উঠোন-কোণে কড়াই ছিল,

পায়েস ছিল তাতে,

তাই নিয়ে কাক লড়াই করে

কুঁকড়ো বুড়োর সাথে,

যুদ্ধ জিতে বড়াই ভারি,

তখন দেখে চেয়ে-

কখন এসে চড়াই পাখি,

পায়েস গেছে খেয়ে।

(ছিটেফোঁটা, সুকুমার রায়, সুকুমার সাহিত্যসমগ্র, জন্মশতবার্ষিকী সংস্করণ, প্রথম খন্ড, দ্বিতীয় মুদ্রণ-ডিসেম্বর ১৯৯৫, পৃষ্ঠা–২৩৪, সম্পাদক-সত্যজিৎ রায় ও পার্থ বসু, প্রকাশক-আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড)

এই পর্যন্ত ছড়াটি সবাই পড়েছেন। সুকুমার রায় এইটুকুই লিখেছেন। আপাতভাবে এটিকে একটি ছেলে ভুলানো ছড়া বলে মনে হলেও সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি সুকুমার রায় একটি সত্য ঘটনাকেই ছড়ার রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর কি কিছু ঘটেছিল না কি কিছুই ঘটেনি? ঘটেছিল। আজকের দিনের মত সেই সময়েও বৈদ্যুতিন গণমাধ্যম ছিল। এই রকম একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যমের নাম ছিল ‘ঘরোয়া খবর’। ঘটনার দিন প্রচারিত তাঁদের দুষ্প্রাপ্য একটি অনুষ্ঠানের একটি অংশ কিছুদিন আগে আমাদের হাতে এসে পৌঁছয়। অনুষ্ঠানটি দুটি ভাগে প্রচারিত হয়। একটি বিরতির আগে অন্যটি বিরতির পরে। বহুদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে ভিডিও অংশটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। দুটি অংশের মধ্যে প্রথমাংশটিকে উদ্ধার করে তুলে দিতে পারলাম। শোনাতে পারলাম না বলে লিখে দিলাম। যদি সুদূর ভবিষ্যতে আমরা ভিডিও অংশটি সংস্কার করতে পারি তবে সেটিও আপনাদের হাতে তুলে দেওয়ার আন্তরিক ইচ্ছে রইল।

সংবাদপাঠিকা – নমস্কার। আমি সপা। ঘরোয়া খবর-এ আপনাদের স্বাগত। আমরা চোখ রাখব এই মুহূর্তের সবথেকে বড় খবরে। সরাসরি চলে যাব উঠোনকোণে যেখানে রয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি প্র। প্র, তুমি আমাদের দর্শকদের একবার জানাও যে আজ উঠোনকোণে ঠিক কি কি ঘটেছে।

প্র – সপা, দেখো উঠোনকোণে কয়েকদিন ধরেই এক কড়াই পায়েসের দখলদারি নিয়ে কাক এবং কুঁকড়ো বুড়োর মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। গতকাল বিকেল বেলায় প্রশাসনের তরফ থেকে এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ঠিক হয় যে আজ সকালে কাক এবং কুঁকড়ো বুড়োর মধ্যে লড়াই হবে, যে জিতবে পায়েসের হকদার সে-ই হবে।

সপা – একটা কথা তুমি বল প্র, পায়েসের হকদার কে হবে তা নিয়ে প্রশাসনকে কেন এতটা সক্রিয় হতে হল

প্র – তুমি ঠিক প্রশ্ন করেছ। কিন্তু এখানে দুটো ব্যাপার আছে। এক, পায়েস নিয়ে এলাকা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল আর দু্‌ খুব বেশিদিন পায়েস এইভাবে পড়ে থাকলে সেটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। সেক্ষেত্রে প্রশাসনকে এক নানারকম সাংবিধানিক সংকটের মুখোমুখি হতে হত। এই কারনেই গতকাল তারা ওই বৈঠকের আয়োজন করে।

সপা – এই নানারকম সংকট কি সেটা যদি একটু পরিষ্কার করে বল

প্র – সংকটের মধ্যে প্রথমেই যেটা আছে তা হল যে পায়েসের টাকা ঋণ হিসেবে নিতে হয়, অর্থাৎ পায়েস খারাপ হওয়া মানে আসলে ধারের টাকা নষ্ট, কিন্তু সুদ গুনতে হত শুধু নয়, ক্রেডিট রেটিং-ও খারাপ হত। তাছাড়া পরবর্তী বাজেটে হয়ত পায়েসের জন্য বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যেত। এছাড়াও অন্য অনেকরকম জটিলতার সৃষ্টি হত। সে কারনেই প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। যাই হোক, নির্ধারিত সূচী মেনে আজ লড়াইয়ের আয়োজন হয় এবং তাতে কাক জিতে যায়। জেতার পর কাক সমর্থকদের নিয়ে যখন পায়েস খেতে যায় তখন জানা যায় যে ইতিমধ্যেই চড়াই পাখি এসে পায়েস খেয়ে গেছে।

সপা – চড়াই যে পায়েস খেয়েছে সেটা কি করে বোঝা গেল?

প্র – খালি কড়াইয়ের পাশে একটা চিরকুট পাওয়া যায় যাতে লেখা আছে ‘আমি পায়েস খেলাম – ইতি চড়াই’

সপা – সেটা যে চড়াই লিখেছে তার কোনও নিশ্চিত প্রমান পাওয়া গেছে কি?

প্র – দ্যাখ সপা, প্রশাসন সরকারি ভাবে বিষয়টা নিয়ে মুখ না খুললেও উঠোনকোণ বিশেষজ্ঞদের কিন্তু ধারণা ঘটনাটা চড়াই-ই ঘটিয়েছে। কারন দীর্ঘদিন ধরে চড়াইয়ের পায়েসের ওপর লোভ ছিল। এই অঞ্চলে অনেকদিন যাবৎ কুঁকড়ো বুড়ো একাই পায়েস খেতো কিন্তু বহুদিন পর এইবারই প্রথম কাক পায়েস পেতে উঠে-পড়ে লাগে। আর চড়াই কুঁকড়ো বুড়ো বা কাক কারো সাথেই পেরে উঠত না। ফলে এই দুইজনের লড়াইয়ের সুযোগটাই সে কাজে লাগিয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের বিশ্বাস।

সপা – কিন্তু চড়াই কেন পায়েস খেতে চাইবে?

প্র – কাক কিংবা কুঁকড়ো বুড়ো দুজনেই বিভিন্ন সময়ে বিনা লড়াইয়ে প্রচুর পায়েস খেয়েছে। কিন্তু চড়াই চিরকালই বঞ্চিত ছিল। ফলে মনে করা হচ্ছে চড়াই নিছক পায়েস কেমন খেতে সেটাই বুঝতে চেয়েছিল বা হয়ত তার খিদেও পেয়ে থাকতে পারে। সাধারন ভাবে যদিও মনে হচ্ছে যে চড়াইয়ের অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না, তবু প্রশাসনিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।

সপা – প্র, তুমি আমাদের সঙ্গে থাকো। এই মুহূর্তে টেলিফোনে আমাদের সাথে রয়েছেন কুঁকড়ো বুড়ো। শ্রীকুঁকড়ো বুড়ো। ঘরোয়া খবরে আপনাকে স্বাগত। কি বলবেন আপনি আজকের ঘটনা নিয়ে?

কুঁবু – কি বলব বলুন তো? কাক তো জিতলেন। আমি তা মেনেও নিয়েছি। তাও আমাকে হেয় করার জন্য ওনাকে চড়াইয়ের মত সমাজবিরোধীর সাহায্য নিতে হল এটাই অবাক লাগছে। তবে আমার মনে হয় কাক এটা নিয়ে হইচই করতেন না। করছেন কারন এখন কাক-চড়াই আঁতাত জলের মত স্বচ্ছ হয়ে গেছে। কিভাবে অন্যান্য দুষ্কৃতি পাখিদের সাহায্য নিয়ে আমাকে হারানো হয়েছে সেটা আজ উঠোনকোণে উপস্থিত সবাই দেখেছেন। আমার ধারনা কাক চড়াইকে বলেছিলেন ভাগ দেবেন, কিন্তু চড়াই কাককে বিশ্বাস করতে পারেনি। এটা আসলে মানুষবিরোধী পাখিদের নিজেদের কোন্দল।

সপা – কিন্তু বিশেষজ্ঞরা তো বলছেন…

কুঁবু – দেখুন ওইসব কে কি বলছে শুনে কোনও লাভ নেই, বিশেষজ্ঞ-ফিশেষজ্ঞ অনেক শুনেছি। কান পচে গেছে। খালি একটা কথাই মনে করিয়ে দিতে চাই যে পাখিদের থাকার জন্য আমিই উঠোনকোণে গাছ লাগিয়েছিলাম। তখন তো আর জানা ছিল না যে কাক চড়াই জাতীয় সমাজবিরোধীদের ওখানে আশ্রয় দেবেন। আমার আর কিছু বলার নেই।

সপা – ধন্যবাদ শ্রী কুঁকড়ো বুড়ো। প্র, তুমি আমাদের বল এখন ওখানকার পরিস্থিতি কি রকম। প্রশাসনের তরফে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

প্র – ফরেনসিক দল এসেছিল। তাঁরা চড়াইয়ের চিরকুটটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন। নিরাপত্তারক্ষীদের এক বিশেষ দল কড়াইটিকে ঘিরে রেখেছে। ওখানে কাউকে, এমনকি সাংবাদিকদেরও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

সপা – প্র আমরা তোমার কাছে একটু বাদে ফিরে আসছি। আমরা টেলিফোনে পেয়েছি শ্রীকাককে। নমস্কার শ্রীকাক। ঘরোয়া খবরে আপনাকে স্বাগত।

কা – নমস্কার

সপা – আজকের ঘটনা নিয়ে আপনার মতামত কি?

কা – দেখুন আমার বলার কথা একটাই। কুঁকড়ো বুড়ো জানতেন তিনি হারবেন। সেই কারনেই এই ধরনের ঘৃণ্য চক্রান্ত। আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, জোর গলায় বলছি, চড়াই বলে কেউ নেই। কুঁকড়ো বুড়োই চড়াই। উনি তথাকথিত চড়াইকে দিয়ে পায়েস চুরি করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি, ওনার ঘর তল্লাশি করলেই পায়েস বেরোবে। হয় পায়েস কেউ খায়নি নয় কুঁকড়ো বুড়ো খেয়েছেন। আর সেই সঙ্গে কুঁকড়ো বুড়ো যাদের চড়াই সাজিয়ে রেখেছে, তাদের প্রতি আমার আবেদন, তারা যদি সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে চায় তাহলে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে আমি সবরকম ব্যবস্থা করব। তবে কেউ যদি মনে করে আমার সাথে ভুটভুটি করবে, ভূটভুটি মানে কি? খলরবলর, খলরবলর মানে কি? চক্রান্ত, তাহলে কিন্তু আমি ভীষণ রাফ অ্যান্ড টাফ।

সপা – কিন্তু কুঁকড়ো বুড়ো তো অভিযোগ করেছেন এটা পাখিদের নিজস্ব ঝগড়া…

কা – পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়

সপা – উনি আপনাকে মানুষ বিরোধী বলেও অভিযোগ এনেছেন

কা – পাগলের কথার উত্তর হয় নাকি?

সপা – ধন্যবাদ শ্রীকাক। আমরা কুঁকড়ো বুড়ো এবং কাক উভয়েরই বক্তব্য শুনলাম প্র তুমিও শুনলে, কি বলবে তুমি?

প্র – সপা আমি একটা জিনিস বুঝতে পারলাম না যে প্রশাসনিক তদন্ত এখনও কিছুই এগোয়নি, তার মধ্যে উভয়েই কি করে ব্যাপারটি নিয়ে এত নিঃসংশয় হলেন।

সপা – প্র, তোমার কাছে ফিরছি, তার আগে এই মুহুর্তে আমাদের সঙ্গে টেলিফোনে রয়েছেন শ্রীছাগল। শুভসন্ধ্যা শ্রীছাগল। ঘরোয়া খবরে আপনাকে স্বাগত।

ছা – আমি একটা কথাই বলতে চাই যে গণ্ডগোল যা হয়েছে তা হয়েছে কুঁকড়ো বুড়ো, কাক, চড়াইয়ের মধ্যে। এর মধ্যে শ্রীকাক অনাবশ্যক ভাবে আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে ছাগলে কি না খায়। আমি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং আশা করব শ্রীকাক এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন নচেৎ আমরা তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে বাধ্য হব। নমস্কার।

সপা – ধন্যবাদ শ্রীছাগল। প্র, তুমি শ্রীছাগলের বক্তব্য শুনলে। কি বলবে?

প্র – এই বিষয়ে কিছু বলার নেই। ছাগল তাঁর কথা বলেছেন, এবার কাক যেটা ভাল বুঝবেন তাই করবেন। তবে এটুকু বলতে পারি কাক এবং কুঁকড়ো বুড়ো উভয়েই কিন্তু কিছুটা হলেও সাম্প্রদায়িক তাস খেলার চেষ্টা করছেন।

সপা – এই যে এত বড় ঘটনা যে ঘটল, প্রশাসনিক স্তরে কি কোনও গাফিলতি ছিল বলে তোমার মনে হচ্ছে?

প্র – সে তো আছেই। প্রশাসন ধরে নিয়েছিল যে গতকাল যখন একটা মীমাংসা সূত্র বেরিয়ে এসেছিল, অতএব আর কোনও গোলমালের আশংকা নেই। সে কারনেই পায়েসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করে লড়াইয়ের মাঠে নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানো হয়েছিল। এটা কিন্তু প্রশাসনের তরফে একটা বিরাট গাফিলতি। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে অবশ্য প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত সেই কারনেই কোনও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারেনি। ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কাকের সমস্ত সমর্থককে গাছে তুলে দেওয়া হয়। যদিও বিক্ষিপ্ত কিছু গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করায় উভয়পক্ষের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সপা – এছাড়া আর কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

প্র – যে দুজন নিরাপত্তারক্ষী কড়াইয়ের দায়িত্বে ছিল তাদের ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে আজ সন্ধ্যে প্রায় নেমে এসেছে। খুব একটা বেশি কিছু আজ আর এগোনো যাবে না। আপাতত আগামিকাল ভোররাত থেকেই যাতে চড়াইয়ের খোঁজে আশেপাশের গাছগুলিতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করা যায় তার ওপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে। আজ রাতেই পাখির বাসা খুঁজতে দক্ষ কিছু প্যাঁচাকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দরকার হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিল এবং বাজপাখিদের সাহায্যও নেওয়া হতে পারে। কাজেই বাকি যা হওয়ার তা আবার আগামিকাল সকালেই হবে। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, তদন্তে যাই বেরিয়ে আসুক না কেন, সব মিলিয়ে আজকের এই পায়েসকান্ড যে প্রশাসনকে কিছুটা হলেও বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ক্যামেরায় ক্যামেরাম্যানের সাথে আমি প্র, ঘরোয়া খবর, উঠোনকোণ।

সপা – এখন সময় একটা ছোট্ট বিরতির। আর তার পরেই রয়েছে আজকের পায়েসকাণ্ড নিয়ে আমাদের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পায়েস খেয়ে পগারপার’। কোথাও যাবেন না, ফিরে আসছি বিরতির পর ‘পায়েস খেয়ে পগারপার’ নিয়ে সঞ্চালক স-এর সঙ্গে। ঘরেই রয়েছে ঘরোয়া খবর।

মূর্খের সংযোজন – বহুদিন আগের কথা এই সব। সবাই ভুলে গেছে। ইতিহাস বইতেও কোথাও লেখেনি। কেমন আছে চড়াই, তার খিদে মিটেছে কিনা, সে খোঁজ কেউ রাখে না। সে সত্যি দুষ্কৃতি ছিল কিনা, সে বিচার আজও হয়নি। এখনও উঠোন-কোণে পায়েস হয় এবং কাক আর কুঁকড়ো বুড়ো লড়াই না করে আপোষে মীমাংসা করে নেয়।

পায়েসকান্ড (আবার পুরনো কাসুন্দি)
  • 4.00 / 5 5
1 vote, 4.00 avg. rating (81% score)

Comments

comments