দেহখানি কিঞ্চিৎ শীতল হইয়া আসিয়াছে। চক্ষুদ্বয় অর্ধনিমীলিত। শীর্ণ, রুগ্ন শরীর। আকস্মিকভাবে দেখিলে ভ্রম হয় প্রাণ রহিয়াছে কি না। মনে মনে সাহস সঞ্চয় করিয়া নাসিকারন্ধ্রের নিকট হাত লইয়া গিয়া টের পাইলাম নিঃশ্বাস পড়িতেছে। নাড়ী স্পর্শ করিলাম। গতি ক্ষীণ। ব্যথিত হইলাম। মাত্র কয়েকদিন পূর্বেই দেখিয়াছি কি অসম্ভব প্রাণশক্তি লইয়া ইহা সকলের সহিত মিশিতেছে, সৎ সাহিত্যের প্রতি, সৎ আলোচনার প্রতি প্রতিনিয়ত প্রত্যেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া চলিতেছে। এই প্রকার প্রাণোচ্ছ্বলকে অবস্থাগতিকে রোগশয্যায় শায়িত দেখিলে কোন মনুষ্যের না হৃদয় পীড়িত হয়! আমারও হইল।  

শয্যাপার্শ্বে উপস্থিত কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সহিত বাক্যালাপ করিলাম। বুঝিলাম সকলেই এই বিষয়টি লইয়া সচেতন এবং উৎকণ্ঠিত। কোন ঔষধিতে কাঙ্ক্ষিত সুস্থতা ফিরিবে তাহা লইয়া সংশয়াচ্ছন্ন। কেহ কহিলেন ইহার প্রাণশক্তি বাহিরের কোনও শত্রু শুষিয়া লইতেছে। তাঁহার সহিত সামান্য বিতণ্ডা হইল। শেষাবধি তিনি নিমরাজি হইয়া আমার বিপরীত বক্তব্যের সহিত সহমত হইলেন। কিন্তু হায়! এই কালব্যাধি নিরাময় করিবার উপায় আমারও অজ্ঞাত। আমি অনন্যোপায় হইয়া একখানি ঔষধ প্রয়োগ করিবার চেষ্টা করিয়াছি, তবে তাহার ফলাফল বুঝিবার জন্য সময় আবশ্যক। এক্ষণে কহিয়া রাখি ঐ ঔষধ যদি কোনও কারণে ফলদায়ী না হয়, তবে তাহার অন্যতর ফল মারাত্মক হইতে পারে। আমি ইহা প্রয়োগের পূর্বে কাহারও সহিত আলোচনা করি নাই, নিজ দায়িত্বে করিয়াছি, ফলত বর্তমানে অত্যন্ত বিবেক দংশনে ভুগিতেছি। অন্য কোনও পথ নাই, শর নিক্ষেপিত হইয়াছে, তাহাকে ফিরাইবার চেষ্টা নিরর্থক। নিকটবর্তী কিছু পরিচিত বৈদ্যের সহিত আলাপ করিয়াছিলাম, যদিচ অসুস্থতার বিষয়ে স্পষ্ট করিয়া খুলিয়া বলি নাই, শুধুমাত্র আবেদন রাখিয়াছিলাম সাধ্যমত পথ্যের ব্যবস্থা করিয়া দিতে, নিরাশ হইয়াছি। অসুস্থ শয্যাশায়ীর নিকটাত্মীয়গণ একই প্রচেষ্টা নিশ্চয় করিয়াছিলেন, ফল মিলিয়াছে বলিয়া বোধ হইতেছে না। একজন বাষ্পরুদ্ধকণ্ঠে জানাইলেন ইহার শরীর যদি চলিয়া যায়, উনি সবিশেষ দুঃখিত হইবেন। আমিও তাঁহার সহিত মতৈক্য প্রকাশ না করিয়া পারিলাম না। যদিও আমি ইহার কাছে তুলনামূলকভাবে নবাগত, তৎসত্বেও স্বল্প কালে যে প্রকার প্রেমপাশে আমাকে বাঁধিয়াছিল তাহা তুলনারহিত। ব্যক্তিগত স্বার্থ বলিতে আমি ইহার কল্যাণে আপন যোগ্যতা বহির্ভূত এক অসামান্য পরিচিতি পাইয়াছি, অসংখ্য গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসিয়া ঋদ্ধ হইয়াছি, সহচর লাভ করিয়াছি।

সেই হেতু, সেই ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি হেতু, আজ এই মূর্খ মনিটর, মাউস, সিপিইউ, কী-বোর্ড, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনাদিকে সাক্ষী রাখিয়া সকল শুভানুধ্যায়ীর নিকট আবেদন জানাইতেছে, সাক্ষীগণ সাহায্য করিতে সদা প্রস্তুত, অবিলম্বে চর্যাপদের প্রয়োজনীয় পথ্যাদির ব্যবস্থা করিয়া দিন। ইহার প্রাণ আছে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস সামান্য উপযুক্ত পথ্যেই চক্ষু উন্মীলিত হইবে, নাড়ী গতি পাইবে, আবার পূর্বের ন্যায় হাসিয়া খেলিয়া সুস্থ, নীরোগ, সবল জীবনযাপনের  সুযোগ পাইবে। সেই সুযোগ ইহাকে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

মূর্খের আবেদন
  • 4.00 / 5 5
1 vote, 4.00 avg. rating (81% score)

Comments

comments