একটা লেখার রেফারেন্স খুঁজতে গিয়ে অনেক দিন বাদে পুরানো বাঁশ কাগজের মলাট দেয়া বইটা পেয়ে গেলেন শমিত।আবছা হয়ে যাওয়া লেবেলটাতে লেখা শমিত মুখার্জি,কক্ষ- "ক", শ্রেণী:- একাদশ, রাধারমণ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়,বেড়াচাঁপা।মাঝখানটা অল্প উচু হয়ে আছে,অল্প হেসে মলাটে আলতো হাত বুলিয়ে খুলতেই খয়েরীকিছু পাপড়ি আর কালো কিছুটা গুড়ো হয়ে যাওয়া দুটো পাতা।দুএকটা গুড়ো এদিক ওদিক পরতেই শমিত বন্ধ করে দেয় বইটা সাবধানে। যথাস্থানে রেখে আবার নিজের চেয়ার এ এসে বসে পরেন।একটা চেনা গন্ধ মনে পরে যায়।

আজকাল তিনি তার ভালোলাগার কিছু অনুভূতি যেমন গন্ধ,স্পর্শ,শব্দ,স্বাদ এগুলো আর ইন্দ্রিয়ে ধরতে পারেন না। না তার ইন্দ্রিয় ,মস্তিকে পৌঁছে দেবার মাধ্যম বা মস্তিক যা এই অনভুতি কে মনের ভালো বা খারাপ লাগায় রূপান্তরিত করে দেবে সেই সব যন্ত্রগুলো ঠিকভাবেই কাজ করছে ।সময় শরীরকে কিছুটা কাবু করে দিলেও এই অংশকে কে সেরম ভাবে আঘাত করতে পারেনি বরং বেশী সতেজ হচ্ছে দিনে দিনে।আসলে এই ভালো লাগার গন্ধ,স্পর্শ,শব্দ বা ,স্বাদ এগুলো আর ঘটে না বা ঘটলেও তার ইন্দ্রিয় অবধি পৌঁছয় না।যেমন জবাকুসুম তেল মাখা চুলের গন্ধ, বৃষ্টিতে ভেজা মাটির গন্ধ যাতে আলাগা ধানের গন্ধ লেগে থাকত তার বদলে লেগে থাকে পোড়া পেট্রোলের গন্ধ বা ঢাকের শব্দ চেনা বোল বা ভাঁজ তিথি  অনুযায়ী যা বদলে যেত আর শোনা যায় না তার বদলে তাতে লেগে থাকে চটুল বাংলা বা হিন্দি গানের বোল,তার সাতন্ত্রটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাগুলো ঘটলে শমিত স্মৃতি থেকে তার আনুসাঙ্গিক অনুভূতিগুলি মনে করে নেন, তাই তিনি গন্ধ পান না ,শব্দ শোনেন না,স্পর্শ অনুভাব করেন না বরং তিনি এগুলো মনে করে নেন প্রয়োজন মতো।

বেড়াচাপা ,বারাসাত মহকুমা শহর থেকে কুড়ি পঁচিশ মাইল দূরে গড়ে ওঠা এক আধা গ্রাম আধা শহর। কিছু গেলেই ইছামতী ওপারে পূর্ব পাকিস্তান অধুনা বাংলাদেশ। এই জনপদ মানুষের প্রয়োজনে গড়ে উঠেছে বা বলা যায় মানুষ গড়ে তুলেছে। আদি অনন্ত কাল থেকে মানুষ সেখানেই বাস করেছে যেখানে প্রাথমিক ভাবে অল্প আয়াসে খাদ্য পেয়ছে আর পেয়েছে নিরাপত্তা তার সম্পদের, সত্ত্বার ,পরিজনের আর উত্তরাধিকারের। এর অভাব ঘটলে সে প্রথমে প্রতিরোধ করেছে সাধ্য দিয়ে আর পরাস্ত হলে নতুন বাসযোগ্য ভুমি খুজে নিয়েছে।আস্তে আস্তে সে নিজের সত্ত্বা কে মিলিয়ে দিয়েছে নতুন ভুমির সাথে ,অভিযোজিত হয়েছে  সময়ের সাথে।নিরন্তর গ্রহণ ও বর্জনের মধ্যে দিয়ে সে ভুমিকে আপন করেছে বা ভুমি তাকে আত্মস্থ করেছে অনায়াসে।উত্তরাধিকার পরিচিত হয়েছে ভুমিপুত্র বলে , ভুমির ওপর নিজের অধিকার দাখিল করেছে অনায়াসে আর স্মৃতির অতলে এক কোণে জায়গা করে নিয়েছে তার আদি ভুমি,তার উৎপত্তির উৎসমুখ।

পেনটা রেখে শমিত মনে পরা গন্ধটাকে উপভোগ করেন কিছুক্ষন আর বইয়ের খাঁজে আটকে যাওয়া সময়কে খুজে নেন স্মৃতি থেকে ।এই ফুল ও তল্লাটে কেবল ফোটাতে পারতেন সইদুল চাচা। সবাই বলত তাঁর হাতে নাকি জাদু আছে। যেমন তার গঠন তেমনি তার সুবাস।সেই ফুল ছিল সবার ঈপ্সিত। কিন্তু ধর্মপ্রাণ সইদুল চাচার আমরণ পণ ছিল, তিনি কোনদিন এ ফুল মানুষের ব্যাবহারের জন্য দেননি। বলতেন মানুষের হাতে দিলে এ ফুলের মাধুর্য নষ্ট হয়ে যাবে এ সৃষ্টি যার তাঁর সাজেই এ মানায়।তিনি নিয়মিত ফুল পাঠিয়ে দিতেন মাজারে বিনা পারিশ্রমিকে আর দিতেন কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজের হাতে।এক অদ্ভুত মানুষ ছিলেন এই চাচা। গভীর জীবনবোধ ছিল তাঁর, বাবার সাথে বসে অনায়াসে গীতা ও কোরানের তাত্ত্বিক দিক আলোচনা করতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। উভয় ধর্মগ্রন্থের মিল আর মানুষের জীবনে তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ এই থাকতো তাদের আলোচনার বিষয়।শমিত বেশিরভাগই বুঝতে পারতো না,কিন্তু শুনতে ভালো লাগত সে চাচার কোলে পরের দিকে পাশে বসে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে যেত তাঁদের আলোচনা।এই আলোচনাই তার জীবনবোধ কে গড়ে দিয়েছিল,আজও নিরন্তর সে সেই বোধের সাথে নিজের জীবন কে মিলিয়ে চলেছে, জীবনের দাবি কে মাপতোল করেছে এরই নিক্তিতে।

এই গোলাপ সে পেয়েছিলো সইদুল চাচার আর এক সৃষ্টি আফরিনের কাছ থেকে।সইদুল চাচা মুক্তিতে বিশ্বাস করতেন।তাঁর কাছে  নারী পুরুষ কোনও ভেদ ছিল না।এ পৃথিবীর সকল মানুষ তার কাছে সেই অনন্তের প্রতিচ্ছবি মাত্র এই ছিল তার বিশ্বাস,আর তিনি তা পালন করতেন নিজের জীবন দিয়ে। সেই জন্য আফরিন আর শমিতের মধ্যে মেলামেশায় কোনও বাঁধা ছিল না,তারা বেরে উঠেছিল পাশাপাশি আর পিঠোপিঠি।আম পারতে সে গাছে উঠলে আফরিন ফ্রক বাড়িয়ে দিয়েছে নিচে,সে ঘুড়ি উড়িয়েছে তো আফরিন লাটাই। আশেপাশে সেরম জনবসতি না থাকার জন্য তারা নিজেদের কে আরও বেশী করে আপন করে নিয়েছে ,নিবিড় হয়েছে,একে অন্যের ওপর নির্ভর করেছে,করেছে বিশ্বাস।

কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার সন্ধিক্ষণে উত্তরণের সময় কাল বড়ই অস্থির।অল্প আঘাত বেশী করে লাগে,আবেগ হয় বল্গাহীন,কল্পনা হয় অসীম ,স্বপ্ন হয় দুর্বার ,ইচ্ছে থাকে স্বাধীন।যা গোপনীয় তা নিজেকে প্রকাশ করতে চায় আরও বেশী করে করতে চায় এ সময়। আর সে গোপনীয়তা যদি একদম কাছের মানুষকে নিয়ে হয় তবে তা নিজেকে অস্থির,অবুঝ করে তোলে।নিজের বিশ্বাস ,বোধ,ন্যায়, অন্যায়, সমাজ , নিষেধ , যাবতীয় বিচার বুদ্ধিকে একেবারে শিকড় ধরে উপরে ফেলে সেই ইচ্ছে, আর মনকে টেনে নিয়ে চলে প্রকাশের দিকে।বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

এই জনপদ যেখানকার মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রাণপাত করে সেখানে সারস্বত চর্চার প্রতি দরদ খুবই কম আর তার প্রয়োজনীয়তাও কিছু কম জীবিকার নিরিখে। মানুষ পুথিগত বিদ্যার থেকে বেশি জোর দিয়েছে লৌকিক  বিদ্যায়। যে বিদ্যা তাকে অনুর্বর জমিকে উর্বর করতে শিখিয়েছে ,সময়ের সাথে সাথে তার চরিত্র বদলানোর খোঁজ দিয়েছে বা  বুঝে নিতে শিখিয়েছে অতিবৃষ্টি ,অনাবৃষ্টির খবর। আর তার সাথে সে পেয়েছে উত্তরাধিকার সুত্রে অগ্রজদের থেকে পাওয়া কিছু কথা কাহিনী আর গল্প। এই কাহিনী বা গল্প মানুষের জীবনের গল্প যা যুগে যুগে তাকে ধারণ করেছে ,উত্তর দিতে চেয়েছে বা পেতে চেয়েছে মানুষ কে বা কিভাবে আসে বা যায় , কেনই বা তার আসা,যাওয়া বা থাকা।এখানে মিলেমিশে আছে বেদ ,কোরান,উপনিষদ, পুরাণ,রামায়ন,মহাভারত,আরব্যরজনী,লালন,মন্দির,মসজিদ,মাজার আছেন কৃষ্ণ ,শিব, বুদ্ধ,লালন,কবির,তুলসিদাস,সতি মা,আউলচন্দ্র,সিরাজ শা,গৌর -নিতাই,হাড়িরাম।সহঅবস্থান করছে নানা আচার পুজো ,মানত, দণ্ডি, সিন্নি,উপোস,রান্না পূজা,চারিচন্দ্র ভেদ,নামগান, কীর্তন। কালের ঘূর্ণি পাক যেন সবাইকে এক জায়গায় ঘনীভূত করেছে,আবার উৎসারিত করেছে বিচিত্র ধারামুখে যা মানুষকে শিখিয়েছে কাল কে জয় করতে, আশ্রয় দিয়েছে,অধিকার দিয়েছে।

ছাত্র হিসেবে শমিত বেশ ভালই ছিল। বাড়ির পরিবেশ বা শিক্ষা চর্চা তাকে বরাবরই অন্যদের থেকে এগিয়ে রেখেছে আর তার সাথে যোগ হয়েছিল পাঠ্য বই এর বাইরে নানা বিষয় নিয়ে আগ্রহ যা তাকে এগিয়ে দিয়েছে অন্যের থেকে কেবল বেড়াচাপার গণ্ডীতে নয় এর সুফল সে লাভ করেছে মহানগরের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে।স্কুলের পাঠ শেষ করে সে মহানগরে পাড়ি দেবে এটা পূর্বনির্ধারিত ছিল।সমস্ত আয়োজন চলছিল,আফরিন ও মায়ের সাথে হাত লাগিয়েছিল যাতে তার কোনও অসুবিধা না হয় নতুন শহরের পরিবেশে মানিয়ে নিতে। সব ঠিক হলেও শমিতের মনের ভেতরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি কাজ করে চলেছিল।আফরিনের এই আপাত কাজ পাগলামি , তার প্রতি অদ্ভুত উদাসীনতা বা অদ্ভুত চাউনি তাকে অস্থির করে তোলে , যেন একটা অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর গড়ে তুলতে চাইছিল সে।

কিশোরী মনের আচরণ খুব অদ্ভুত।কাঁচা মন যখন কিছু গ্রহণ করে তখন তার ছাপ হয় সুদুরপ্রসারী।ধেয়ে চলে নিরন্তর এক অদ্ভুত আজানার আকর্ষণে,পূর্ণতার খোঁজে।শরীর মন এমন কি আপন সত্ত্বা কে অনায়াসে মিশিয়ে দিতে চায় প্রিয়তমের সাথে । আপনাকে ত্যাগ করে বারেবার খুজে চলে নিজেকে প্রিয়তমের চোখে,তার জাগরণ নিদ্রায় মিশে থাকতে চায়, সমর্পণ করে নির্দ্বিধায়,জেগে থাকতে চায় তার মননে। বিচ্ছেদ বিরহ অভিমান অপমান লাঞ্ছনা অবহেলা তার এই সমপর্নের ইচ্ছা কে আরও বলশালী করে। তীব্র গতিবেগে সব বাধা পার করে সে এগিয়ে চলে মোহনার দিকে আস্তে আস্তে সে বালিকা থেকে নারীত্বে অভিষিক্ত হয়। এই সংসার যেমন ব্রহ্ম কে প্রকাশ করে যদিও দুয়ে  অবিচ্ছেদ্য তেমনি নারী পুরুষকে প্রকাশ করেছে বারে বার নিজেকে উৎসর্গ করে আর সেখানেই তার মহিমা।

ঠিক যাবার আগের দিনে রাতের খাবার একটু তাড়াতাড়ি শেষ করতে হয়েছিল। চারিদিকে একটা গুমোট গরম শমিতের কিছুতেই ঘুম আসছিল না ,দরজা জানলা খোলা ছিল নিয়ম মতো কিন্ত বাতাস যেন স্থির হয়েছিল।অতীত আর ভবিষ্যৎ এর এই সন্ধিক্ষণে হাজারো সম্ভবনা আর হাজারো কৌতূহল ভিড় করে আসছিল।আর ভেসে উঠছিল এক নারী মুখ যার ব্যবহার তাকে কেবল পীড়া দেয় নি এক অদ্ভুত মানসিক টানাপড়েনে ফেলে দিয়েছিল।আজ একান্তে সে কিছু কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু সে সুযোগ সে পায়নি বা সে সুযোগ তাকে ভিক্ষা দেয় নি আফরিন সারাদিনে ।চিন্তা এক আবেশ তৈরি করে দিয়েছিল ,সে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল অবশ হয়ে গিয়েছিল। হুঁশ ফিরেছিল পায়ের আলতো শব্দে,উঠে বসেছিল, চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল এক চেনা অবয়ব।অনেক অভিমান একসাথে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল কথা হয়ে কিন্তু তার সমস্ত চেতনা যেন রুদ্ধ করে দিয়েছিল অবয়বের হাতে ধরা লাল গোলাপ।আফরিন আস্তে আস্তে তার দিকে এগিয়ে এসেছিল, প্রতি পদক্ষেপে যেত অতিক্রম করছিলো হাজারো নিষেধ,বাধা,সমাজ, সংস্কার কে। শমিত তার হৃদয় থেকে উৎসারিত শব্দে স্পষ্ট ইঙ্গিত পেয়েছিল দেয়াল ভাঙার।সে গ্রহণ করেছিল সেই লাল গোলাপ কে আর তার মধ্যে দিয়ে সে হয়ে যাওয়া নারী কে। অনেকক্ষণ ধরে দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ছিল স্থির হয়ে।শব্দবিহীন এই সংলাপের মাধ্যম দিয়ে পুরুষ প্রকৃতিতে আর প্রকৃতি পুরুষে স্থাপিত হয়েছিল,একে অপরকে গ্রহণের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছিল।

শমিতের চোখের সামনে দিয়ে দ্রুত চলে যায় অনেকটা সময়। তার কলেজ ,বন্ধু, কলকাতার রাস্তা,ছাত্র আন্দলোন,গল্প, কবিতা, বইমেলা, ছাত্র পড়ানো ,আফরিনের কলকাতা আসা , দিলখূসা বা কফি হাউসের আড্ডা, দুজনে হাত ধরে গ্লোব বা মেট্রোতে  সিনেমা দেখা,নিউ মার্কেট,ময়দান,বাবুঘাটের সূর্যাস্ত,গঙ্গা পেরিয়ে মঠে যাওয়া,বিদেশে পড়তে যাওয়া,আবার বিচ্ছেদ, আবার ফেরা প্রথম চাকরী, প্রথম কেনা উপহার……আর কত কি। ছবি গুলো ছায়া হয়ে গেলও একে একে আসে আবার যায় ফিরে ফিরে আসে অনেক রূপে অনেক ভাবে আলাদা আলাদা প্রেক্ষিতে।সম্বিত ফেরে কলিংবেলের মৃদু আওয়াজে। গলা তুলে বলেন "সুধা একবার দেখবে নাকি কে এলো এই অবেলায়?"সুধা নাম তাঁরই দেয়া তিনি এই নামেই স্ত্রী কে ডাকেন।পেনটা হাতে তুলে নেন অভ্যাসে।

কিছু সময় বাদে কানে এসে লাগে নুপুরের রিনরিনে শব্দ, না এ তার চেনা বহু পুরনো শব্দ, বুঝতে পারেন সেটা তাঁর ঘরের দিকেই আসছে। সোজা হয়ে বসে চোখে তুলে নেন চশমাটা। সুধা একটা প্যাকেট হাতে দিয়ে বলে ছেলে পাঠিয়েছে আমার আর তোমার জন্য পুজোতে।শমিত হাত বোলান হাতে লেখা ঠিকানার ওপর যত্নে । লেখা:"আফরিন মুখার্জি, প্রযত্নে :শমিত মুখার্জি ,১২/১………… কোলকাতা :৭০০০১২"। কাঁধের ওপর  অনুভব করেন বহু চেনা এক কাঙ্ক্ষিত স্পর্শ।

——–
সমাপ্ত

৩ অক্টোবর ,২০১৪

নৈহাটি

ফেরারী সময়
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments