আবদার এর কোনো সীমা আছে? অঙ্কের স্যার এর আবদার, অঙ্কের স্যার এর ভাই এর আবাদার, ভাই এর দাদার আবদার, দাদার বন্ধু, বন্ধুর দাদা এবং তার ভাই, সব মিলিয়ে বেশ গুচ্ছ লোকের আবদার।

যদিও কাঙ্খিত প্রশংসা আমি পাইনি, বরং টমেটো দিয়ে অখাদ্য ম্যাগি রান্না করার বদনাম আছে আমার। তবু বন্ধু কে ভাই এর সামনে একটু কলার তলার সুযোগ করে দিলেম। আমার মন টা খুব নরম কিনা।

শুরুতেই বলে রাখি, রান্না গুলো ভীষণ সহজ আর হয়তো আপনারা সবাই বাড়িতে নিদেনপক্ষে একবার করে করেই ফেলেছেন। তবুও আমার মা এর মন ভোলানো রবিবার এর রান্নার পাণ্ডুলিপি দিলাম নীচে – দুধভাত রাঁধুনি দের জন্যে।

মিষ্টি পোলাও (৪ জন এর জন্যে) –

চাল – ৩ কাপ বাসমতী

ঘী – ৩ চামচ

দই – ২ চামচ

নুন- আন্দাজ মতন

চিনি – ৫ চা চামচ (আমি চিনি একটু বেশি খাই, তবে এই মাপ টা মিষ্টি পোলাও এর জন্যে খুব বেশি না)

জীরে + ধনে গুঁড়ো – ১ চামচ

গোটা গরম মশলা + তেজ পাতা

কাঁচা লঙ্কা – ৩ টে মাঝখান থেকে চেরা

গাজর – ২ টো সরু সরু করে কাটা (চাইনীজ ফ্রায়েড রাইস এর মতন)

পেয়াজ – ১ টা বড় ছোটো কুচি করে কাটা

বীনস – ১/২ ইঞ্চি কুচি করা এক মুঠো

চাল ভাল করে ধুয়ে জীরে আর ধনে গুঁড়ো মাখিয়ে রেখে দিতে হবে ১৫ মিনিট এর জন্যে।

এবার প্রেশার কুকারে ঘী দিয়ে অল্প আঁচে গরম করতে হবে। ঘী গরম হলে আঁচ বাড়িয়ে তেজ পাতা, ছোটো এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ দিতে হবে। মশলার গন্ধ বেরোলে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে একটু ভেজে পেয়াজ দিতে হবে। পেয়াজ টা লাল করে ভাজলে ভালো হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে মুচমুচে যাতে না হয়। আঁচ কমিয়ে রান্না করলে সবজি মুচমুচে হবে না। পেয়াজ সোনালি হয়ে এলে গাজর আর বীনস গুলো দিয়ে দিতে হবে। সবজি অল্প ভেজে (মিনিট ৮-১০) জল ঝরানো মশলা মাখানো চাল টা দিয়ে ঘী তে অল্প নেড়ে-চেড়ে নিতে হবে। খেয়াল রেখো যেন খুন্তি চালাতে গিয়ে চাল ভেঙ্গে গুঁড়ো না হয়ে যায়। নুন-চিনি দিয়ে দিতে হবে এরপর, আর দিতে হবে দই ২ চামচ। এরপর আসবে সব থেকে কঠিন কাজ, জল দেওয়া। আমি সাধারণত ৩ কাপ চাল এর জন্যে ৬ কাপ জল দিয়ে থাকি প্রেশার কুকারে। কিন্তু পোলাও এর জন্যে মাপ টা ৫ ১/২ কাপ (সাড়ে পাঁচ)। জল বেশি না হওয়াই মঙ্গল, গ্যাদগ্যাদে পোলাও খেতে খুব একটা ভালো হয়না। বরং চাল একটু শক্ত থাকলে ভাপে সেদ্ধ হয়ে যায়।

একটা সিটি দিয়ে একটু অপেক্ষা করে নামিয়ে নিতে হবে। বা দুটো সিটি দিয়ে বাকি প্রেশার টা বের করে দিলেও চলবে। যেটা খুশি। আমি প্রেশার বের করে দিয়ে ঢাকনা খুলে একটু চেখে দেখি, নুন চিনির পরিমান টা। যদি নুন/চিনি কম হয়, ১/২ কাপ উষ্ণ জলে মাপ মতন চিনি/নুন মিশিয়ে পোলাও এ ঢেলে ঢাকনা বন্ধ করে রেখে দিন।

ছোলার ডাল –

ডাল – ৪ কাপ

বেকিং পাউডার – ১ চামচ

নুন/চিনি – আন্দাজ মতন

কিসমিস – এক মুঠো

কোরানো নারকেল – ১ কাপ

সাদা তেল – ৩ চামচ

পেয়াজ – ১ ১/২ টা কুচো করে কাটা

টমেটো – ১ টা বড় মাপের কুচোনো

লঙ্কা – ৪ তে মাঝখান থেকে চেরা

হলুদ গুঁড়ো – ১/২ চামচ

গোটা জীরে – ১ চামচ

আদা/রসুন – কুচোনো ১ চামচ করে

ডাল প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে নিতে হবে নুন, হলুদ আর বেকিং পাউডার দিয়ে। ডাল যেন বেশি গলে না যায়, গোটা গোটা থাকলে ভালো হয়।

এরপর কড়াই তে তেল গরম করে জীরে আর লঙ্কা গুলো দিয়ে দিতে হবে। জীরে তেলে ফুটতে শুরু করলে পেয়াজ দিতে হবে। পেয়াজ ভালো করে ভেজে নিয়ে টমেটো দিয়ে দিতে হবে। আমি রান্নার সময় পেয়াজ এর পর নুন আর টমেটোর পর চিনি দিয়ে থাকি। তবে নিজের ইচ্ছে মতন ও দেওয়া যায়। টমেটো পেয়াজ একটু কশে এলে আদা-রসুন কুচো দিয়ে ভালো করে কশতে হবে, মাঝেমাঝে অল্প জল দিয়ে। একটু বাদে মশলা থেকে তেল বেরোলে সেদ্ধ ডাল র কিসমিস দিয়ে দিতে হবে। নামানোর আগে নারকেল কোরানো দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। ডাল অ্যাড করার পর বেশিক্ষণ রান্নার দরকার নেই, সঙ্গেসঙ্গেই নারকেল দিয়ে নামিয়ে নেওয়া যায়।

রোববার এর মাংস –

মুরগীর মাংস – ১ কেজি

পেয়াজ – ৩ টে বড় মাপের। দেরখানা কুচোনো , বাকি দেরখানা বাটা

টমেটো – ১ টা বড় মাপের কুচোনো

রসুন – ৫ কোয়া গোটা, ৩ কোয়া বাটা

আদাবাটা – ৩ চামচ

কাঁচা লঙ্কা – ৪ টে

ধনে গুঁড়ো – ২ বড় চামচ

নুন-চিনি – আন্দাজ মতন

মাংস টা ভালো করে ধুয়ে অল্প নুন (১ চামচ), চিনি (১/২ চামচ),আদা-রসুনবাটা মাখিয়ে রাখতে হবে (আদা বাটা দের চামচ, রসুন বাটা ৩ কোয়া)।

কড়াইতে তেল গরম করে, কাঁচা লঙ্কা গুলো দিয়ে দিতে হবে। এরপর সাথেসাথেই পেয়াজ বাটা র পেয়াজ কুচো তেলে দিয়ে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। পেয়াজ বাটা থেকে জল বেরোতে পারে, আঁচ বাড়িয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। পেয়াজ সোনালি ব্রাউন হয়ে এলে মাংস দিয়ে দিতে হবে। মাংশের গা থেকে মশলা মুছে নিয়ে কড়াই তে দিলে ভালো হয়। মাংসে নুন – হলুদ দিয়ে ভাজতে হবে মিনিট ১০। মাংস ভাজা হয়ে এলে, টমেটো দিয়ে দিতে হবে। আর এক চামচ চিনি। টমেটো গলে গেলে বাকি আদাবাটা, রসুন, ধনে গুঁড়ো দিয়ে মাংস ভালো করে কশাতে হবে। কড়াই তে মশলা পুড়ে লেগে যেতে শুরু করলে ১/২ কাপ জল দিয়ে আবার কশাতে হবে। আমি এরম ভাবে ৪ বার ১/২ কাপ জল দিয়ে কশাই। কিন্তু পুরোটাই আন্দাজ মতন। এরপর এক কাপ জল দিয়ে ফূটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। পোলাও এর সাথে খাওয়ার জন্যে বেশি ঝোল না হলেও চলবে। রুটি দিয়ে খেতে চাইলে জল একটু বেশি দিতে হবে।

উফফ, হাতে ব্যথা হয়ে গেলো।

 

মিষ্টি পোলাও, ছোলার ডাল আর মাংশের ঝোল
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments