বাড়ি খালি। স্কুলে পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুত্রের তাড়নায় তাঁর মাতৃদেবী তাঁকে নিয়ে মামার বাড়ি গেছেন হপ্তা খানেক হল। শুয়ে বসে ভালই দিন কাটছে। হাতে সে রকম কোনও কাজ নেই। কয়েকদিন এত বেলা করে ঘুম থেকে উঠেছি যে হতচ্ছাড়া ঘুমও আর আসছে না। তায় আবার শনিবার, ছুটির দিন। কি করি, কি করি ভাবতে ভাবতে একটা বই নিয়ে পাশবালিশটাকে মাথায় দিয়ে শরীরটাকে এলিয়ে দিলাম। কিছুটা পড়েছি, হঠাৎ মনে হল ঘরে কেউ ঢুকেছে। চোখ তুলে দেখি আমারই বিছানাতে একজন বসে আছে। মাঝবয়সী, দোহারা চেহারা, আশু মুখুজ্জ্যের মতো গোঁফ, মাথার চারধারে চুল মধ্যিখানে টাক, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, সঙ্গে একটা নোয়াপাতি ভুঁড়ি আর পরনে ফতুয়া-লুঙি। নির্ঘাত রান্নার মাসি আবার গেটের তালাটা না দিয়ে বেরিয়ে গেছে। কতবার বলেছি তালা না আটকাতে পারলে আমাকে ডাকতে। আসুক একবার কালকে। ‘কি ব্যাপার? কে আপনি? কি চাই? বাড়িতে ঢুকেছেন কেন?’ বলে চড়াও হতে গিয়েও থেমে গেলাম। কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। চিনতে পেরেই লাফিয়ে উঠলাম। তাড়াতাড়ি করে পায়ের ধুলো নিয়ে একটু জিভে ঠেকিয়ে মাথায় দিলাম
 

- আরে গুরুদেব আপনি?
 

গোঁফের ফাঁকে মুচকি হাসি সহ উত্তর এল
 

- আমাকে তুই চিনিস?
- কি যে বলেন স্যর, আপনাকে চেনে না এই রকম বাঙালি এই ধরাধামে কেউ আছে নাকি?
- বল তাহলে আমি কে
- উত্তমকুমার
 

স্ফূর্তির চোটে গান বেরিয়ে এল – সব হিরোর সেরা বাঙালির তুমি উত্তম
 

- থাম থাম, হাঁড়িচাচার সর্দি হলেও তোর মত গলার আওয়াজ বের হয় না
 

ধমক খেয়ে গান থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
 

- কিন্তু স্যর, আপনি এই বেশে এলেন কেন?
- আমাকে দেখেছিস আগে কোনও দিন?
- না স্যর, আপনাকে রক্ত মাংসের শরীরে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি, আপনি যখন দেহ রেখেছেন তখন আমি আট বছরের বালক মাত্র, আপনার নাম করলেই মা যাকে ভাল বাংলায় বলে রোষকষায়িত নয়নে, সেই ভাবে তাকাতেন। তবে স্যর আপনার কত ছবি যে বড় হয়ে দেখেছি, গগলস পরে আপনি, ধুতি পাঞ্জাবি পরে আপনি, স্যুটেড বুটেড আপনি, এই তো স্যর, সেদিন আপনার জন্মদিন গেল, আপনাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সবাই ফেসবুকে যার যার দেওয়ালে ছবি দিল, রঙিন ছাতা মাথায় সাদা টি-শার্ট আর হাফ প্যান্ট পরে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন। আপনাকে মিথ্যে বলব না, কার যেন দেওয়াল থেকে ঝেড়ে দিয়ে আমিও ছবিটা আমার নিজের দেওয়ালে সেঁটেছিলাম। কত বলব? তারপর স্যর সাগরিকা, হারানো সুর, পথে হল দেরি সুচিত্রার সাথে আপনার এসব বই, উফ স্যর জাস্ট ভাবা যায় না। আমরা তো এও জানি আপনি রান্নাতে কোন কোম্পানির গুঁড়ো মশলা দিতে বলতেন। বছর কয়েক আগে একটা সিনে-ম্যাগে আপনি যে ডাইরিতে শ্যুটিং শিডিউল লিখতেন সেটার বেশ কয়েকটা পাতার ছবি দিয়েছিল। সঙ্গে এক্সপার্ট কমেন্ট – আপনি যখন লিখছিলেন তখন আপনার মানসিক অবস্থা কি রকম ছিল, আপনার বিপি কত ছিল
 

হঠাৎ খেয়াল হল উল্টো দিক থেকে কোনও সাড়া শব্দ নেই। তাকালাম। গোঁফের ফাঁকে সেই মুচকি হাসি।
 

- আচ্ছা এবার বল তো, এখন যে ড্রেসে দেখছিস, সেই ড্রেসে আগে কখনও দেখেছিস
- দেখেছি তো, না হলে বুঝলাম কি করে আপনি উত্তমকুমার। এটা তো আপনি ব্রজবুলি-তে পরেছিলেন। তবে স্যর ওই যে বেলবটম আর পাঞ্জাবি পরে, মাথায় লম্বা চুল, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, হাতে গিটার নিয়ে মান্না দে’র গানে আপনি লিপ দিয়েছিলেন বোম বোম বোম বো বোম বোম বো বোমভোলা, কাঁধে নিয়ে লোটা কম্বল নিয়ে চল লছমনঝুলা……
- থাম, আবার হেঁড়ে গলায় চিৎকার করছিস?
- কি করব স্যর? গান পেলে আমি না গেয়ে থাকতে পারিনা
 

কাঁচুমাচু হয়ে বললাম
 

- অনেকক্ষণ ধরে তোর বুলবুলানি শুনছি। ব্রজবুলি কি জানিস?
- কেন জানব না? রূপদর্শীর লেখা গল্প 
 

এ পর্যন্ত শুনে উত্তমকুমারের ভ্রূ কুঁচকে হাসিটা উধাও হয়ে গেল দেখে আমার একটু খটকা লাগল। বললেন
 

- কি বলছিলি আরেকবার বল
- ঐ বলছিলাম আর কি ব্রজবুলি বইটা রূপদর্শীর লেখা গল্প থেকে…
- কানের গোড়ায় খেলে বুঝবি কার লেখা গল্প
- কেন স্যর উনিই তো……
 

আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করলাম। বুঝতে পারলাম কিছু একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছি, যদিও কি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। ব্রজবুলি বলে একটা ভাষা আছে জানি, কিন্তু হচ্ছিল তো সিনেমার কথা! তবে কি…
 

- ওরে গবেট, উত্তমকুমারই যদি তোর সামনে হাজির হবে তো এই সব ধড়াচুড়ো পরে কেন আসবে এই সোজা হিসেবটা তোর মাথায় ঢুকল না? আমিই ব্রজরাজ কারফর্মা, যার জীবনকাহিনি তুই গল্প বলে জানিস, উত্তমকুমার সেজে এসেছি। ভেবেছিলাম চিনতে পারবি। তুই মাথামোটা জানা ছিল কিন্তু এতটা জানতাম না
সত্যি এটা তো ভেবে দেখেনি। ঝাড় খেয়ে মূর্খতা সাময়িক অপগত হতেই মাথায় ঢুকল যে ভুল একটা নয়, তিনটে। প্রথম ভুল – ব্রজদাকে উত্তমকুমার ভাবা, দ্বিতীয় – ব্রজদার জীবনকাহিনিকে গল্প বলা আর সবচেয়ে বড় ভুল – ব্রজদার সামনে উত্তমকুমারকে গুরুদেব বলা। তাড়াতাড়ি করে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার জন্য বলে উঠলাম
- স্যর, এটা কিন্তু আমাদের অন্যায়
- কোনটা?
- এই যে আপনার মত প্রাতঃস্মরণীয় একজন মহাপুরুষের ছবি কোনও বাঙালির ঘরে দেখা যায় না
- আমাকে তোর অফিসের বস ঠাউরেছিস নাকি?
 

এই রে! আবার নিশ্চয় কোনও একটা কেলো করে ফেলেছি। দুটো হাত কচলে হাসি হাসি মুখে বললাম
 

- কি যে বলেন স্যর, আমার কি সে সৌভাগ্য হবে? একটা গোটা জাতির বস আপনি
- তাহলে তেলাচ্ছিস কেন? এতক্ষণ উত্তমকুমার ভেবে তেল মারছিলি, এখন বলে দেওয়ার পর আমাকে। শোন এই সব তেলানি আমি একদম পছন্দ করি না। নিজেও জীবনে কাউকে তেল দিই নি, আর কারও কাছে খাইও না।
- স্যর আপনি না…
- এই তুই স্যর স্যর করবি না, যত সব স্লেভ মেন্টালিটি। হয় ব্রজদা বল, না হলে কিছুই বলবি না। এ ঘরে তুই আমাকে ছাড়া আর কাকে দেখছিস যে তোর সঙ্গে কথা বলছে? কি যেন বলছিলি? হ্যাঁ আমার ছবি। শোন জানিস বোধ হয় আমি একজন ফটোগ্রাফার কাম সাংবাদিকও। লোকে যদি আমায় ছবি দেখে চিনে ফেলে তাহলে আমি না পারব ঠিকঠাক খবর সংগ্রহ করতে না ছবি তুলতে। সবাই আমায় দেখলেই কশাস হয়ে যাবে। এখনকার দিনের মত সাংবাদিক স্টার হয়ে উঠল, এসব যদি করতাম তা হলে আর তোরা কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে কোনও দিনই জানতে পারতিস না। সেই জন্যেই কাউকে কোনোদিন আমার ছবি তুলতেই দিই নি।
 

প্রসঙ্গ অন্যদিকে নেওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলাম 
 

- স্যর থুরি ব্রজদা কিছু খাবেন?
- কি খাওয়াবি?
- বলুন, অরেঞ্জ শনপাপড়ি, গাঠিয়া, সল্টেড কাজু, চানাচুর, মুগডাল ভাজা সব আছে। আর যদি একটু বসেন তাহলে দোকান থেকে চপ বা শিঙাড়া সাথে একটু মিষ্টি, আপনি যা বলবেন নিয়ে আসি
- ন্যাকামির একটা সীমা থাকে বুঝেছিস
 

এবার মাথাটা একটু গরম হয়ে গেল। কি ন্যাকামি করেছি! কিছু বললাম না
 

- আসল জিনিসটা না বলে আবোল তাবোল বকছিস
- কোন আসল জিনিস?
- গাঠিয়া, সল্টেড কাজু, চানাচুর, মুগডাল ভাজা এইগুলি দিয়ে কি তোর পিন্ডি চটকানো হবে? অ্যান্টিকুইটি ব্লু-এর যে বোতলটা রেখেছিস সেটার জন্যই তো তোর এত আয়োজন, ঠিক কিনা?
 

সর্বনাশ করেছে। জানল কি করে? আমি নিজেই ওটাকে চোখের বাইরে রাখি, মন খুব উতলা না হলে বিয়ার, ভদকা অভাবে জিন দিয়েও কাজ চালিয়ে নিই, একদম টিপে টিপে খরচ করি। আজকে ভেবেছিলাম একবার…… ধুর, যা হবে হবে দেখা যাবে। খড়কুটো ধরে আমি বাঁচার চেষ্টা করলাম। খুব গম্ভীর হয়ে বললাম
 

- এই হপ্তায় বউ নেই বলে কোটাটা ওই সোম, মঙ্গল বুধেই শেষ হয়ে গেছে
- কিসের কোটা?
- হপ্তায় সাত পেগ
- কে বানাল?
- আমার বউ
- অ। তা তুই ভদ্রভাবে বের করবি না আমাকে ওঠাবি?
 

অগত্যা আমাকেই উঠতে হল। ব্রজদা একটা বিড়ি ধরালেন। ব্যাজার মুখে বোতলটা বের করে ওটার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকালাম। এখনও প্রায় পঁচাত্তর ভাগই রয়েছে। কে জানে কতটা থাকবে? কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হল। কেন যে আগেই শেষ করে ফেললাম না। ট্রে সাজালাম। জানাই ছিল ব্রজদা সোডা বা লাইম কিছুই নেবেন না। আমারও লাগে না। শুধু বরফ নিলাম। ‘চিয়ার্স’ দুটো হাত উঠল। ব্রজদার হাসি মুখ। আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। একটা চুমুক দিয়ে ব্রজদা মুখ খুললেন
 

- শোন এমন একটা স্কিম বানিয়েছি না পৃথিবীতে আর মদের অভাব থাকবে না
 

এত দুঃখেও আমি একটু উত্তেজিত হয়ে পড়লাম।
 

- কি রকম?
- অ্যাকুইলা নাম শুনেছিস?
- কি কিলা বললেন?
- কিলা না, এ কিউ ইউ আই এল এ, অ্যাকুইলা । 
 

আমি মরছি হুইস্কির শোকে, আর এখন যত গালগল্প। খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললাম
 

- না, ওসব অ্যাকুইলা ফ্যাকুইলা শুনিনি
- সেটা তোর মুখ দেখেই বুঝেছি। শোন ওটা একটা গ্যালাক্সি। ওখানে একটা মেঘ আছে যাতে চার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন লিটার ইথাইল অ্যালকোহল আছে। চারের পেছনে চব্বিশটা শূন্য। আর যদি ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ফলো করিস তাহলে বারটা শূন্য আরও বাড়িয়ে নে।
 

সবে একটা চুমুক দিয়েছিলাম, একটা ‘হিঁক’ শব্দের সঙ্গে তার আদ্ধেকটা বেরিয়ে এল।
 

- এতেই বিষম খেলি? তা তোর আর দোষ কি বল? বড় কিছু চিন্তা করতেই শিখিস নি। বুঝলি, ওই মেঘটাকে নিয়ে আসব। প্রসেস করে ট্রপোস্ফিয়ারে আপলোড করে দেব, তারপর প্রোগ্রামিং অনুযায়ী বৃষ্টি নামবে। পুরোটাই অটোমেটেড। ম্যানুয়াল কিছু রাখিনি। তারপর নে, খা, কত মদ খাবি
 

আমি একটু ধাতস্থ হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
 

- মেঘের কথাটা জানলেন কি করে?
- তোর মত কূপমণ্ডূক নই, তাই জানি। তুই তো জানিস আমি যোগবলে মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াই, লাস্ট টাইমে গিয়েছিলাম ওখানে তখনই চোখে পড়ল। সোজা আর্কটিক পোলে ল্যান্ড করে রিসার্চ ওয়ার্ক আর কিছুটা এক্সিকিউশন শেষ করে ভাবলাম একবার মাতৃভূমিতে যাই। কম্পাসের একটা গোলমালে তোর এখানে এসে পড়লাম। যাক গে, গাধা গরু যাই হোস না কেন, আফটার অল বাঙালি তো। অ্যান্টিকুইটির জন্য কান্নাকাটি না করে ব্যাপারটা ভাল করে বুঝে নে। ডিস্ট্যান্স ওই ধরে নে অ্যারাউন্ড টেনকে লাইটইয়ার্স। কুলিং চেম্বারের কাজ আর একটু বাকি আছে। আদার্স মেসিনারিজ কমপ্লিট। মেঘ নিয়ে আসতে গেলে একটা স্পেসএলিফ্যান্ট লাগে, সেটার ডিজাইন তৈরি হয়ে পড়ে আছে।
- স্পেসএলিফ্যান্ট!? স্পেসশিপ শুনেছি
- স্পেসএলিফ্যান্ট শুনতে গেলে কলজের জোর লাগে। তোর মত চিকেনহার্টেডরা শিপ নিয়েই মাতামাতি করে। মহাকাশবিজ্ঞানে একটা অবদান রাখা আবার একই সঙ্গে সালভাদোর দালিকে সম্মান জানানো, দুটোই হয়ে গেল। ভাবতে পারছিস কত দিক খেয়াল রাখতে হয় তোদের এই ব্রজদাকে। যাক গে, এবার প্রজেক্টটা শোন
 

বোতলটার দিকে একবার তাকালাম। আমি এতক্ষণে মাত্র দু’পেগ খেয়েছি, তাতেই যা ছিল তার আদ্ধেক শেষ। মেঝেতে অর্ধভুক্ত বিড়ির স্তূপ। ব্রজদা আউট হয়নি এটা পরিষ্কার। আড়চোখে একবার আমায় দেখে আবার শুরু করলেন
 

- ছ’টা মেইনস্ট্রিম কন্টিনেন্ট। প্রত্যেকটায় দু’মাস করে মদের বৃষ্টি। সিজনে স্টোর করে বাকি বছর চালাবে। এরিয়া ওয়াইস সার্ভে কমপ্লিট। বাকি ডিটেল, ধর পার্টিকুলার কোন অঞ্চলে কতটা বৃষ্টি, কোন ক্যাটেগরিতে কতটা অ্যালকোহল ইউজ করব, আরও কিছু কিছু আছে, ওই ম্যাক্রো পার্টগুলি অ্যাকুইলা যেতে যেতে এলিফ্যান্টে ডিসাইড করে নেব। কারণ নো ম্যানস ল্যান্ডে মদ ঢেলে তো আর লাভ নেই
- আর ধরুন যেগুলি ড্রাই স্টেট
- ওসব লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হেডেক, লোকালিটিতে বৃষ্টি হবেই। কোথায় ড্রাই স্টেট, কে মেথিফোবিক, এইগুলি খুব সিলি ইস্যু 
- মেথিফোবিক! মদের সাথে মেথিরও বৃষ্টি হবে নাকি? 
 

একবার কটমট করে তাকিয়ে ব্রজদা আবার শুরু করলেন
 

- জলাতঙ্ক বুঝিস?
- সে কে না বোঝে? পাগলা কুকুর, বাঁদর, বেড়াল এসব কামড়ালে হয়
- সেই রকম একটা অ্যালকোহলাতাঙ্কও হয়। তাকে বলে মেথিফোবিয়া। ঢুকেছে মগজে মদের সাথে মেথির সম্পর্ক? এবারে বাকিটা শোন। পুরো মেঘটা একেবারে আনার দরকার নেই, পার্টে পার্টে নিয়ে আসব ঠিক করেছি। ফালতু ইনভেন্ট্রি হোল্ড করে রেখে লাভ নেই। পয়সা না লাগলেও, জায়গাটা তো একটা ইস্যু। স্পেসএলিফ্যান্টের ফুয়েল একটু বেশি খরচ হবে, তবে তা এমন কিছু হাতিঘোড়া ব্যাপার নয়। চিন্তা করিস না, স্যামপ্লিংটা তোদের এই সুখচরেই করব।
 

ওহ্! মদের বৃষ্টি!! সুখচরে স্যামপ্লিং!!! তারপরে প্রতি বছরে দু’মাস!!!! সব দুঃখ ঘুচে গেছে!!!!! ইচ্ছে হল গেয়ে উঠি ‘মদ্য পানের বিরুদ্ধে যারা তাদের মাথায় পড়ুক বাজ’, কিন্তু সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বহু কষ্টে নিজেকে সংবরণ করলাম। ব্রজদারও দেখছি মনে নেই আমি উত্তমকুমারকে গুরু বলেছিলাম। কি দরকার মনে করানোর
 

- ব্রজদা, বেরিয়ে পড়ুন
- না, খোকা। বেরিয়ে পড়লেই হবে না, প্রিজার্ভেটিভের স্টকটা কে বানাবে, স্পেসএলিফ্যান্ট ছাড়া গেলে আনবই বা কি করে? আগে ওই দুটো রেডি করে ফেলি, তারপর পুজোর পরে পরেই রওনা হব।
 

বলেই ব্রজদা হাতজোড় করে কপালে ঠেকিয়ে নিলেন। আমি বললাম
 

- সেটা ঠিক। স্পেসএলিফ্যান্ট ছাড়া গিয়ে কি করবেন। আচ্ছা কি প্রিজার্ভেটিভ ইউজ করবেন? সালফার ডাই অক্সাইড?
- তোর মাথা আর আমার মুন্ডু। তোকে বলে কোনও লাভ হবে না, তবুও বলি। নিওবিয়াম পেন্টাক্লোরোনাইট্রেট মোনোইথাইল-অক্টাপটাশিয়াম কোকারফর্মাটিটানেট উইথ টু অ্যালিফ্যাটিক অ্যামাইন। এই হল ব্রজস এজেন্ট ফর অ্যালকোহল প্রিজার্ভেশন। শর্টে বিএএপি বা বাপ। একবার ভেবেছিলাম পেটেন্ট নিয়ে নিই, তারপর ভাবলাম, পৃথিবীতে কি আর সে ব্রেন আছে যে এ জিনিস ঝাড়বে, সেজন্যেই আর কিছু করলাম না। ওটা নিয়ে যেতে হবে। মেঘে স্প্রে করে তবে এই গ্যালাক্সিতে আনতে পারব। দ্য আইডিয়া……
 

ব্রজদা আকস্মিক ভাবে লাফিয়ে উঠলেন। ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম
 

- কি হল?
- দ্য আইডিয়া। কুলিং চেম্বারটার একটা মডিফিকেশন দরকার ছিল, পেয়ে গেছি। উঠি এখন
 

বলেই ব্রজদা এগিয়ে গেলেন। হঠাৎ মনে পড়ল আসল কথাগুলি মানে স্পেসএলিফ্যান্টটার স্পিড কত, ফুয়েল কি, কবে থেকে বৃষ্টি শুরু হবে, এসব কিছুই তো জানা হল না। ‘ব্রজদা ব্রজদা, আরেকটা কথা, স্পেসএলিফ্যান্টটার স্পিড, ফুয়েল এইগুলি তো বললেন না’ বলতে বলতে দরজার দিকে দৌড়ালাম। ‘আর সময় নেই, ব্রুজুলে সার্চ করে নিস, সব জানতে পারবি’ বলেই ব্রজদা ধড়াম করে আমার মুখের ওপর পাল্লাটা বন্ধ করে দিলেন। আমি চোখে সর্ষেফুল দেখলাম। 
 

ধীরে ধীরে হলুদ রং ফ্যাকাশে হতে হতে সাদা হয়ে এল। টিউবলাইটটা জ্বলছে। খাটের ধারে এসে বেমক্কা ধাক্কা খেয়েছি। কোনক্রমে এদিক ওদিক হাতড়ে চশমাটা পেলাম। দেখি ঘড়িতে রাত সাড়ে ন’টা।

মদীয় সমস্যার ব্রজীয় সমাধান
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments