স্বয়ং অলস। মানে অলসতায় পি এইচ ডি। কিন্তু ব্যাপক আকাশচারী। হঠাৎ দেখে ফেলা যায় আকাশ ঘুড়ি। বাচাল মন অহেতুক ফুরফুরে। সাদা রুমাল পায়ে জড়িয়ে ভাড়া করা প্রেমিকার নতুন পারফিউমের মত পায়রা ওড়ে সুবাতাসে। চিন্তায় পেগ ৩ আর সস্তায় পেজ ৩ মিলেমিশে চেইন রিঅ্যাক্সন। খিচুড়ির সাথে ইলিশ ভাজার মত সেন্সরডের সাথে আনসেন্সরড ভাবনা। তবুও মাঝে মাঝেই মস্তিষ্কে তুখোড় বেচাল। ঘিলু ঘেঁটে একসা। কৌতূহলের জালে হাঁসফাঁস। বহুদিনের কল্পিত প্রশ্ন নতুনে অ্যাডেড হয়ে ফিরে ফিরে আসে ফিনিক্সের মত। বলতে পারেন গপ্প, সিনেমা, সিরিয়ালে সব নেপালি দারোয়ানের নাম কমন নাউনে বাহাদুর হয় কেন? সে সব বিদ্দ্বজনেরা পয়সা পেলে বলবেন। আমাকে তো কেউ দিচ্ছে না। তাই যা ছেঁড়াছেঁড়া এবং এলোমেলো বানান ভুল সহ লিখছিলাম সেভাবেই দিয়ে দি। সাজাতে বা মজাতে ইচ্ছে করল না…। মাঝে মাঝে খারাপ লাগাতেও ইচ্ছে করে যে।


হেডলাইনের তেলেঙ্গানা আর জনমুক্তি মোরচার কভার স্টোরিতে মরচে ধরে। কেউ ইতিহাস ঘুরে আসে কেউ মাসল চেনায়। সময় মাত্র হোক বা বেশীমাত্রায়…; ওয়াইজ নই তাই আওড়াতে পারব না “জা পল সাত্র”। তার চেয়ে ভালো ছোট্ট ইভানের রুসি গপ্পগুজবে ভল্গার তীর বা ওবেলিক্সের মেনহির। কে ফুল বা কে কতটা সেমি প্রাদেশিক সেটা বিচার করাতেই আলসেমি। চিন্তার ফুটো দিয়ে ঢুকে পড়ে গ্লোবালাইসড কালনেমি। এ তো জানাই আছে নেপালিদের কাছে লেপচারা ব্রাত্য, বাঙ্গালিদের কাছে নেপালিরা ব্রাত্য আর ভারতবর্ষের কাছে বাঙ্গালীরা। ব্রাত্য ভুল বানানের প্রাবন্ধিক, কোটেশন ভুলে রবীন্দ্রনাথ ঘাঁটা একাডেমীর তার্কিক , সময়ের কাছে হেরে যাওয়া প্রেম প্লেটোনিক। প্রতিষ্ঠানের কাছে মানুষ, চাবুকের কাছে খোলা বুক। তাহলে কিসের লড়াই, কিসের আন্দোলন ?
ঝোড়ো হাওয়ায় পর্দা উড়ছে। কিরাস্কিউরোর মাঝে মাঝে জানালার বাইরে টুকরো টুকরো ফ্রেম। একটা জল উপচে পরা ম্যানহোল, একটা অন্ধকার গলিপথ, ভেজা আকাশের তেজ থেকে লুকোনো একটা শুকনো পাতার স্তুপ। ফাটা, দাঁত বের করা দেওয়ালে বোলবচন দেওয়াল লিখন, সিনেমার পোষ্টার। “বিপ্লব করব, আমরাই গড়ব”… ন্যাতানো কাগজের ছিলকে ওঠালেই ভুল বানান ইনটু সানি লিওনের মার্ডার টু। একসাথে দেখলে কি আপাদমস্তক বিপ্লবের চাড়টাই মার্ডার হয়ে যায় না ?
শ্যামবাজারে আমার বন্ধুর বাড়িতে যেতাম। ঠিক শুটিং করে রাখবার মত ছাদ, ইটের দেওয়ালে জগৎসংসারের হিসেবের বলিরেখা, যাকে চলতি কথায় চিড় ধরা বলে। পুরনো বিয়ারের বোতল থেকে উঁকি মারা ছুটকো ছাতকা লম্বাটে ফুল, বৃষ্টির জল জমেছিল একটু একটু করে , কোনদিন গল্পের থেকে কাক উড়ে এসে বীজ দিয়ে গেছে উপহার। তাতেই এই অ্যাল্কোহলিক ক্রিয়েশন। একটু খেয়াল করলেই ইলেট্রিকের তারে ছেঁড়া ঘুড়ির ধ্বংসস্তূপ , গত বছরের বিশ্বকর্মা পুজোর চাদিয়াল ঢিল খেয়ে খেয়ে ড্রেনে উল্টে পরা মাতালের থেকেও বেসামাল। বাড়িটাও আজ না হয় কাল শেষ নিশ্বাসের অপেক্ষায় ; ফাটলের কোনে কোনে বাস্তুসাপের দল ঝিকিএ উঠছে। কোনাচে অন্ধকারে তাদের শরীর-পোশাকের শুকনো পরিচয়। বেশ একটা লিতিল ম্যাগে অপার্থিব পদ্য জোগানোর মত পরিবেশ অথবা ভিন্তেজ কলকাতা নিয়ে ডকুমেন্টারির একটা এপিসোড। আমরা ভেবেছিলাম কোনদিন সুযোগ পেলে এই ছাদে নিদেন একটা ছোট ছবি নামাবই। তা সে বাড়ির ফ্রেম ভেঙ্গেও পড়ল বছর চারেক আগে। আমাদের ক্যামেরার ফ্রেমও…।
দেড়শ বছরের ওজন সইতে পারলো না আর। আমাদেরও ছবি বানানো হল না। ইটের স্তুপে নতুন করে আশ্রয় নিল সাপগুলো। এখন তারা নিশ্চিন্তে খোলস ছাড়তে হয়তো অন্য বাড়ি খুঁজে নিয়েছে। তাতে কি আদৌ কবিতা গুলো মরে গেল?
দ্রিমি দ্রিমি শব্দের কড়া নাড়া। মহুয়ায় ভর করে আজ নাচবে ওরা। ঝুরো ঝুরো ফুলকি ছুটবে দোটানায়। ছড়াবে ব্রাউনিয়ান মোশনে। ফসলের ঘ্রানে বাতাস আনচান। আড়াল থেকে দেখবে অসংখ্য জ্বলন্ত চোখ। মিলেমিশে থাকলে নখের আঘাত পরোয়া করে না কেউ। চকচকে কত শরীর মিলে মিশে যাবে চাঁদের নীচে। বাঁধা নেই, বারণ নেই, এটিকেট নেই, কেতা নেই। ওদের পিঙ্ক ফ্লয়েডের শব্দ সাপোর্ট চাই না, ফেস বুক স্ট্যাটাসে বাঁধা বুকনি চাই না, চেনা আঁতেলের কবিতার বান চাই না… হয়তো ছিঁড়ে বেরোবার আগের মুহূর্ত এগুলোই। তাই নয় কি?

যাচ্ছেতাই আর কি…।
  • 3.50 / 5 5
2 votes, 3.50 avg. rating (74% score)

Comments

comments