বন্ধু রাজর্ষি খেতে বসে বলছিলেন একদিন – এতো কিছু হচ্ছে , হয়েছে ; এতো কিছু দেখলে , দেখছ – মনে হয়না প্রচুর ছোট গল্প লেখার মশলা তৈরি হয়ে গেছে ? মাঝে মাঝে লিখে ফেলতেই তো পারো । তুমি তো লিখতে ভালোই বাসো ।

আমি বললাম – মানছি ঘটনা গুলো আটপৌরে এবং রক্ত মাংসের । এর অনেক গুলোই অসাধারণ । কিন্তু লিখে কি হবে বলতে পারো ?

রাজর্ষি বললেন – সে কিছু করেই যে কিছু হবে না সে কথা তোমাকেও নতুন করে বলার দরকার নেই , আর আমাকেও না । তবু মানুষ তো রেকর্ড রাখে কিছু ।

আমি বললাম – দেখো যেগুলো মনে রেখে ও জাবর কেটে অনাবিল আনন্দ পাই , সেগুলো লিখে ফেললে নশ্বর হয়ে যাবে না ?

রাজর্ষি বললেন – বাদ দাও । সে আশঙ্কার থেকেও বড় আশঙ্কা করি আমি ।

স্বভাবতই আমি কৌতূহলী হলাম আর রাজর্ষি অচিরেই সে কৌতূহল নিবারণ করলেন -
বললেন-
আজকের ট্রেনড কে অস্বীকার করতে পারো না তুমি , জানো তো ? অ্যাজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট আমিও পারি না । এখনকার ট্রেনড দেখেই বলছি যে ধরো আজকে হয়তো তুমি গল্প লিখলে কিছু এবং তোমার গল্প সমষ্টির নাম দিলে "গল্প – গুচ্ছ " ; ওমনি কালকেই তোমার ইচ্ছে হবে যে সেগুলোকেই স্পুফ করি ও সংকলনের নাম দিই "অল্প – তুচ্ছ "।

ঠাকুর তৈরিতে এঁটেল মাটির মহিমা নিয়ে লেখা শুরু করে শ্যাকরার দোকানের সামনের নর্দমার পাঁকের গুণাবলি দিয়ে স্টোরি শেষ করে লাভ নেই ।

তাই তোমার কথাই রইল । যা আছে , যেমন আছে থাক । ঘেঁটো না , ঘাঁটতেও দিও না ।

বিঃ দ্রঃ — মহাকাব্য হতে পারতো এমন গল্পেরা ঔরসের অভাবে না বলা রয়ে গেল ।

ভাটরেচার (চতুর্থ কিস্তি)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments