কাল রাত্তিরে আমাদের খোলা ব্যালকনিতে বসে বিড়ি খাচ্ছিলুম। চাঁদনি রাত্তির, মনটা উড়ুউড়ু করছিল বেশ। ভাবছিলুম পড়াশুনার মোহমায়া কাটিয়ে দিয়ে ফুড়ুত করে উড়ে গেলে মন্দ হয়না। এমন সময় শুনি সাঁই সাঁই করে ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ। তাকিয়ে দেখি বিশালাকায় পাখি গোছের কিছু একখান চাঁদটাকে বেমালুম গার্ড করে সোজা নেমে আসছে আমারই ব্যালকনির দিকে। কি জ্বালা। কে আসে এই রাতবিরেতে… ব্যাটম্যান নাকি ফ্যাতাড়ু? ব্যালকনি থেকে নিচের প্রতিবেশির কার্নিশে খানিক বিড়ির ছাই ফেলে বিরক্ত মুখে উপরে তাকালাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই বস্তুটি নেমে এল আমার সামনে। তাকিয়ে দেখি ওরেশশা! এ যে বেহেস্তী হুরী! আমার কেন জানি ধারণা ছিল পরীরা দেখতে ব্যাপক হয়, আর ছোটো ছোটো জামা পরে। অ হরি, এ যে দেখি পাশের বাড়ির ঘেন্টি বৌদির মত দেখতে। আর দিব্যি সারা গায়ে জামাকাপড় পরা।
মেজাজটা একেবারে বিদিকিচ্ছিরি হয়ে গেল। তবু আশায় বুক বাঁধলুম, যদি বর টর দেয়। কোথায় কি! চড়াই পাখির মত কিচমিচে স্বরে পরী বললে – তুই নাকি ভূত প্রেত দত্যি দানো ভগবান আল্লা কোনোকিছুতে বিশ্বাস করিস না? তোর সাহস তো কম না! ওরা সব্বাই আছে। চোখে দেখতে পাসনা বলে কি বিশ্বাস করতে নেই? যাই হোক আজ আমায় স্বচক্ষে দেখলি, এরপর আর ওইসব ছাইপাঁশ লিখবি না।
ওর মেজাজ দেখে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম। বললাম আচ্ছা ম্যাডাম, আর ককখনো লিখবনা। কিন্তু ম্যাডাম, আপনি যে এসছিলেন এই গপ্পখানা লেখা চলবে কি? পরী বললে – চলবে মানে? ওটা তো লিখতেই হবে। তবে যদি তোর বেয়াক্কেলে নাস্তিক বন্ধুগুলোর একটু টনক নড়ে।
আমি বললুম – কিছু মনে করবেন না, আপনার একখানা ফোটো তুলব? ওটা দেখলে সবার বিশ্বাস হবে। পরী রাজি হল। দিব্যি ইস্মাইল করে ডানা মেলে পোজ দিয়ে ফোটো তোলালো সে। তারপর বললে – আর শোন, এই ফোটোটা শুধু তোর ওই ব্লগার বন্ধুদেরকে দেখাবি তাই নয়, ফেসবুকেও শেয়ার করবি। আর লিখে দিবি সেটা যেন সব্বাই দেখা মাত্র শেয়ার করে। নইলে ওদের একমাসের মধ্যে ভয়ঙ্কর ইয়ে… মানে সাংঘাতিক কিছু… মোটমাট ভীষণ বিপদ হবে। আর শেয়ার করলে পরে ওরা পাবে স্বর্গীয় গিফট হ্যাম্পার।
বললাম – জো হুজুরানী, সবই অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। একটা কথা… ভয়ে বলি না নির্ভয়ে বলি?
পরী বললে – ন্যাকা ছেচৈতন্য! বলে ফেল!
আমি বললুম – আজ্ঞে আপনার সব কথা তো শুনব, এই খুশিতে একখানা… ইয়ে মানে… বর…যদি দেন…
পরী বললে – মরণ! তুই কি হোমো নাকি যে বর চাইছিস? সুন্দরী বৌ চাইবি কোথায়… যাই হোক এই নে তোর গিফট, বলে আমার হাতে কি একটা ধরিয়ে দিয়ে সে এক্কেবারে "উইন্ড"।
নিজের "শক লাগা লাগা লাগা শক লাগা" অবস্থা কাটিয়ে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি মুঠিতে একখানা চিন্টু ক্যান্ডি ধরা রয়েছে।

সকালে উঠে ক্যামেরা থেকে ছবি খানা কম্পুতে ট্রান্সফার করতে গিয়ে দেখি এ কি? ছবিটা পুরোই ঝাপসা হয়ে গেছে যে? অথচ কাল তোলার পর ক্যামেরায় পষ্ট দেখেছিলাম পরীর দাঁত ক্যালানো পোজের ছবি। এ আবার কি বিটকেল ম্যাজিক! ভেবেছিলুম ছবিটা দেখিয়ে সব্বাইকে তাক লাগিয়ে দেব… মনটা করলা সিদ্ধর মত হয়ে গেল। যাই হোক, পরী ম্যাজিক খানা হিসেব করেই দেখিয়েছে। ওর খানদানি চেহারাটা ঝাপসা হয়ে গেছে বটে, কিন্তু পরী-মার্কা অবয়ব খানা দিব্যি বোঝা যাচ্ছে। ডানাদুটোও স্পষ্ট প্রতীয়মান। ভাইটাল স্ট্যাট বিশেষ ভাল না হলেও ফিগার-টি বেশ বোঝা যাচ্ছে। যাই হোক সেই ছবি দেখে আপনারা বিশ্বাস করুন ছাই না করুন, আমার কাজ তো আমায় করতেই হবে। তাই পুরো ঘটনাটা বলে ছবিখানা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। ফেসবুকেও দিয়ে দেব। এরপর ভালমন্দ আপনারা বুঝবেন।

 


ছবিখানা দেখে যদি পরী বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে না হয় তো সে আপনাদের ব্যাপার। আমায় সেকথা বলতে আসবেন না। চিন্টু ক্যান্ডির স্বাদ এখনো আমার মুখে লেগে রয়েছে।

 

বেহেস্তী হুরী অথবা স্রেফ গাঁজাখুরি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments