আজকের দিনে লং ডিসট্যান্ট রিলেশনশিপ আর তত বড় বাধা নয় যতটা ছিল কিছু বছর আগেও। মেসেঞ্জার, ভিডিও চ্যাট ইত্যাদি এসে গেছে, ফোনের খরচও গেছে অনেক কমে। এতে করে ফোনের ক্যারিয়র আর ইন্টারনেট প্রোভাইডাররা বেপাকে পড়ে নন-নিউট্রাল ইন্টারনেটের দাবি আনা এবং আরেকদলের তার প্রবল বিরোধিতা করা, এ সবই হয়ে গেল গত কিছুদিনে। বহুদূরের প্রিয়জনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগে থাকা আর কোনো বড় সমস্যাই নয় এখন।

কিন্তু যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্বের বাধাটা রয়েই যায়। যদিও আধুনিক আধুনিকাদের মুক্ত মনের সুবাদে মুক্ত সম্পর্ক এবং একে অপরকে না ঠকিয়েই অন্য কারো সঙ্গে স্বল্প সময়ের শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর ঘটনাও এখন আর বিরল নয়, তবু সকলেই তেমনটা চাইবেন তা না নাও হতে পারে। সেক্স ভিডিও চ্যাট একটা উপায়, কিন্তু সম্পূর্ণ তৃপ্তিদায়ক নয়। এমতাবস্থায় উপায় কি?

আমাদের পোড়া কপাল, ভারতবর্ষে যৌন খেলনার ব্যবসা এখনো বৈধ না। 'অপ্রাকৃতিক যৌনতা' নিয়ে ৩৭৭ এর কড়া নজরও রয়েছে। খুব অদূর ভবিষ্যতে এর পরিবর্তন হবে, এমনটা আশা করা যাচ্ছেনা। এদিকে টেকনোলজি কিন্তু এগিয়ে চলেছে হুড়মুড়িয়ে। আগে ১০ বছরে টেকনোলজি যা এগোতো, এখন ১ বছরে সেই পরিমাণ অগ্রগতি ঘটছে। লং ডিস্ট্যান্সে থাকা কাপলদের জন্য বাজারে এসে গেছে কতরকম উপায়। দুর্ভাগ্যবশত সেগুলো এখনো সরাসরিভাবে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে (দামও নেহাত কম না)। সেরকমই এক অদ্ভুত টেকনোলজির কথা বলা যাক।

কিরো নামের এই সেক্সটেকের জনক যৌনখেলার পীঠস্থান আমস্টার্ডামের একটি কোম্পানি। কিরো বলতেই প্রথম মনে পড়ে সেই হস্তরেখাবিদের কথা, যাঁর বই বিক্রি হত লোকাল ট্রেনে, আর সেগুলো পড়ে জানা যেত সিংহের মত বুড়ো আঙুল কিম্বা ইঁদুরের মত নাভি হলে সেই ব্যক্তির স্বভাবচরিত্র কিরকম হবে! কিন্তু এই কিরো সেই কিরো নয়। এটা একটা যৌন খেলনা যা দূরে থাকা কাপলদের মধ্যেও এনে দিতে পারে চরম সুখ। এই যন্ত্রের দুটি অংশ – পার্ল, যা কিনা আসলে একটি ভাইব্রেটিং ডিলডো, আর ওনিক্স, যেটা হল একটি কৃত্রিম যোনি। মজার ব্যাপার এটাই যে এই যন্ত্রটি একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা ইন্টারনেটে কানেক্ট করা যায়। পার্ল নামক ডিলডোটিকে যখনই ফিমেল পার্টনার ব্যবহার করতে শুরু করেন, অমনি তাঁর যোনির কম্পন এবং এক্সপ্যানশন-কনট্র্যাকশন এর ডেটা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৌঁছে যায় বহু দূরে থাকা মেল পার্টনারের ওনিক্সে। তিনি তখন তাঁর ওনিক্সের ভিতর অনুভব করতে পারেন সেই কম্পন। ফলে প্রায় পার্টনারের সঙ্গে সঙ্গমের মতই অনুভূতি হয়। এই প্রযুক্তির নাম তারা দিয়েছে টেলিডিলডোনিক্স। নিচের ভিডিওটি এই প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন, আরো বিশদে জানতে হলে দেখুন এখানে

তবে কিরো এখনো সম্পূর্ণতা লাভ করতে পারেনি, কারণ ডেটা আদান প্রদান হয় কেবল এক তরফেই, ওনিক্সের মধ্যে কি হচ্ছে সেই ডেটা পার্লে আসেনা। তাই এটা এখনও অবধি ফিমেল ডমিনেটেড এবং বাস্তব যৌন অনুভূতি পান কেবল মেল পার্টনারই। এই সীমাবদ্ধতার জন্য ফেমিনিস্টরা কিরোকে সেক্সিস্ট টয় বলবেন কিনা জানিনা, তবে কিরো বর্তমানে চেষ্টা করছে উল্টোদিকের ডেটা আদান প্রদানেরও ব্যবস্থা করতে। যে গতিতে সেক্সটেক এগোচ্ছে, মনে হয় না খুব বেশিদিন দেরি হবে বলে।


 
প্রেম ও প্রযুক্তি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments