বা তোমার কাল আমার কাল, মেগাসিরিয়াল মেগাসিরিয়াল। এছাড়াও আছে। মেগাসিরিয়াল জিন্দাবাদ বা বন্দে মেগাম্। এই সমস্ত স্লোগান তৈরি হয়েছে আমার জন্যই আমার ভক্তদের দ্বারা। তবে মেগাসিরিয়াল অমর রহে এই স্লোগানটা কখনোই তৈরি হবে না, কারন এনেছি সাথে আমি মৃত্যুহীন প্রান। আমি জন্ম থেকেই চলতে শুরু করেছিলাম। কি বললেন? কোথায় যাচ্ছি? আশ্চর্য প্রশ্ন। শোনেননি রবি ঠাকুর লিখেছিলেন – ‘ঝর্না যেমন বাহিরে যায় / জানে না সে কাহারে চায়’? আমিও সেই রকম। মানে কোথায় যাব জানা নেই, শুধু আছে পাঁইপাঁই দৌড়। ‘চরৈবতি’ এই কথাটা আমার জন্য প্রযোজ্য। স্বামী বিবেকানন্দ ভেবেছিলেন নতুন ভারতবর্ষ বেরিয়ে আসবে ধনীর প্রাসাদ থেকে, গরিবের কুটির থেকে। এইটুকু ভাবাতেই তো আর কাজ শেষ হয় না, এই নতুন জিনিসটিকে যে কে বের করে আনবে সে বিষয়েও তো কিছু ভাবার ছিল। আমি ভাবিনি। কাজে নেমেছি এবং সাফল্যের সঙ্গে পালন করে চলেছি সেই দায়িত্ব। জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং আরও যত রকম ভেদাভেদ মানুষে মানুষে সম্ভব, সব নির্বিশেষে, যারাই কানে শুনতে পায় আর কথা বুঝতে পারে, তারাই আমার দিকে মুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকে। আমার সর্বাঙ্গে ঝাঁ চকচকে আধুনিকতা আর কুসংস্কারের মিশ্রনের আনুপাতিক হার, যাকে বলে লা-জবাব। একই অঙ্গে সব কিছু। উপনিষদের ঋষিবাক্য থেকে অত্যাধুনিক ট্যাব, প্রাচীন থেকে নবীন আমি বিনা আয়াসেই আত্মস্থ করেছি বলব না বরং বলা ভাল করতে হয়েছে। দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে। গর্ব করতে চাই না, এই ভারতবর্ষেই অনেকে দেশীয় ব্যাপার সম্বন্ধে অজ্ঞ ছিল। আমি সেটা তাদের শেখাতে পেরেছি। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি বাঙালিদের আমি শেখাতে পেরেছি করবা চৌথ, ধনতেরাস। অবশ্য সবটাই আমি একা করেছি বলব না, আমার বন্ধু বিজ্ঞাপন-ও আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছে। তারপর দেখুন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব জানিয়েছিলেন যে লজ্জা, ঘৃণা, ভয় এই তিনটে ত্যাগ করতে না পারলে ঈশ্বরলাভ হয় না। আমার দৌলতে অনেকেই লজ্জা আর ভয় ত্যাগ করতে পেরেছেন। যেমন – বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। ভেবে দেখুন আমার জন্যই অনেক মানুষ ভগবানকে পাওয়ার রাস্তায় দুই-তৃতীয়াংশ এগিয়ে গেছেন। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন আমি বর্তমানের সময়াল্পতায় ভোগা মানুষের জন্যে পুরনো জিনিসগুলিকেই সময়োপযোগী করে পেশ করে তাদের চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন করছি। শিশুদের যেমন খেলার ছলে সব কিছু শেখাতে হয়, সেইরকম একই পদ্ধতিতে রোজ সন্ধ্যেবেলা ছোট ছোট ভাগে আমি এসব শিখিয়ে থাকি। ভাল শিক্ষকের গুণ হচ্ছে সর্বাপেক্ষা পিছিয়ে পড়া ছাত্র বা ছাত্রীকে একই জিনিস বারবার অভ্যাস করিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আমিও একই জিনিস রোজ সন্ধ্যেবেলা সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে জীবনের পাঠ দিই। কালিদাস রায় লিখেছিলেন – বর্ষে বর্ষে দলে দলে নতুন নতুন ছাত্র-ছাত্রী আসতে থাকে। আমার অবশ্য দিনে দিনে এই ঘটনাটাই ঘটে। ফলে প্রত্যেকদিন আমাকে শুরু থেকে শুরু করতে হয়। সেই কারনেই আমাকে নিত্য নতুন আমি সৃষ্টি করতে হয়। অর্থাৎ আমিরূপী বহু। আমি যত পুরনো হই ততই আমি শিবপুরের সেই বিখ্যাত বটগাছের মত হতে থাকি। কোনটা যে গুঁড়ি, আর কোনটা যে ঝুরি বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে ওই আমিরূপী বহু আবার অন্যভাবে একীভূত হয়ে যায়। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ কোনও একটা বহু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে আবার নতুন বহু তৈরি হয়ে যায়। অনেকটা যেন আত্মার জীর্ণ বস্ত্র ত্যাগ করে তড়িঘড়ি নব বস্ত্র ধারণ। কেউই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন না কি বলতে চাই। ঠিক ধরেছেন। আমাকে কেউ বুঝতে পারে না। অধিকাংশই শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে খুব বুঝেছি ভাব নিয়ে টিভির পর্দার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে বোকার মত। যেটা আমার বয়ানে এসব লিখছে সেটাও। তবে সব কিছুর একটা ব্যতিক্রম থাকে, এখানেও আছে। কিছু ঘাড়ট্যারা এখনও আছে যারা আমায় দু’চক্ষে দেখতে পারে না। কিন্তু কি জানেন সাফল্যের কাজই এই, অনিচ্ছেতেও শত্রু তৈরি করে ফেলে।

ভুলতে পারি প্রিয়ার গাল, ভুলছি না মেগাসিরিয়াল
  • 3.00 / 5 5
1 vote, 3.00 avg. rating (71% score)

Comments

comments