আমার ঠাকুমার আমলের শেষ দিকে, এমন কি মা-কাকিমা দের আমল শুরুর দিনগুলোতেও দেখেছি গেরস্তের বাড়িতে খানদুয়েক কুকুরছানার জায়গা হয়ে যেতোই । পাড়ায় কুকুরের বেশি সংখ্যায় বাচ্চাকাচ্চা হলেও তাদের ঠিক একটা গতি হয়ে যেত এ বাড়ি – সে বাড়িতে । কালু – ভুলু – কালটু – জিমি রা এভাবেই বাড়িতে এসেছে।বাড়িতে এসে সংখ্যায় বাড়লে , বাড়তি কুকুর একে তাকে দিয়ে দেওয়াও  হয়েছে। বৃহত্তর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবেই থেকে যেত ওরা। আজকে এই ফ্ল্যাট কালচারের যুগে এবং  মানুষের শশব্যস্ততার যুগে মানুষ সময়ে সময়ে সন্তানই নিতে চায়না , আর কুকুর কি পুষবে ! এখন আমাদের পাড়ায় রাতভর শুনতে পাই তিন-চার মাস বয়েসের কুকুরছানা গুলো কাঁদছে । এদিকে বাড়ন্ত বাচ্চাদেরই খাবার জুটছেনা , আর খিদেয় কাতরানোর জন্যে প্রতি বছর দু দফা বংশবৃদ্ধি হয়ে চলেছে রোডেশিয়ান দের । একটু বড় হয়েছে যেগুলো , তাদের দাঁতে জোর হয়েছে বলে মায়ের দুধও ইদানিং আর জোটে না । ছানাগুলোর কান্নার তীব্রতা বাড়লে এক আধ খানা বেঁচে যাওয়া রুটি টুকরো করে ছড়িয়ে দিয়ে বারান্দার দিকের জানালা- দরজা বন্ধ করে ভেতরের ঘরে চলে আসি। ওদের কান্না আমাদের থেকে দূরেই থাক, আর আমাদের সহমর্মিতাও ওদের বদভ্যেস না হওয়াই মঙ্গল । মায়ের জীব, মা-ই বুঝে নেবেন খন । 

ভাটরেচার (তৃতীয় কিস্তি)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments