কি ভাবতেন? কি লিখতেন? কি বলতেন তারা ….নতুন বছর আসার আগে (ধৃষ্টতা মার্জনীয়)!!!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অলস প্রভাতে চাহিয়া দেখিনু
আজিকে নতুন বরষে
পর্নে শিশির বিন্দু খেলিছে
নাচে মন মম হরষে।

প্রাচীন যত ভাবনা ছিল
ত্যাজিয়া প্রভুর চরণে
ছন্দে কথায়ে সকলে মাতিনু
নবীন সময় বরণে।

কাজী নজরুল ইসলাম

আজ চলো দোস্ত ফুর্তি করব
ছুড়ে ফেলে দিয়ে সকল কাজকে
চিত্কার করে হাঁসবো মোরা
সালতামামির পরব আজকে।

শাঁখ না আজান, কি ওই আওয়াজ,
আজকে তো ভাই শুনছিনা
নতুন বছরে মানুষের মাঝে
এই ভেদাভেদ মানছিনা।

সুকান্ত ভট্টাচার্য

সাজ সাজ রব সহর জুড়ে,
নতুন বছর আসছে
অট্টালিকার নাগরিক যত,
হই হুল্লোরে ভাসছে।

বছর ঘুরে বছর আসলেও
যারা মাটির তলায়ে থাকে,
এত রোশনাই,আনন্দ মাঝে
তাদের খবর কি কেউ রাখে ?

সুকুমার রায়

প্যাঁও প্যাঁও প্যাঁও দুরুম দারাম,
বাজনা বাজিয়ে কি যে ফ্যাশন
ফাটছে পটকা ,উড়ছে হাওউই
আজব নতুন বছরের সেলিব্রেসান।

মেম নাচছে, নাচছে সাহেব,
নাচছে বেবাক বাবুর দল
ভাবছে বুড়ো নায়েব সাহেব,
এ আবার কোন গ্যাঁড়া কল!!

জীবনানন্দ দাশ

সেই যবে তুমি শেষ এসেছিলে,
সেই শেষ বছরের শেষে,
বকের মতন উড়েছিলে তুমি,
অজানা ঘুমের দেশে,

আজও তোমাকে খুঁজতে গেলে,
একটা নতুন বছর লাগে,
হারিয়েছে যা দিব্বি ছিল
কয়েক বছর আগে !!!

শক্তি চাটুজ্জ্যে

রাত শেষে হলে নতুন প্রহর
আগেও এসেছিল, তবে এত দ্রুত নয়
বছর শেষে কি হিসেব মিটল?
জিজ্ঞেস করতে, নিজেরই লজ্জা হয়…

হিসেব দু দিকে ,জটিল প্রকৃতি
খুঁটে খায় যে যা পারে
হৃদয়পুরের পাওনা মিটিয়ে
শুধুই দেখে যাব তারে….

ঋত্ত্বিক ঘটক
“এদিকে বাংলায়ে, বাংলার অভাবে মনন্ত্বর দেখা দিচ্ছে , ওদিকে ওনারা স্কচ খেয়ে নিউ ইয়ার সেলিব্রেসান মারাচ্ছে…..যত্তসব !! ”

ফেলুদা ,”তোপশে, কলকাতায়ে বো ব্যারাক অঞ্চলে খ্রীষ্টমাস ও নিউ ইয়ার সেলিব্রেসান হয় , তা খুব বিখ্যাত জানিসতো ? ”
তোপশে, “হুম, সেটা তো ওখানকার এংলো ইন্ডিয়ান দের জন্য একটা বড় উত্সব। ”
ফেলুদা, “ঠিক, কিন্তু ওই অঞ্চলে আরও অন্য এক গোষ্ঠী, এই সময় নাগাদ তাদের নব বর্ষ পালন করে, জানিস কারা ? ”
তোপশে, ” জানি, ওই অঞ্চলে এক সময় অনেক চিনা সম্প্রদায়ের লোকেদেরও বসতি গড়ে উঠেছিল এবং ওখানে এই সময় চাইনিজ নিউ ইয়ার সেলিব্রেসানও হয়ে থাকে।”
ফেলুদা,” ফুল মার্কস,তোপশে !! বিশেষত উত্সবের দিন কাগজের ড্রাগন নিয়ে রাস্তায়ে ওদের নাচটা দেখার মতন। এ ছাড়া খাওয়া দাওয়া, আতশবাজি , উপহার ইত্যাদি তো থাকেই।”
লাল মোহন বাবু , “বাব্বা, আপনারা কত জানেন মশাই! দাড়ান, এই এগুলো একটু টুকে রাখি, আগামী উপন্যাসটাতে ভাবছি প্রখর রুদ্রের ভিলেন একজন ওই কলকাতার এক চিনেকেই দেখাবো, আর গল্পের নাম হবে ‘কলকাতায়ে কুং ফুটাং’ ..হেঃ হেঃ। তবে, আমি ওই গড়পার থেকে বউ বাজার অব্দি কতবার হেঁটে গেলুম, কই একবারও এসব চিনে পরব টরব চোখে পড়ল না তো কখনও ?”
তোপশে , “লাল মোহন বাবু ওটা বো ব্যারাক, বউ বাজার নয়!!”

অনিল বিশ্বাস
“আমি তো আগের বসর, এই সময় বলেসিলাম, যে বসর ঘুরে বসর আসবে, এটা যেরকম ধ্রুব সত্য। সেরকমই আমাদের এক মাত্র, বিকল্প উন্নততর বামফ্রন্ট এও তাহার মতই একইরকম সত্য !!”

পরাণ বন্ধ্যোপাধ্যায়
“হ্যাঁ, তাহলে নতুন বছর চলে এলো তো, সবাই এবার বেশ করে আনন্দ ফুর্তি কর। এমনিতে ভালই চলছে, তবে আরো ভালো হতে হবে!! ”

চন্দ্রিল
“দিব্বি সারা রাত মোচ্ছব করে ঘুমিয়ে আছি, সকাল বেলা ত্রিং ত্রিং করে কে একটা ঘুম ভাঙিয়ে বলে ‘হ্যাপী নিউ ইয়ার’।…বোঝো….কি আর করব সৌজ্যনতার খাতিরে ঘুম জড়ানো গলায় আমিও বললাম ‘হ্যাপী নিউ ইয়ার ‘, তাতে সে বোধ হয় উত্সাহ পেয়ে ওমনি জিজ্ঞেস করে কি ‘ঘুমোচ্ছিলি নাকি…বিরক্ত করলাম?’…খুব রেগে গেলে যে হাসিটা পায় সেরকম এক গাল হাসি নিয়ে বলাম ‘না, কাল সারা রাত পার্টি করে মনে হলো, অত্যাচার হয়ে গেছে, তাই সকাল সকাল উঠে একটু ফুটবল খেলছিলাম…’ ”

বর্ষ শেষে
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments