উপস্থিত অনেকেই গুছিয়ে বসে উঠতে পারেনি, যারা বসে ছিল তাদের কারও কারও হাতের বাদামভাজা, পট্যাটো চিপস পুরোপুরি মুখের ভেতরে গিয়ে উঠতে পারেনি, এমন সময় গোটা পর্দা জুড়ে শুরু হয়ে গেল বাইকের স্ট্যান্ট।

বিরতির আগেই ছবির একমাত্র সুপারস্টার নায়ক ঋষি কপুরের মৃত্যু ঘটে গিয়েছে, খলনায়ক পিতাপুত্র অমরীশ পুরি এবং মনীশ বহেল, নবাগতা নায়িকা দিব্যা ভারতী ছবির দখল নিয়ে নিয়েছেন, স্বামীহারা তরুণী নায়িকা, পুত্রহারা সুষমা শেঠ কিভাবে বদলা নেবে এই ঘটনার তা দেখার জন্যে উদগ্রীব দর্শককূল, এমন সময়েই প্রবেশ উস্কো-খুস্কো লম্বা চুলের অধিকারী একটু খয়াটে চেহারার এক তরুণের। ঠোঁটে বিনোদ রাঠোরের কন্ঠ – কোই না কোই চাহিয়ে প্যার করনেওয়ালা

অনেকেই যাঁরা টিভি সিরিয়ালের সাথে খুব বেশি পরিচিত নন, তাঁরা আশেপাশে খোঁজ নিতে শুরু করেছেন

- কে ভাই ছেলেটা?

- আরে ওই ছেলেটা সিরিয়াল করে। ফৌজি, সার্কাসে করেছে

- ওহ, সিরিয়াল করে

একটু যেন হতাশ ভাব গলায়। এর আগে সিরিয়াল থেকে উঠে আসা প্রায় সবাইই বড়পর্দায় কোনও রকম দাগ না কেটেই হারিয়ে গেছে। কে নেই সেই তালিকায়? আপামর ভারতবাসী যে সিরিয়াল দেখে মুগ্ধ হয়েছিল, সেই রামায়ণ-মহাভারত-এর কথাই ধরুন না। পেরেছিল কেউ? এর দ্বারাও হবে না।

কিন্তু হল। এর দ্বারা হল। প্রথম ছবি ‘দিওয়ানা’-তে অর্ধেক অংশে মুখ দেখালেও অচিরেই সেনসেশন হয়ে উঠলেন এই দ্বিতীয় নায়ক। তৎকালীন ধারানুযায়ী কলেজ-পড়ুয়ার নিটোল প্রেমের ছবিতে আত্মপ্রকাশ না করে বলিউডের চিরাচরিত খিচুরি ছবিতে সামনে এলেন শাহরুখ খান। পরের ছবি উর্মিলা মাতন্ডকরের বিপরীতে ‘চমৎকার’ বক্স অফিসে সেভাবে সাফল্য না পেলেও বাঁধ ভাঙল ‘বাজিগর’-এ এসে। টিকিটের কালোবাজারী ফুলেফেঁপে উঠল তৃতীয় খানের নামেই।

এই ‘বাজিগর’ ছবি অবশ্য আরও একজনের জন্যে মাইলস্টোন হয়ে রইল। তিনি হলেন কাজল। আপাদমস্তক ফিল্মি পরিবারের কন্যা হয়েও এর আগে ‘বেখুদি’ নামক একটি চূড়ান্ত ফ্লপ ছবির অধিকারিণী এবং প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করা শাহরুখ খানের জুড়ি গোটা নব্বই দশক জুড়ে কাজল-শাহরুখ জুটির একাধিক ছবি প্রযোজকের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়ে তুলল। প্রথম ছবির সাফল্যের পরে আমির খান-জুহি চাওলা জুটির ব্যর্থতা, প্রায় পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া অনিল কপূর – মাধুরী দীক্ষিত এবং একটিমাত্র ছবিতে সফল হয়েই ভাগ্যশ্রী-র ডি-ফ্যাক্টো অবসরের সিদ্ধান্ত, বলিউডে মূল ধারায় জুটির জায়গাটা এই সময় এমনিতেই খালি পড়েছিল, ফলে সব মিলিয়ে জুলিয়ে ফাঁকা জমিতে মৌরসিপাট্টা গেড়ে ফেললেন এই দুজন।

অবশ্য এই সময়ের মধ্যে উভয়েই অন্য নায়ক বা নায়িকার সাথে জুটি বাঁধলেও ‘ইয়ে দিল্লাগি’, ‘গুপ্ত’, ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ এবং ‘ডর’ –এর মতো কিছু উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ছাড়া আর কেউই অন্তত ব্যবসার নিরিখে এদের একত্রে অভিনীত ‘করণ অর্জুন’ কিংবা ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’-র আশেপাশে পৌঁছতে যে ব্যর্থ হল শুধু নয়, রিয়েল লাইফ হিরো অজয় দেবগণের সাথে কাজল-এর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রিও একই পথে সামিল হল। এমনকি ববি দেওল-রানী মুখার্জির দুয়েকটা ছবি সাময়িক সাফল্য পেলেও সেভাবে দানা বাঁধল না। ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল ছয় বছরে মোট চারটি ছবির প্রত্যেকটিই তুমুল সাফল্য পেল যার দৌলতে ভারতের সিঙ্গল স্ক্রিনের ইতিহাসে এই জুটিই শেষ সফল জুটি হিসেবে নিজেদের নাম তুলতে সক্ষম হলেন। এই শাহরুখ-কাজল জুটি গোটা ৯০-দশক জুড়ে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী মাতিয়ে তুলতে পেরেছিল, সেই বিষয়ে খুব সম্ভবত সবাই একমত হবেন।

যেমন কাটিয়েছি – ৯০-এর দশক – তৃতীয় টুকরো
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments