রবিবার এমনিতে বিল্লো ভাইয়ের সেলুন দুপুর অব্দি হাউসফুল থাকে। কিন্তু সেই রবিবার NOTA -এর বিরুদ্ধে ছোট বড় মিলে ন’টা পার্টি ‘বন্ধ’ ডাকায়ে রাস্তা ঘাট সকাল থেকেই শুনশান। এদিকে মধ্যবিত্ত বাঙালি বাড়িতে ফ্রিজ আসার পর থেকে, রবিবারে সাতসকালে থলে হাতে চন্দ্রমুখী কিনতে আর বাজারমুখী হয় না। সপ্তাহান্তে একটি দিন দেরী করে উঠবে বলে প্রয়োজনীয় বাজারটা শনিবারেই সেরে, সেটা তাদের ডোমেস্টিক কোল্ড স্টোরেজে লোড করে রেখে দেয় । তাই রবিবার ‘বন্ধ’ হলেও তাদের পেট insecured থাকে না মোটেও ! পেটে লাথটা তো খায় বাজারের কলামুলো বেচনেওয়ালারা ! একেবারে শুকোতে শুকোতে আমসি হয়ে যাওয়া ‘ম্যাঙ্গো’ মানুষরা ! অথচ শুনি ভোটের বাজারে এই শুকনো সাইডলাইন্ড হওয়া ‘আম’ আদমীদেরও নাকি বেজায় দাম । বাস্তব কিন্তু অন্যরকম ,পচা গরমে এই আম আদমির নাকের ডগা থেকে টপ টপ করে ঝড়ে পড়া ঘাম গুলো জড়ো করে একটা জেরিক্যানে ভরে, কারা যেন সেটাকে হাইলি পোড়া ‘আমের শরবত’ বলে ভোটের বাজারে চালিয়ে দেওয়া ফন্দি আঁটছে । ব্রিগ্রেড মাঠে দাড়িয়ে লাখে লাখে ‘আম’ আদমি যখন সেই ফ্রীতে পাওয়া ‘আম’ শরবতের পাউচ গুলো পুচ করে মুখে পুশ করবে তখন তারা টেরটিও পাবেনা যে আদপে তার নিজের দেহের ঘাম দিয়েই ঐটি তৈরী। টের পেলেই বা কি? গরিবের ঘাম বেচে না হয় গরিবই করে খাচ্ছে , এতে আবার এতো স্পর্শকাতর হওয়ার কি আছে ? আর এই ‘আম’ শরবতের জায়গায়ে যদি ‘রাম’ শরবত সাপ্লাই দেওয়া যেত তাহলে তো বোধহয় সব ভোটই রামের নামেই পড়ত , ঘাম টাম বিশেষ আর ঝড়াতে হত না। বরঞ্চ গুণমান যাচাই করে সৎ ভাবে বাজারে যদি সেই ‘ঘাম ‘ শরবতটাকেই স্মার্ট ভাবে প্যাকেজ করে লঞ্চ করা যায় তাহলে সেটার দাম নিশ্চই আম আদমির নাগালের বাইরে চলে যাবে ! বেশ হবে তখন, একেবারে ‘ঘামচাক’ ব্যাপার। বিল্লোভাই,হেবলো,পচা,হুলো এদের সবার সংমিশ্রিত ঘাম দিয়ে তৈরী হচ্ছে রিফ্রেশিং এনার্জি ড্রিংক – Pasinda ! ‘রেড বুলের’ মতন সেই ড্রিংকের রংচঙ্গে ক্যান আইপিএল খেলার মাঠে ৩৬০ টাকায় বিকোচ্ছে। শহরের কেন্দ্রে স্থিত ‘সিটি সেন্টার মলে’ ঢুকতেই ক্যান হাতে দাড়িয়ে এক সেক্সি চিত্রতারকা ( রবি ভার্মা অঙ্কিত মারিচের দিদি মানে মায়াবী তাড়কা নয় !!) একটা মায়াবী হাতছানি দিয়ে ডাকছে আর মিষ্টি ভাবে দুষ্টু হেসে বলছে , “PASINDA – takes care of your summer sweat !! ”

বন্ধের বাজারে এই মার্কাটারি মার্কা কুটির শিল্পটাকে কি ভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কেট করা যায় সেটা নিয়ে নবুদা বিল্লোভাইয়ের দোকানে বসে বসে অনেকক্ষণ ধরে ভাবা প্রাকটিস করছিল । বাধ সাধলো হেবলো। হেবলো পাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ভাঙ্গা শিশি বোতল’ বিক্রি (নাকি সুধু ‘ক্রি’) করে। তবে আজকের জমানায় তার লিস্টে কিছুই বাদ যায়না – খবরের কাগজ , পুরোনো খাতা-বই, প্লাস্টিক কিম্বা কাঁচের বোতল, দুধের প্যাকেট , অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল , কার্ড বার্ডের বাক্স , পুরনো পাম্প, ভাঙ্গা লোহার চেয়ার এমনকি মায় কম্পিউটার পর্য্যন্ত ! অবশ্য গত কয়েক দশকে অনেক কিছু বাদও পড়েছে সে লিস্ট থেকে যেরকম ভাঙ্গা এন্টেনা , পুরোনো রেডিও , ডালডার টিন , ফ্যারেক্সের ডাব্বা , সাদা কালো ফুজি ফিল্মের কৌটো ইত্যাদি। যাই হোক, সেলুন ফাঁকা দেখে হেবলো এসেছিল বিল্লো ভাইয়ের কাছে চট করে দাড়িটা কমিয়ে নিতে ! বরাবর হেবলো এই ছকটা বুঝে শুনেই কষে। ফাঁকা দোকান দেখলে সে দাড়ি কাটতে বসে যায়। আর প্রত্যেকবার কাটার পর নায্য পারিশ্রমিকের বদলে শেষমেষ একটা পাতলা চটি বই ঠেকিয়ে চলে যায় বিল্লোভাই কে, একেবারে প্রাচীন বাটপেরে বার্টার সিস্টেম । বিল্লো ভাই বাংলা বা ইংরেজি কিছুই পড়তে পারেনা , হিন্দি টা তবুও কোনরকমে কেতেকুতে ম্যানেজ করে। অগত্যা donated বইয়ের পাতাগুলো ছিড়ে ছিড়ে সে দিব্য দাড়ি কেটে ফ্যানা কাচানোর জন্য ব্যাবহার করে ফেলে। ৮-১০ দিনের মধ্যে পাতা শেষ হলে পরে ,হেবলো আবার আরেকটা চটি বই (চটি বই মানে পাতলা বিশ কি তিরিশ পৃষ্টার বই,ইহার অন্য কোনো মানে করিলে সেটা একান্তই পাঠকের ব্যক্তিগত ব্যাপার !) পেশ করে ফিরতি দফা ক্ষৌরকার্য্য আদায় করার জন্য । তবে হ্যাঁ, চুল কাটার হলে বিল্লোভাই দুটো চটি বইয়ের কমে মানে না আর চুল-দাড়ি একসাথে হলে যুক্তি তক্ক মিলিয়ে ‘হাফ শারদীয়ায়’ রফা হয় !

নবুদার চিন্তা প্রবাহে আকস্মিক বাধা আসতেই সে মুখ তুলে দেখল হেবলো আর বিল্লোভাই একটা চটি বই নিয়ে বেশ argumentative ভাবে ফুসুর ফুসুর করছে। নবুদাও না-অতি- বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো , “হই , ওটা কি বই ?”
হেবলোই প্রথমে মুখ খুলল , “দেখো না মাওরাটার কান্ড ! ব্যাটা হিন্দি পড়তে পারে বলছে , এদিকে বইটার নাম পড়তে গিয়ে লুঙ্গিতে মুতে দিচ্ছে যেন । ”
নবুদা বইটা হাতে নিয়ে দেখল যে এদিক থেকে সেদিক পোকায় ড্রিল করা একটা চটি বই , ওপরে দেবনাগরী হরফে লেখা – ‘শুদ্রকস্যঃ মৃচ্ছকটিকম’। নবুদা চোখ না তুলেই মহেঞ্জদারো আবিষ্কার করার মত ভঙ্গিতে বলল , “এটা সংস্কৃতে লেখা , বিখ্যাত নাটক। হরফটা দেবনাগরী, তাই দেখে তোরা হিন্দির মতন ভাবছিস । ” বিল্লোভাই খানিকটা নিশ্চিন্ত হলো যে তার না পড়তে পারার কারণটা নবুদা ঠিক ঠাক উদ্ধার করতে পেরে ওই হেবলোর কাছে তার মান ইজ্জতটা বাঁচালো। ওদিকে আবার হেবলো কোনদিন ‘সংস্কৃত’ নামক শব্দটাই শোনেনি । হাজার হলেও পেটের দায় রাত দিন ছেড়া বই ও দিস্তা দিস্তা খাতা নিয়ে বিস্তর ঘাটাঘাটি করে থাকে সে , না শুনলেও কিইবা এমন এসে যায় । কতকটা গম্ভীর ভাবেই সে জানালো , “হুম , এটা যে বিদেশী ভাষা সেটা আমিও বুঝেছিলাম , সুধু নামটাই যা জানতাম না।

নবুদা ধৈর্য্যের সব বাঁধা পার করে বলল , “ও যদি মাওরা হয়, তা তুই কম ঘাওরা কিসে ? ওরে সংস্কৃত আমাদেরই দেশেরই প্রাচীন ও বেশ কঠিন ভাষা। এখনও পড়ানো হয় স্কুল কলেজে, লেখাপড়াও করে অনেকে এ ভাষাতে। কিন্তু আমার তোর মতন আন্ডু পাবলিক এই গান্ডু ভাষা বুঝত না বলে আস্তে আস্তে সেটা লোপাট হয়ে যায়। দে, নাটক-এর গল্প টা ছোট্ট করে পড়ে শোনাই। ” বিল্লোর কারবার দেখা যাচ্ছে আজ নেই বললেই চলে আর হেবলো তো ব্যাটা ভ্যানই বার করেনি। সুতরাং দুজনেই বসে গেল নবুদার গল্প শুনতে। নবুদা গুছিয়ে বসে শুরু করলো , ” ঘটনাটা যদিও অনেক আগেকার তবু আমি তোদের বোঝার সুবিধের জন্য নাম টাম গুলো একটু অদল বদল করে নেব, ঠিক আছে। ” দুজনে অমনি নিস্বর্তে মাথা নাড়ল, হয় তো বা না বুঝেই !!
হেবলো তাড়াতাড়ি একটা দিয়াশলাই কাঠিতে তিনটে বিড়ি ধরিয়ে বাকি দুজনকে পাস করলো। নবুদাও নিজের ভাগে দু টান মারতে মারতে গল্পটা ছকে ফেলল এবং শুরু করলো,
” উত্তর প্রদেশে উজ্জৈনি বলে একটা জায়গা আছে। .” অমনি বিল্লোভাই বলে উঠলো, “হামার ঘর ভি তো UP মে আজমগড় আছে। ” নবুদা ভাবলো এরপর যদি বিল্লো নস্টালজিক হয়ে ঘুমিয়ে পরে নিজের দেশের গল্প শুনে , তাই কায়দা করে ঘুরিয়ে দিয়ে সে বলল , “নাহ , এটা সেখানকার গল্প নয় রে বিল্লো , আমি তো অমনি বলছিলুম। এটা আমাদের বাংলারই এক জায়গার গল্প যার নাম উজানগ্রাম..” এবার আলটপকা হেবলো বলে উঠলো , “শুনেছি আমার পিসির বাড়ি বিজনগ্রাম , আমি যদিও যাইনি কোনদিনও। তা এ গাঁ টা কি তার আসে পাশে ? ” নবুদার বড় জ্বালা , শালা নন্দী কে থামালে ভৃঙ্গী লাফায়। discipline মেনে নবুদা এবার ফাইনাল ultimatum দিল দুজনকেই এই বলে যে এর পরে কেউ কথা বললে সে আর কোনো গল্পই বলবে না ! ওরা দুজনেই কান মূলে, জীভ কেটে জানিয়ে দিল henceforth নো hindrance !

নবুদা আবার চালু করলো , “তা সেই উজানগ্রামে চারু দত্ত নাম এক সজ্জন ও দিলদরিয়া গোছের পাবলিক থাকত। তবে ব্যাটা ভুল ভাল বন্ধুদের ধার দিয়ে ও এদিক সেদিক পরপোকার করতে গিয়ে এক সময় নিজেই প্রায় পথে বসলো। আমাদের পোড়ার দেশে পরের ভালো করতে গেলে যা হয় আর কি। ক্রমশ এমন হাল হলো যে বন্ধু বান্ধবরাও যেন দেখলে চিনতে পারে না। এদিকে তার ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তবুও উজানগ্রামের মানুষরা তাকে সৎ , নির্ভিক ও বিচক্ষণ একজন পন্ডিত হিসেবেই দেখত। এবং এই হ্যান দুরবস্থাতেও এলাকার গন্যি মান্যি লোকেরা তার কাছে মাঝে মধ্যে সাজেশন টাজেসন নিতেও চলে আসতো। ”
বিল্লো আর হেবলো দুজনেই এক সাথে মনে মনে ভাবতে লাগলো, নবুদা শালা বন্ধের দিনে সকাল সকাল গাঁজা টেনে টাইমপাস করার জন্যে নিজের autobiography-এর কথা ইনিয়ে বিনিয়ে বলছে নাতো….কিন্তু কথা বলা বারণ, তাই তারাও চুপ চাপ শুনে যেতে থাকলো। নবুদাও বলে চলল , ” চারুর সুখী বিবাহিত পরিবার। হালে রোহন নামের এক ছেলেও হয়েছে তার বৌয়ের। তবু ওই যে বলে নারীর মন আর পর-পুরুষের ধন। বেমক্কা চারুর নজর গিয়ে পড়ল এক ঝিনচ্যাক বার সিঙ্গার কাম ড্যান্সার মিস বাসন্তির ওপর। বাসন্তী মন্ত্রী ও বাবুদের গান শুনিয়ে ,নেচে কুদে ভালই মাল্লু কামিয়েছিল। দুজনের সক্কাল সক্কাল এক দিন দেখা হলো কালিঘাটের মন্দিরে, চোখে চোখে যে শালা কি কথা হলো কে জানে, নায়িকাও গেলেন ফুলটু ফেঁসে। কিন্তু আসল ক্যাঁচালটা বাধলো ,যখন মন্ত্রী পাল বাবুর আধ পাগলা শালা শিল্টন এবং তার বাওয়ালবাজ চ্যালারা মিস বাসন্তির অ্যাফেয়ার সম্বন্ধে টের পেল। ব্যাস তারপর আর কি , তাদের হুজ্জতের তাড়নায় মিস বাসন্তী পালিয়ে গিয়ে শেল্টার নিল তার আশিক চারুর কাছে। ধীরে ধীরে দুজনের লুকিয়ে চুরিয়ে ইনটুসিন্টু দিব্য জমে উঠলো । কিন্তু চারুর মোবাইলটা তো অনেক দিন আগেই সে কাকে যেন দান করে দিয়েছে , বাড়িতে সেট বলতে তার বৌএর টা। তাতে তো আর নায়িকা মেসেজ পাঠাতে পারেনা তার নাগরকে , তাই জন্য বাসন্তী চারুকে একটা দামী মোবাইল সেট রাখতে দিল। কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক ! লখা নামের জনৈক আন্টিসোশ্যাল অনেক দিন ধরেই বাসন্তির অ্যাসিস্ট্যান্ট, মনিকাকে লাইন মারত। সে ফাঁক বুঝে তাকে একদিন বলেই দিলো , “দেখ মনি , ভালোভাবে বলছি চল আমার সাথে। তোকে ওই নাচনেওয়ালির কাছে আর গতর খাটতে হবে না !” মনিকা বলল , “উহ , madam আমায় ছাড়লে তো। তবে ভালো দামী মোবাইলের ওপর madam-এর আবার খুব দুব্বলতা। যাকেই ভালবাসে ফেলে তাকেই গিফট করে দেয় । আর তার মন পেতে কত বাবু যে তাকে কত দামী দামী সেটই না গিফট করল ! তবে রং হওয়া চাই সোনালী আর ব্র্যান্ড যেন হয় বিদেশী । দেখো যদি সেরকম একটা কিছু জোগার করে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারো তার কাছ থেকে !” লখা চারিদিকে চর পাঠালো ও সত্বর খবর এলো ,কে যেন চারুর কাছে অমন একটি মোবাইল সেট দেখেছে। ব্যাস, লখা সুযোগ বুঝে মালটা ঠিক ঝেড়ে দিল চারুর পকেট থেকে। এবং সেটা সোজা গিয়ে মিস বাসন্তিকে গিফট দিয়ে, impression জমিয়ে, মনিকা কে ফ্রি করে নিয়ে এলো তার কাছ থেকে । এদিকে বাসন্তী তো সেট টা দেখেই চমকে একেবারে ৫৪! কিন্তু চারুকে এই খবরটা জানাবে কি করে সে। চারুর তো কোনো spare মোবাইল সেটও নেই ! ওদিকে ভোদর চারুটাও বাসন্তির দেওয়া মোবাইলটা চুরি গেছে দেখে টেনশন ফেনসন খেয়ে নিজের বৌএর মোবাইলটা (যেটা কিনা ওই বাসন্তির সোনালী মোবাইলের চেয়ে অনেক বেশি দামী ছিল) নিজেই ঝেড়ে কুরিয়ার করে দিল বাসন্তির কাছে। ”
এতখানি শোনার পর বিল্লোর মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল , “শালা মরদটা তো হেবি ঠার্কি ছিল তো …” হেবলো তার দিকে কটমট করে তাকাতেই সে চুপ মেরে গেল আর নবুদা আবার শুরু করলো,
” হ্যাঁ, মালটা বাজে লোট্কেছে দেখে চারুর এক ইয়ারদোস্ত মিহির ওকে ওয়ার্নিং দিল বটে। সে বলল , “মাগীটা কিন্তু ডেঞ্জার মাল ! আজ মোবাইল গেছে , এ ভাবে মাথায় হাত বুলিয়ে, যাও বা কিছু বেঁচে আছে তোর , সব এক এক করে হাতিয়ে নেবে বলে দিচ্ছি ।” সে আরো বলল, “তোর্ মতন ভালো মানুষকে ওই ধুরন্ধর নাচনেওয়ালির ছিবড়ে করে ফেলে দিতে বেশি টাইম লাগবেনা বলে দিলাম। সাবধান !! ”
ধুস কে বোঝে কার কথা ? গাঁট গাম্বাট চারু ততক্ষনাত তার বন্ধুর advise উপেক্ষা করলো ও অচিরেই বাসন্তি তার রক্ষিতা হলো । এবং এর পর প্রকৃতির নিয়ম মেনে চারু আর বাসন্তির এক সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। সে শিশুটি আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলো। একদিন সে তার বন্ধুর মোবাইল ফোনের আসল সেট নিয়ে খেলা করতে করতে তার নিজের খেলনা মোবাইল সেটটার প্রতি (যেটা কিনা তার babysitter কিনে এনে দিয়েছিল) ক্রমশই আকর্ষনহীন বোধ করতে লাগলো। সেটা দেখে বাসন্তির ভারী কষ্ট হলো ,সে তার সব কটা মোবাইল সেটই ততক্ষনাত তার পুত্রকে দিল খেলা করতে। শিশুটি দুমদাম এসব পেয়ে যখন আনন্দে হাসছিল, বাসন্তি তক্ষুনি পার্কের দিকে ছুটে গেল, সেখানে চারু আসবে বলে ।ছুট্টে গেল সে চারুর সাথে দেখা করতে। কিন্তু ওই যে বললাম, আমরা ভাবি এক আর হয় আরেক। তাড়াহুড়োয় ভুল করে বাসন্তি সোজা চেপে বসলো শিল্টনের লাল মারুতিটাতে যেটা কিনা পার্কের ধারে ‘পার্ক’ করা ছিলো । আগে ভাগে শিল্টনের ঝাঁট এমনিতেই জ্বলে ছিল তাই সে জোর ইনটেনসিটি নিয়ে তার হিটম্যানকে বলল ” ইসকো গুছাকে মারো , ধর সে মুন্ডু অলগ হোনে কো মাংতা !”হিটম্যান কিন্তু নড়লোও না, কোপালোও না। সব দেখে শুনে শিল্টনের চ্যালারাও বাসন্তি কে মারতে refuse করলো। তখন ক্ষেরে ক্ষুরে শিল্টন তার চ্যালা চামুন্ডাদের ভাগিয়ে, নিজেই বাসন্তির গলা টিপে মেরে ফেলে পাতা ফাতা দিয়ে ঢেকে লুকিয়ে রাখল। কিন্তু ওই যে বললাম আমরা চাই এক আর হয় আরেক , এইবার শিল্টন সোজা কেস ফাইল করলো যে চারুই শালা বাসন্তিকে খুন করে লোপাট করেছে। অন্ধ আইন চারুর কথা শুনলো না। সে যতই বলল যে সে নিরপরাধ , কিন্তু প্রমাণ বলল যে সে সেই সময় পার্কে ছিল ও সে বাসন্তির সব কটা মোবাইল ফোন হাতিয়ে বেচার জন্যে সে বাসন্তিকে কুঁপিয়ে মেরে ফেলেছে ! ইলেকশনের আগের সময় বলেই এই কেসটাকে শিল্টনের জামাইবাবু মানে পালবাবু নিজের পুরো ওজন ঢেলে ফেলে থানা কোর্ট সামলাচ্ছিল। ওইজো আবার বললাম , ওরা ভাবে এক আর হয় আরেক ! পোস্ট মর্টেমে রিপোর্ট এলো লাশটা বাসন্তির নয়। বাসন্তি নিজের জায়গায় অন্য একটা ফিমেল লাশকে রিপ্লেস করে দিয়ে কেটে পরেছিল। এক বাবাজি তাকে কুড়িয়ে পেয়ে অনান্দামঠের মতন ‘হরে মুরারে, বাঁচিয়ে তোল নারে’ বলে বলে বাসন্তিকে বাঁচিয়ে তুলল !

ওদিকে চারুর ফাঁসি প্রায় স্থির। জনগণ চিত্কার করছে, চারু ঝুল্ললেই চারুর বউও সতী হবে , চিতায় ঝাঁপ দেবে। একেবারে হলিউড স্টাইল-এ বলিউড সিন্ড্রম। কিন্তু না, তা হলো না। কোত্থেকে যেন বাসন্তি উড়ে এসে জুড়ে বসলো। মুহুর্তে ক্ষিপ্ত জনতাকে শান্ত করে চারুর ফাঁসি টাসিও আটকে দিল। এরপর সে ফাঁসিকাঠকে সাক্ষী রেখে বলল যে আজ থেকে সে, চারু আর চারুর স্ত্রী , তাদের collective ছানাপোনা, গরু বাছুর , ভেরা, ছাগল, লাউ কুমড়ো সবে মিলে এক-ই পরিবার। ও, তারপর কোর্ট-এ গিয়ে বাসন্তি জানালো যে শিল্টন আর তার দলবল কি ভাবে তাদের হ্যানস্থা করেছে। সব শোনার পর আইন মেনে শিল্টন arrested হলো তার সাগরেদদের সাথে। পরের ইলেকশনে পাল বাবুকে আর্য্যবাবু বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারালো। আর্য্যবাবু মন্ত্রী হলো, এবং তার পরেই সে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্যেকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে চারুকে তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা পুনর্স্থাপনের সুযোগ করে দিলেন। পুরাকালে আবাল যুধিষ্ঠিরের মতন চারুও বাড় খেয়ে আর্য্য বাবু কে বললেন, ” শিল্টনকে মারবেন না , ওকে ছেড়ে দিন…. এটা আমার earnest রিকোয়েস্ট। ”
হাঁ করে শুনছিলো বিল্লো আর হেবলো এতক্ষণ। নবুদা এখানে থামতেই বিল্লো জিজ্ঞেস করলো , “যাঃ খোতম হয়ে গেলো….সিনিমার মতন বহুত উচ নিচ ছিলো ….তা, এই গোল্পটার নাম কি হলো ?”
নবুদা নয় নাটকের গল্পটার প্লট ইম্প্রভাইস করেছে , কিন্তু নাটকের নাম তো সেই ‘মৃচ্ছকটিকম’ ! ব্যাপারটা মানেজ করার উদ্দেশ্যে বিন্দাস একটা বিড়িতে টান দিয়েই নবুদা আবার শুরু করলো , ” আমি কি গল্প শেষ করেছি নাকি…..বাকিটা`শোন না ! এর পরে রাজ্যের জনগণ দাবি করলো যে শিল্টনকে সিম্বলিক শাস্তি দেওয়া হোক, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ল মহা ফাঁপরে ! নতুন মিনিস্টার আর্য্য বাবু উপায় না দেখে শিল্টনের গোঁফ টাকে কেটে নেওয়াকে উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে নির্ধারিত করলেন। ও সত্বর একজন নাপিতকে ডেকে পাঠালেন এই আদেশ ইমপ্লিমেন্টেশন করার জন্য ….তাই সংস্কৃতে নাটকটার নাম ‘মুচ্ছ -কটিকম’ মানে গোঁফ কাটা ….আর সেই অনামী নাপিতটাই নিজে এই নাটক লিখেছে। তখন ছোটো জাতের লোকেরা নিজের নামে লিখতে পারত না , তাই লেখকরূপে তার জাতের নামেই উল্লেখিত -শুদ্রক … বুঝলি ?”

হেবলো শেষে বলেই ফেলল , “এই বইটা না বুঝে দাড়ির ফ্যানা লাগালে তোর্ বহুত খারাপ হত বিল্লো , হ্যাঁ !!” বিল্লোভাইও অভিভূত ,একে সংস্কৃত নাটক তার ওপর আবার তার জাতভাইয়ের লেখা ! সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। সে ধুপ দিল, দেওয়ালে টাঙানো টুনি বাল্ব গুলো জ্বাললো। তারপর খুব সন্তর্পনে সাজানো লক্ষী গনেশের কাঠের সিংহাসনের নিচে যত্ন করে দুবার মাথা ঠেকিয়ে রেখে দিল ‘গোঁফ কাটা ‘ বইটিকে।

মৃচ্ছকটিকম মূল কাহিনীর টা চট করে পড়ে নিন : http://en.wikipedia.org/wiki/M%E1%B9%9Bcchakatika

মৃচ্ছকটিকম
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments