তুমি ঘুরতে ফিরতে গাইছ বিটল, ভাবনাতে প্রায় অ্যারিস্টটল, ফেলুদায় আছ, দেরিদায় আছ, এন্তার খাও, এন্তার বাঁচো…

ধরে নাও, তুমি রসগোল্লা খেতে ভীসষোন ভালোবাসো। রসগোল্লাকে তুমি শঙ্কুর আশ্চর্য গোলক বলেই ধরে নিয়েছ। ধরে নাও মিঠে পান শুনলেই তুমি জাপানের সাথে মিল খুঁজে পাও। কিন্তু জাপানীরা পান খায় কিনা সেটাই জান না। ধরে নাও কোন নধর পলিটিসিয়ানকে বোকাবাক্সতে দেখলেই তোমার অ্যালসেসিয়ানটা আর তুমি হাসতে হাসতে ঘেউ দিয়ে ফেলো। সে ঘুষ খেয়েছে ভাবতে ভাবতেই তুমি হাট করে ফ্রিজ খুলে খাবার খুঁজতে থাকো। ধরে নাও, একটা এলিয়েন স্পেসশিপ এসে তোমায় তুলে নিয়ে গেল, আবার মায়ের কথা মনে করে গ্লুক গ্লুক কাঁদতেই বাবা বাছা করে বেডরুমে ফেরত দিয়ে গেল। নাহ, এগুলোর কোন ব্যাখ্যা নেই। তবে সুরিয়াল হ্যালু মাথায় চাপলে সেটায় হুড়মুড় নির্দোষ আনন্দ মেলে। মেসিকে মনে মনে গেণ্ডুয়া খেলতে মেসোপটেমিয়ায় পাঠানোই যায়, টিভির বিরক্তিকর কাকাতুয়াগুলিকে এক চুটকিতে বোবা কাক বানিয়ে দেওয়া যায়, স্বঘোষিত জিনিয়াসদের এক ঝটকায় খেজুর গাছ থেকে পেড়ে ফেলা যায়। বলতে গেলে যাইচ্ছা তাই আর কি! মজা তো আর মুর্গীর ডিমের মত জন্মায় না! তাদের নিজের মত করে এলোমেলো ছাঁচে ফেলে, প্যাঁচে ফেলে বানিয়ে নিতে হয়, শানিয়ে নিতে হয়। খুব জোর জবরদস্তি হলে নিজেকেও একটু আধটু মানিয়ে নিতে হয়।

শান বাঁধানো মেঝের সওয়াল, মনের ভেতরে লুঙ্গি বাওয়াল, হঠাৎ করে বাংলামিতে, ভাবছ তুমি পোসেনজিতে।

তুমি পেটেন্ট নিয়েছ উল্টো বলার, পেটেন্ট নিয়েছ উল্টে ফেলার। যেখানে যা দেখছ হয় ইন্সটাগ্রাম, নয়ত নন্দীগ্রাম। ঝটপট নিজের ছুঁচোমুখী ছবি চিপকালে। তারপর সাজুগুজু করে মিছিলে বিদ্রোহী। তুমি কোহলির অন্ধভক্ত। সে বাঙালী তো নয়। তাই ভুলে গেছ বাঙালী রক্ত। টেনে হিঁচড়ে না ফেলে জয়গান গাইছ। বেশ, এটাই যদি বাস্তব হত! খুল্লমখুল্লা বাঙালী বাঙালীর পশ্চাতে টুথপিক না গুঁজে আপামর পিকে ওঠার মন্ত্র খুঁজত। তাতে দুনিয়ার কাছে পাবলিক প্রোফাইল বদলে যেত। তুমি ভালোর প্রশংসা করতে শেখোনি, শুধু নেগেটিভ সমালোচনা করে ঠোঁট মুছেছ। মেয়েরা ক্রিকেট খেললে খুশী হয়েছ। আবার ফাইনালে এন্ট্রি নিলে গা জ্বলেছে। লিটল ম্যাগে নিজের ছাপা কবিতা দেখে ৩২ রেডিয়েট করেছে, কিন্তু প্রথম পাতায় বন্ধুর গল্প দেখে আক্কেল গুড়ুম। ইহজীবনে কোনদিন কেউ তোমায় জব্বর শাবাশি দেয় নি; এমনকি নতুন জুনিয়র বসের কাছে বারবার ধাতানি খেয়ে কবেই মরমে মরে আছ। সেই তুমি কোন আক্কেলে আর কাউকে মেঘমল্লার শোনাবে। তার বদলে সিরিয়াল দেখতে দেখতে কাব্যি ভাবলে ক্ষতি কি? সেদিন ভিনদেশী বন্ধুকে স্মাইলি মেরে কাগজে টাটকা ছাপা ধর্ষণের খবরটা টীকাসহ ব্যাখ্যামুলক উত্তরের কায়দায় জানালে। বেচারি মেয়েটা আরও একবার ধর্ষিত হল। নিজের পাড়ার রাস্তার মোড়ে কোন টিজিং দেখে ফেললে কিন্তু তুমি নিজেকে দুম করে বড্ড বিজি ফিল করে সুট করে কেটে যাবে। আবার থানাপুলিশের ধাক্কায় কোন ভদ্দরলোকটা যায় হে? ঘড়ি দেখার আছিলায় বোবা, কালা হয়ে থাকা তার চেয়ে ভাল নয় কি?

মজে আছ, হেজে আছ, রকে বসে গেঁজে গেছ; তবুও নতুন কোন মুর্গীর খোঁজে আছ।

আত্মশ্লাঘা বড় দায়। তবে লোকচোখে ফেমাস হতে এটুকু করতে হয়। এটুকু মানে ঠিক যেটুকু সাজাবেন বলে আপনি মাসের প্রথম দিনে ভেবেছিলেন। মাসের মাঝে অনেক অসহ্য সাজে সেজে ওঠে শহর। মাসের শেষে বৃষ্টিভিজে ক্যানভাস, পোস্টার, লিফলেট সবই রাস্তার কুকুরের খেলনা। মাটিতে, ড্রেনে, ড্রোনে সর্বত্র সম্মানের এই দশা। তবুও রোজ নতুন করে ক্যানভাসে বিচ্ছিরি দগদগে ফোটোশপ হয়। সত্যিই আত্মশ্লাঘা ভীষণ দায়। কম্বলের চাঁদে যাওয়ার ন্যাক ছিল। আম্মো আছে, আপনার আছে। তবে সেটা নিজেকে জাহির করার। আপনার ফুটবল আছে, তাই আপনি নিরীহ প্রতিবেশীর বাড়ির জানালার কাঁচগুলো নিয়মিত ভাঙছেন, ছোকরার ল্যাপটপ আছে, তাই সে প্রেমে দাগা খেয়ে প্রেমিকার ছবি নিয়ে বিষম কারিকুরি করবেই, আপনার মস্ত বড় বাস্কারভিলছাপ হাউন্ড আছে, তাই ফি রাতে ফুটপাথে ভিখিরিটার দিকে সেটাকে বারবার লেলিয়ে তুমুল আনন্দ পেয়ে থাকেন। আত্মস্লাঘা বজায় রাখা আরও কঠিন দায়। ধরা যাক, প্রতিবেশীর বাড়ির নাছোড়, ত্যাঁদড় ছেলেটা স্রেফ ঢিল মেরে আপনার ঘুষের পয়সায় কেনা নতুন গাড়ির কাঁচে ক্র্যাক মেরে গেল। ছোকরার নেট-ছাপা ছবিগুলো নিয়ে সাহস করে প্রেমিকা সোজা তার কাকাবাবুর কাছে চলে গেল। তিনি লালবাজারে সাইবার বিশারদ। পাড়ার নেড়িগুলো একদিন প্রতিবাদের জ্বালায় দল বেঁধে এসে আপনার এবং আপনার হাউন্ডের পশ্চাৎদেশে বাজারি আদর জুগিয়ে গেল। আপনি কিন্তু মাটিতে মিশে গেলেন না। ইনজেকশন নিতে নিতেই ভেবে নিলেন যে, আরও কটা খ্যাপা দেখে কুকুর কিনে আনতে হবে। আত্মশ্লাঘার বলয়টা আপনার মাথার ঠিক এক ইঞ্চি পেছনে ফের চকচক করে উঠল।

মানসিক চর্বিতচর্বণ
  • 5.00 / 5 5
2 votes, 5.00 avg. rating (94% score)

Comments

comments