মাঝে মাঝে মনে হয় সবাই ঠিক বলছে , আমি বাদ দিয়ে । আবার কখনো মনে হয় বাকি সকলেই বেঠিক , সেই আমি বাদ দিয়ে । বাকি সবাই এবং আমি – এই প্রাতিপাক্ষিক ফরমুলা-র বাইরে আর কিছুতেই বেরোতে পারছি না।অন্ততঃ মনে মনেও একটা দল পাকাতে পারছিনা, কারণ বেশ কিছু চুল সাদা করে ফেলা বেশ কদিনের জীবনে দেখলাম, শিখলাম যে একটা দল মানেই আসলে ধান্দা। আর সব রকমের ধান্দার কথাতেই ভীষণ বমি পায়। যেমন আগে গরমকালে দূরপাল্লার ট্রেনের স্লিপার ক্লাসে চড়লে ভর দুপুরে রবার পোড়া গন্ধে বমি পেতো , ঠিক তেমন করেই । গত ছুটিতে  মা দুপাতা বমির ট্যাবলেট হাতে দিয়ে বললেন, থিসিস সংক্রান্ত বাকি পেপার গুলো ঠাণ্ডা মাথায় শেষ করে নিস। এ কথা শুনেই আবার স্যারের কথা মনে পড়ল। বেঢপ ফন্ট সাইজে মনে পড়ল একটাই শব্দ – ধান্দা ! কানেও শুনলাম , সে শব্দের ভল্যুম ফুলস্কেলের ৯৫% প্লাস ! গা পাক দিয়ে উঠে মাথা ধরে গেল । ছুটলাম বেসিনে। মনে পড়লো , বাবার কাছে শরীরের খবর নিতে এসে হাতে টুক করে ঠিক এক কপি গণশক্তি ধরিয়ে দেওয়া শক্তি কাকুর মুখের দিকে তাকিয়েও বেসিনের দিকেই ছুটেছিলাম ।
টি ভি খুলে পাওয়ার ব্রেসলেটের বীভৎস বিজ্ঞাপন দেখে আরও একবার । আমি এবং আমরা সবাই আসলে বমনের জন্যেই বেঁচে আছি । ভেতরে কারোরই বিন্দুমাত্র লাভা নেই , তাই কাউকেই ভিসুভিয়াস বলে গরিমান্বিত করার উপায় নেই । আমরা নিছক গ্লাটন । হজমখমতাহীন গ্লাটন । ঠিক যেমন সময় ধারায় বয়ে হাত বেয়ে নেমে, কাস্তে ছুঁয়ে শেষে রূপসী বাংলার উর্বর মাটিতে জোড়া ফুল হয়ে আবির্ভূত হওয়া ভগবান বিষ্ণুর প্রমোটার অবতার 'ছোটন' ।
বড় অনর্থক খিদে আমাদের। খাচ্ছি -বমি করছি – আবার খাচ্ছি – আবারও বমি করছি । উদ্গীরনের জন্যেই আমাদের যাবতীয় গলাধঃকরণ , জীবনধারণের জন্যে নয় ।
শেষের কথাটি বলার সময় অবশ্য মনে হচ্ছে, এবং তা বেশ জোরালো ভাবেই , যে- বাকি সকলেই বেঠিক , ওই আমি বাদ দিয়ে ।

ভাটরেচার (পঞ্চম কিস্তি)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments