এই পর্বে লিখছেন শুভময় দাস। আইআইটি কানপুরে জৈবরসায়নের গবেষক, পিএইচডি শেষ করে পেশাদার জীবনে পা রাখার মুখে। ফোটোগ্রাফি, লেখালিখি এবং দেশ বিদেশের মিউজিক শোনার শখ রয়েছে প্রবল।

 

নগরদ্বার খুলেছ ফের তুমি পালিকা

নিজ দেহ-অবয়ব সাজিয়ে — অঙ্গ যেন

তার বিহঙ্গসদৃশ, আংশিক চোখে পড়ে,

ধূমকেতু হতে ঢেউ নিবিড় আলোকবর্তিকা

জানে সবাই কোন পথে শরীর ভাঙে — জানেনি

কেবল উচাটন মন কেমন পরকীয়ায় মজে।

বিন্দুগামী যে ভালবাসা  

বছর-কাল ভুলে চলেছে তির্যক বকেদের নিয়ে

সান্ধ্যকালীন আলোক ঊষরতা সন্ধানে — কতকটা তার

বেদনা নিমগ্ন রক্তিম ডানা পিঞ্জর কাতর বক্ষ

সাম্পান শেষে স্পর্শ-সূচক ধ্বনি তুলে

পুনরায় ডুবে যায় হিমশৈলের গর্ভদেশে,

যেমন অবিভক্ত গল্প-গাছা অব্যক্ত থাকে প্রায়শই

সে ভালগাছ কবেই মুড়িয়েছে, আমাদের আর বেশি

আশা নেই সে পথে, বরং যা কিছু এখনো

সূর্যস্নাত অম্লান — তেমন কিছু দুঃখ আর রক্তিম অন্ধকার —

রাংতায় মুড়ে বুড়ো অশ্বত্থ গাছটার পেটের ভিতর

সেঁধিয়ে যাওয়া যেত — তারপর সেই কবে নীলপাখি

খোঁজ নিয়ে উড়ে যেত দূরদেশে নগরে পালিকাবাজারে

যেখানে নীলকন্ঠ এখন শুশ্রূষা পেয়ে আকন্ঠ মদে ডুবে

বিলুপ্ত কোন নক্ষত্রমালার সন্ধানে বীতকাম – হৃদয়ের

গোপন গহীন গহ্বরে পরম নির্ভরতায় চুপিসাড়ে একদিন

তাকে দিয়েছিল বুঝি কোন নাম – পীতবাস সে ঘুমঘোরে

জড়িয়ে নিয়েছিল, মরণ এসে সেই বাস বুকের ভাঁজে রেখে

ধীর পায় ফেলেছিল নিঃশ্বাস

 

এরপর বিহঙ্গের মতো যখন সে জলাভূমি ছেড়ে উড়ে গেছে

উপেক্ষিত মানুষের ভিড়ে মিশে গেছে পালিকাবাজারে

পালিকার দেহে মননে জঙ্ঘায় বহ্নিতে — মোহমুগ্ধ অনেক

শরীরের ভিড়ে — একদণ্ড বোঝেনি হায়

কোথা হতে এসেছিল সে প্রত্যয় — অটুট এক নিঃশব্দ

যার ভিজে চুল ছড়ানো নদী থেকে মোহনায় বন্দরে

উদ্বাস্তু ক্যাম্পের পাঁজরে

আরো আছে, খোঁজ নিলে জানা যেত, যারা এখনও চড়েনি

নিলামে, এমনসব মনুরূপী শব খোসা ছাড়ালেই

এক অপার্থিব উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়ে — পালিকাবাজারে

কোলাহলে শোনা গেছে তারাও নাকি রুগ্ন

দর্শনাবিষ্ট বিহঙ্গ ভৃত্য-প্রতিভূ আরোপিত সমাধানে।

 

নিশীথ-উত্তর রাশিফল দেখে একরাশ ঘুম হাতে

আমাদেরও যাত্রা সেই পালিকাভিমুখে, ভিতরে ভিতরে  

কেবল চাপান-উতোর চলতেই থাকে —

‘নগরদ্বার কখন বোজে’?

 

বিহঙ্গ, ওরে
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments