রিক্সার প্যাডেলে পা’দুটো যেন বসতেই চাইছে না কেয়ামতের। খালি ছিটকে ছিটকে ওপর দিকে উঠতে চাইছে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে আর শরীলটাও যেন শূন্যে ভাসছে। রোজই ভাবে আজ আর যাবে না হাবুলদের ঠেকে কিন্তু ইস্টিশনের শেষ লোকালটা চলে যেতেই কি যে হয়….

রোজ রাত্তিরের মত আজও বাড়ি ফিরে লন্ঠনের টিমটিমে আলোয় চম্পার ঘুমন্ত মুখটা দেখতে দেখতে কেয়ামত প্রতিজ্ঞা করে কাল থেকে আর ওমুখো হবে না। ডালে চুবিয়ে চুবিয়ে গোটা চারেক রুটি কোনমতে পেটে সেঁধিয়ে হারিকেনটা নিভিয়েই কেয়ামত জাপটে ধরে চম্পাকে। আর রোজকারের মতই ঝাপটা দিয়ে কেয়ামতের হাত সরিয়ে দিয়ে চাপা গনগনে গলায় খিঁচিয়ে ওঠে চম্পা,

- “মরণ! গাঁজা টেনে মাঝ রাত্তিরে সোহাগ কত্তে এসেছে। কেন, হাবুলের গাঁজার ঠেকে মাগি পাওয়া যায় না?”

বলেই উল্টোদিকে ফিরে শোয়। সারাদিন রিক্সা ঠেঙিয়ে রোজগার। বিবির খাওয়া পড়ার তো আর অভাব রাখেনি কেয়ামত। নিজের রক্তজল করা রোজগারের পয়সায় একটু ফুর্তি করলেই মাগির যত জ্বালা। একে নেশার ঘোর তার ওপর শাদি করা বিবির অচ্ছেদ্দা। মাথায় আগুন জ্বলে যায় কেয়ামতের। রিক্সার হ্যান্ডেল ধরা ডানহাতের শক্ত থাবায় খামচে ধরে চম্পার বুক। বাঁহাতে চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে গর্জে ওঠে,

- “কিসের এত তেজ তোর? বলি, মাগি তোর কিসের এত তেজ? তিন বচ্ছর শাদি হয়েছে, একটা বাচ্চাও তো বিয়তে পারলি না….. আয় শালি….”

কেয়ামতকে এক ধাক্কায় চৌকি থেকে নিচে ফেলে দিয়ে চম্পা দাঁতে দাঁত চেপে গুমরে ওঠে,

- “একদম ছুঁবি না আমায়। আমাকে তো শেষ করেছিস, আমার পেটেরটাকেও…..”

ঘুরঘুট্টি অন্ধকারেও চম্পার মুখটা দেখতে চেষ্টা করে রহমত। ঘন অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। ইষ্টিশনের পেছনের জঙ্গল থেকে ভেসে আসা শেয়ালের চিৎকারকে ভেদ করে শুনতে পায় চম্পার হিসহিসে গলা,

- “তিন বচ্ছর ধরে লোকের মুখে শুনছি আমি নাকি বাঁজা। শালা! মরদের খ্যামতা নাই আর বিবি কিনা বাঁজা…..”

জমাট বাঁধা অন্ধকার গায়ে মেখে কেয়ামত বোঝার চেষ্টা করে বিবি পোয়াতি হওয়ার খবরটা আনন্দের নাকি…..

ফসল
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments