এমন অনেক অভ্যেস আছে
যার বুকে বয়োবৃদ্ধির সিলমোহর বসে না কোনদিন ।
পুরনো দিনের মতো শীতের কাকভোরে
এখনো চোখ মেলে দেখি পূরবী আকাশ ।।
ঠিক আগের মতোই ধীরলয়ের আশাবরী রাগ শুনে
ঘুম ভেঙে জাগে নিটোল, নরম নবারুণ ।।
মোলায়েম, রক্তজবারঙ্গা তার দ্যুতিছটায় আড়মোড়া ভেঙে
ভোরের টাটকা হাওয়ায় চঞ্চল হয় স্মৃতিকোষের পৃষ্ঠারা ;
পাতাঝরার, পাতা সরার শিরশিরে শব্দ কানে ভরে নিয়ে
বিমোহিত আমি অতীতে যাত্রা করি ।।
দেবদারু-নিমের কচি সবুজ পাতা ছুঁয়ে এসে ,
ঝাউয়ের ডালে ডালে খেলা শেষে
মন-সিন্দুকের গহনে সন্তর্পণে ঢোকে ঊষাকিরণ ।।
জাদু আলোর পরশে জাগে সুপ্রাচীন সুখস্মৃতি ,
স্মৃতিপটে জীবন্ত হয় শিশুকালের শীতের সকাল ;
ঢাকা ছিল যে সময় বহুকাল ধরে
দেওয়ালের বুকে শোভা পাওয়া নতুন- পুরনো দিনপঞ্জিকা,
বাহারি গ্রাফিতি ,
আরাধ্য ভগবান-নায়ক-গায়কের তারুণ্য
ও বিশালতার আড়ালে ।।
খুব মনে পড়ে মায়ের স্নেহপ্রবল সান্নিধ্য,
প্রাতঃরাশের টেবিলে খুনসুটি ,
চামচ দিয়ে একটু করে খাওয়া
মাদ্রাজী হাঁসের আধা-সেদ্ধ ডিমের তুলতুলে হলুদ-লাল স্বাদু কুসুম ।।
মনে পড়ে যায় বাবার বাইকের পিছনের সিট ,
কুয়াশা ঢাকা রাস্তা জয় করে বীর রাজপুত্রের মতো ইশকুলে যাওয়া ,
এলোমেলো হাওয়া,
ওলটপালট হওয়া সযত্নে আঁচড়ানো চুল ।।
এখনো মনে পড়ে
রাসমনী ঘাটে ভোরের নৌকো ,
খয়রা-কাজরি-বেলে-পাবদা- পাঙাশ ভরা ডেকচি ,
সকালের দর হাঁকডাক ,
জিমখানার মাঠের পাশে ক্ষেতফেরত চাষিভাইদের ভিড় ;
ভোরের ট্রেনের লোকালয়- চেরা শব্দ,
কাগজকল- পাটকলে শ্রমিক আর যন্ত্রপাতির শোরগোল ,
আর্দালি-বাজার মসজিদের উদাত্ত আজান ,
গোশালার মোড়ে সাইকেলের ভিড়, ক্রিং-ক্রিং ,
দুধপাত্রের ঠোকাঠুকি , ঠুং-ঠাং ,
গরু-বাছুরের আন্তরিক স্বজাতীয় সওয়ালজবাব -
এই সেদিনের কথা মনে হয় ।।
গুড় জাল দেওয়া চায়ের এলাচি ধোঁয়ার নেশায়
মনে পড়ে সেইসব দিন ।।

মনে পড়ে সেইসব দিন
  • 4.50 / 5 5
2 votes, 4.50 avg. rating (87% score)

Comments

comments