়ি । শুধু দেওয়াল ঘড়ির টিক টিক । জীবন চলছে। গতি বিভিন্ন । কিন্তু সবাই কাউন্টডাউনের পথিক। কোনোটা নির্দিষ্ট হয়ে গেছে । নির্দিষ্টতা হবার অপেক্ষায় অনেকেই ।

নিমন্ত্রণ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments