শেষ হয়ে যাওয়া বছরের একেবারে শেষ দিনটিতে মনিটরে ফুটে উঠল ‘বাছাই চর্যাপদ ২০১৩’। সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘চর্যাপদ’ নামক বাংলা ব্লগটি পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম একটি বছর কিভাবে কাটালো, কেমন ভাবে এগোলো শেষ বারোটা মাস জুড়ে, তার ওপর এক নজর বুলিয়ে নেওয়া এর উদ্দেশ্য।

যে কোনও ব্লগের সবচেয়ে বড় সুবিধে হল, একটি নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরের মানুষজন কি ভাবছেন, কিভাবে ভাবছেন, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন ভাবছেন অনায়াসে তার অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়। কোনও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা আমাদের রোজকার জীবনে অচেনা নয়, কিন্তু স্বাভাবিক আড্ডার নিয়ম মেনে তা প্রায়শই উপলক্ষ হারায়, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, শেষে এসে তার আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায় না। আবার পত্রপত্রিকাতে প্রকাশিত বিষয়ের ওপর বেশিদিন ধরে চাপানউতোর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, সংগঠিত বিতর্কসভাও সময় মেনে শেষ হয়, ‘সব যুক্তিরই বিপরীত যুক্তি আছে’ একথায় যাঁরা বিশ্বাস রাখেন, তাঁরা মনকে শান্ত করতে পারেন না। কিন্তু ব্লগে বিতর্ক, আলোচনা চলতেই থাকে, দিনের শেষে এখানেও কোনও সিদ্ধান্তের জায়গা হয়ত অধরা থেকেই যায়, তবু গত এক মাস কি আরও বেশি সময় আগে যেখানে শেষ হয়েছিল, আজকে আবার সেখান থেকে শুরু করা চলে। এভাবেই সমৃদ্ধ হয়ে উঠি, নিত্য নতুন ভাবনা, নতুন পথের দিশা খুঁজে পাই, নিজেকে আরও একটু পরিণত করে তোলার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কিছু জিনিস। পৌঁছতে পারি তাঁদের কাছেও যাঁরা মনের আনন্দে পড়ছেন, ভাবছেন, অনুপ্রাণিত হয়ে লিখছেন, কিন্তু গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ওঠাও যে কালের একটি চাহিদা, সে কথাটা সচেতনতার সঙ্গে মাথায় রাখছেন না।

সব মিলিয়ে এ এক চমৎকার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ। ঠিক এই জায়গা থেকে যদি বিচার করতে বসি, তাহলে এই সংকলন আমার কাছে এক অপূর্ব উপহার। গত এক বছরের প্রকাশিত প্রায় তিনশো লেখা থেকে মাত্র পঁয়ত্রিশটি লেখা বেছে নেওয়া সহজসাধ্য কাজ নয়, বিশেষ করে যখন খেয়াল রাখতে হয়েছে এই বার্ষিক সংকলনটি যেন মূল ব্লগের চরিত্রটি সম্বন্ধে একটি বাস্তবানুগ ধারণা তৈরি করার ক্ষমতা রাখতে পারে। আরও একটি কথা এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হয়, তা হল, যে কোনও ব্লগেই এমন লেখা প্রচুর থাকে যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের চাহিদা মেটানোর জন্য তৈরি হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাসঙ্গিকতা হারায়। ‘বাছাই চর্যাপদ ২০১৩’-কে রূপ দিতে গিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই সম্পাদক এই সমস্ত ব্যাপারের সম্মুখীণ হয়েছেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার মোকাবিলাও করেছেন। প্রাথমিক স্তরে এই সংকলনের জন্য লেখা মনোনীত করার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছিল লেখকদের ওপরেই, ফলত তাঁরাও সুযোগ পেয়েছেন বিচারকের আসনে বসে নিজেদের লেখার বিচার করার।

যে সমস্ত লেখা প্রকাশিত হয়েছে সবগুলি আগেই পড়া হয়ে গিয়েছিল, কাজেই লেখার গুণগত মান নিয়ে বিশেষ কিছু বলার দরকার নেই। একাধিক গুণী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট লেখাগুলি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। যেটা বলার সেটা হল, এইরকম ভাবে সবার ভাল লাগা লেখাগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে একটি মঞ্চের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সামনে এগিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা সবসময়েই প্রশংসার্হ।

এবারে অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে নেওয়ার পালা। সেই দিক থেকেও এই প্রয়াস ত্রুটিহীন। সামগ্রিক ভাবে একটি পত্রিকা যেমন হওয়া উচিত এ-ও ঠিক একদম সেই রকমই। রুচিসম্মত প্রচ্ছদ, অন্দরসজ্জা এবং লেখার বিষয়বৈচিত্র্য ও বিন্যাস। পত্রিকা হিসেবে আকর্ষণীয়।

সংকলনটির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানালাম।

দু’টি প্রস্তাব –

১. ইতিমধ্যেই দু’জন এই প্রস্তাব তুলেছেন। এইটিকে ছাপিয়ে বের করা। আমি তাঁদের সাথে একমত। এবারে হয়ত সম্ভব হয়ে উঠবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তার জন্য অনুরোধ রইল।  

২. এই প্রস্তাবটিও একজন রেখেছেন। সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ ডাউনলোড লিঙ্কটিকে ডাউনলোড লিঙ্কটিকে সাইটে কোনও জায়গায় পার্মানেন্ট করে দেওয়ার।

শেষ কথা – পত্রিকাটি তৈরি করার সময় সম্পাদক আলোচকের অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সামান্য কিছু দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সে কারণে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। যদিও জানা নেই, দায়িত্ব পালনে আদৌ কোনও রকম সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি কিনা।

 

 

 

বাছাই চর্যাপদ ২০১৩

ভাবনা ও সম্পাদনা – প্রত্যয়

বাছাই চর্যাপদ ২০১৩ – কিছু অনুভব
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments