ভারতের গোবলয়ে রাম আর কৃষ্ণ উভয়েই আরও আরও জাঁকিয়ে বসে থাক । সেটা বেশি করে ওই অঞ্চলের জিনিস এবং ভারতেরই এক আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ । তা নিয়ে বাঙ্গালীদের অস্বস্তি থাকার কোনও কারণ নেই, আর কোনও সাংস্কৃতিক বিরোধও নেই যতক্ষণ না সেটা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে । কিন্তু আমাদের এই বাংলায় দেশোয়ালি রামকে চাই না, সঙ্গে কৃষ্ণের ও বিশেষ প্রয়োজন আর নেই (ইস্কনের খাবার দাবারে লবণ দেয়না, ফলে কি ভীষণ খারাপ সেই খাবার উদরস্থ করার অভিজ্ঞতা যে কি বলবো !, আর ব্যক্তিগতভাবে আমি খাবার জন্যেই বাঁচি , অতএব…… ) । আমাদের বাংলার জন্যে একা রামকৃষ্ণই কাফি । ওরকম শুদ্ধ-মুক্ত -বুদ্ধ যোগী পুরুষ এক তেলং স্বামী ছাড়া ভারতে আর হয়নি ( তেলং স্বামীকে ঠাকুর স্বয়ং নিজেই সাক্ষাত শিবের অংশ বলে অভিহিত করেছিলেন) , ভবিষ্যতেও হবে না । তেলং স্বামী তার দীর্ঘ সাধক জীবনে প্রচুর ভৌগোলিক ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায় । আর সঙ্গে ছিল তাঁর ত্যাগের সাধনা , ইন্দ্রিয়োত্তীর্ণ হবার তপস্যা , নির্মম সেলফ-সেক্লুশন । শ্রীরামকৃষ্ণ ভৌগোলিক ভ্রমণ অত্যধিক মাত্রায় না করলেও তাঁর আধ্যাত্মিক , সাংস্কৃতিক ভ্রমণ ছিল বিস্তৃত । প্রেমের ঠাকুরের বাংলায় যে কোনও দেবদেবীই ভক্তিরসে পূজিত হয়েছেন বরাবর । বাৎসল্য এবং প্রেমরস বাংলার এবং বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । আমাদের কাছেও স্বভাবশান্ত গাই গরু আদরেরই জিনিস, কিন্তু পুং হরমোনের প্রতীক, মূর্তিমান পাহাড়, বলীবর্দ ষাঁড় আমাদের কাছে উৎপাতের নামান্তর মাত্র এবং কর্মনাশা "ধর্মের ষাঁড়" হিসেবেই অভিহিত (মুড়ি – চিঁড়ে- ছোলা ভাজা হয় এমন দোকানে বা বাজারের সবজি বিক্রেতাদের কাছে বা মুদী দোকানে যেখানে টিনের জারে তরল গুড় বিক্রয় হয় সেখানে গিয়ে ষাঁড়ের সুখ্যাতি করে দেখতে পারেন। বিক্রিবাটা কম হওয়া, মেজাজ-খারাপ করা দিনে দোকানীর মধুর বচন শুনতে পাবেন !) । বাংলা থেকে এই অধুনা জনপ্রিয় রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তী কেন্দ্রিক ষেঁড়েল, কুৎসিত , বলসর্বস্ব আচার পালন বিতাড়নার্থে শক্তিপূজার পীঠস্থান, সাধনধন্য বাংলার জাগ্রত তারাপীঠে মহাযজ্ঞ হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়।

বঙ্গবক্ষে ষেঁড়েল আচারপালনের বিপ্রতীপে দু’ কথা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments