না, এটা কোনও নতুন লেখা নয়। অনেকদিন ধরেই নতুন কিছু লিখব লিখব ভাবছি, কিন্তু মাথায় লেখা ঘুরলেও কি-বোর্ডে আসছে না। সবে নতুন করে দু তিনটে লেখা লিখে এখন যদি এটাকে 'রাইটার্স ব্লক' বলি, সেটা ধৃষ্টতা হয়ে যাবে। কিন্তু কি বা করা যাবে।

এরকম সময় বুকশেল্ফে কিছু বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ করে হাতে পেয়ে গেলাম আমার পুরনো একটা ডাইরি। এটা সেই সময়কার ডাইরি যখন রাজীব গান্ধী জীবিত। বার্লিন ওয়াল ধ্বংস হলেও দুই জার্মানি অফিসিয়ালি এক হয়নি। আর এই অধম তখন সবে নয়ের শেষ প্রান্তে এসে দশে পড়ব পড়ব করছে। পাতা উল্টে খুঁজে পেলাম কাঁচা কাঁচা হ্যান্ডরাইটিং-এ লেখা কিছু গল্প। সময় নষ্ট না করে পড়তে বসে গেলাম। প্রথমে পড়ে বেদম হাসি পেল আমার সীমিত জ্ঞানের ভাণ্ডার আর কল্পনার দৌড় দেখে। পরক্ষণেই আবার খুব মায়া হল। মনে হল আজ আমি কত কি জানি, কত কি বুঝি। কত পড়াশোনা করে ফেলেছি, তা সে পড়ার বই-ই হোক বা গল্পের বই। আজ কত কিছুই না পেয়েছি। কিন্তু হারিয়ে ফেলেছি পঁচিশ বছর আগের সেই সরলতা বা ইনোসেন্স। ডাইরির পাতাগুলো কোনও মতে টিকে আছে। বেশ কিছু ছেঁড়া পাতা দেখলাম আবার সেলোটেপ দিয়ে আটকানো। মনে হয় যার জিম্মায় ডাইরিটা ছিল এতদিন, আমার মা, কোনও সময় হয়ত খেয়াল করে আটকে দিয়েছিল। কিছুদিন পরে হয়ত আর খুঁজেই পাব না ডাইরিটা। চিরদিনের মত হারিয়ে যাবে আমার সেই সময়কার কাঁচা মাথার পাকা পাকা কিছু চিন্তা ভাবনা। ভাবলাম এগুলোকে সংরক্ষণ করা দরকার। তাই চটপট অ্যানালগ লেখাগুলোকে ডিজিটালাইস্ড করে ফেললাম। একবার ভেবেছিলাম যে কিছু কিছু কারেকশন করব। কিন্তু পরে সেদিনের ছোট্ট 'আমি' টার ছোট্ট মাথাটাকে সম্মান করে ভুলভাল বানান, দাড়ি, কমা, সেমিকোলোন সহ আর কল্পনার গরুগুলোকে বাস্তবের গাছ থেকে না নামিয়ে অবিকল ভাবে টুকে দিলাম (প্রত্যয়, তখনকার অনিচ্ছাকৃত বানান ভুলগুলো একটু ক্ষমা ঘেন্না করে দিও, প্লীজ)। ইচ্ছে করছে সেগুলো চর্যাপদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার। কিন্তু লজ্জা করছে, পড়ে তোমরা আবার হাসবে না তো? অবশ্য হাসতেই পার। আমারও হাসিই পেয়েছিল প্রথমে। তাই যদি কথা দাও যে পড়ে হাসলেও প্যাঁক দেবে না, তাহলে এই সিরিজে সেগুলো শেয়ার করব তোমাদের সাথে।

 

পুরনো ডাইরি থেকে – ভণিতা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments