‘প্রচন্ড কঠিন সময়, বুঝলি, ওরা আমাদের ঘিরে যেভাবে পাহারা দিচ্ছে তাতে করে আমাদের এখান থেকে পালানো অসম্ভব!’

‘কিন্তু বাবা, আমি যে আর পারি না, আমরা যে কেউ আর পারিনা বাবা! ওদের এ কেমন শাসন! এই সমুদ্রে আমরা কেন এক জায়গায় ভেসে থাকবো, আর ওরা কেমন মুক্ত হয়ে এদিক থেকে ওদিক ছুটে বেড়ায়! চলমান পাহাড়গুলো ওদের ছাড়া যেন কিছু চেনে না। আমি যে শুনতে পাই, ওই শোনো, পাঁচিলের ওপার থেকে ওই লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি চলমান কিউপ্রিকের দল, ওরা আমাদের ডাকছে, বেরিয়ে আয়, ভাঙ ভাঙ কারার মতো কপার ভাঙ!’

‘না রে, এ বড় প্রাচীন কপার সাম্রাজ্য, লক্ষকোটি কিউপ্রিক বীরের দেশ এটা, আমাদেরই স্বভাবের ভুলে আমাদেরই গা থেকে বেরনো ইলুরা আজ এক হয়ে মিলে সমুদ্র হয়ে আমাদের শাসন করছে! প্রথমে আমরা পাত্তা দিতাম না, এখন বুঝছি ওদের সাগরে আমরা পাথরের মতো ভেসে আছি, এই কপার সাম্রাজ্যে ইলুরাই সব!’

‘আচ্ছা বাবা, ইলুদের চলমান পাহাড়রা এতো ভালোবাসে কেন?’

‘ইলুদের ছুটিয়ে ওরা যে যত রকমের শক্ত কাজ হাসিল করে। ইলুরা আমাদের থেকে বা ওদের থেকেও বুদ্ধিমান। চলমান পাহাড় গুলোর অধিকাংশই এম্নি বোকা, যে জানে না, আসলে ইলুরাই ওদেরকে চালায়।’

কিউপ্রিকদের বাপ মেয়ের কথোপকথন আরো অনেকটা এগোত, তার মধ্যে এক ঝাঁক ইলুর দল অর্থাত্ তোমরা, চলমান পাহাড়রা, যাদের ইলেকট্রন বলে থাকো, তারা এসে বাপ মেয়েকে ‘চল হ্যাট্ ধাতুর মোষ’ বলে ওদের আলাদা করে দিলো। কপার রাজ্যে এমনি নজরদারি চালায় ইলুর দল, যাতে কেউ রাজ্য ছেড়ে বেরোবার ধান্দা না করতে পারে। এমনকি এই সংক্রান্ত কথা বললে কিউপ্রিকদের আলাদা করে দেওয়া হয়। ইলুরা জানে, এরা যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ কপার সাম্রাজ্যের সূর্য অস্ত যাবে না। ওরা কিউপ্রিকদের থেকেই জন্মালেও পদে পদে ওদের হ্যাটা করে। ধাতুর মোষ বলে ডাকে! আয়ন বলে কোন সম্মানই দেয় না!

29 টা প্রোটন দিয়ে 29 টা প্রোটন চেপে থাকে কিউপ্রিকরা, আর সুযোগ খোঁজে জবাব দেবার। কারণ এ অপমান আর সহ্য হয় না, তাদের যে মৃত্যু নেই কপার সাম্রাজ্যে! না মরে বেঁচে থাকা বড়ো যন্ত্রণার!

পাহাড়দের একদিন ওদের কাছে যুগ যুগ যুগসমান! এরকম বহুযুগ আগে, চলমান পাহাড়ের দল একদিন এসে কপার সাম্রাজ্যে নীল বৃষ্টি শুরু করেছিলো, একসময় বেশ খানিকটা রাজ্য নীলমগ্ন হলো! অভিজ্ঞ কিউপ্রিকেরা জানতো ওই নীলে লুকিয়ে আছে তাদের থেকে বহুযুগ আগে বিচ্ছিন্ন হওয়া আত্মীয়, ওরা মুক্ত হতে পেরেছে সালফেট নামক একপ্রকার দানবদের হাতথেকে, খাঁচার মধ্যে ওদের আটকে রেখেছিল। এক সময় ওদের খুঁজে বার করেছিলো জলের অণুসেনা, নিরাপত্তা দিয়েছিলো কিউপ্রিকদের ঘিরে ধরে। চলমান সেইসব নীল কিউপ্রিকরা কপারের রাজ্যের কিউপ্রিকগুলোকে ডাকতে থাকলো। পাছে ইলুরা অত্যাচার করে তাই টুকরো কপারের পাতের ভেতরে সে ডাক শুনেও চুপ করে বসে থাকে কিউপ্রিকের দল! ওরা যে ইলুদের দাস হয়ে গেছে!

©শ্রুতিসৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়

মুক্তির দামঃ প্রথম পর্ব
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments