প্রথমে কাহিনির মূল কুশীলবদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই।
ক – খ এবং মূর্খ উভয়েরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু
গ – খ-য়ের স্ত্রী
ঘ – খ-য়ের একমাত্র কন্যা

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। আমার চিরকালই স্নান করা, খাওয়া দাওয়া করা এগুলিকে কর্তব্য বলে মনে হয়। যদিও সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় একবার কর্তব্য-এর অর্থ বলতে গিয়ে লিখেছিলেন যেটা করা উচিৎ কিন্তু করা হয়ে ওঠে না তাকেই বলে কর্তব্য। আমার অবশ্য মনে হয় যেটা অনিচ্ছেতেও করতে হয় তাকেও কর্তব্য বলা যায়। সেই কারণেই আমি সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মত ছুটির দিনেও যথাসম্ভব সকালের দিকে কর্তব্য শেষ করে রাখি। তো সেই রবিবারেও সাড়ে আটটা নাগাদ আমি আমার প্রথম কর্তব্য অর্থাৎ স্নান শেষ করে দ্বিতীয় কর্তব্যের প্রথম ভাগ সারা রাতের উপোষ ভাঙার জন্য তৈরি হচ্ছি ঠিক তখনই ফোনটা এল। দেখলাম ক কলিং। ধরব কি ধরব না করতে করতে তুলেই নিলাম

- স্নান হয়ে গেছে ?
- হ্যাঁ
- ব্রেকফাস্ট করেছিস ?
- করব
- ভাল। তুই একটা কাজ কর। খ-দা’র বাড়িতে একবার চলে আয়
- খেয়েই আসছি
- না খেতে হবে না। খ-দা’র ওখানেই খেয়ে নিস
- আমি কিন্তু ছুটির দিন সকালে লুচি ছাড়া অন্য কিছু খাই না
- ঠিক আছে, লুচিই হবে
- আর কে আসছে ?
- তুই আগে আয়, তারপর দেখছি

আমার লুচিতে মতলব আর গ-বউদি শুধু তো আর লুচি খাওয়াবে না, সঙ্গে উপরি হিসেবে মিষ্টিও থাকবে, এছাড়াও খ-দা’র বাড়িতে আড্ডা খুব ভাল জমে, অতএব আপত্তি করার কোনও কারণ পেলাম না। দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছালাম।
ঠিক যে আশা করে গিয়েছিলাম সেটা প্রথমে পূর্ণ হল না। বাড়িতে পৌঁছে দেখলাম সকলেই অত্যন্ত মনমরা হয়ে বসে আছে এবং ক-এর দেখা নেই। আমিও মুলত কি করতে এসেছি সেটা চেপে গিয়ে জানতে চাইলাম  – কি ব্যাপার? কি হয়েছে?

গ-বৌদি – মূর্খ এসেছ? বোসো
ঘ  – জানো তো মূর্খদাদা বাবার মোবাইলটা না চুরি হয়ে গেছে

এই বাড়িতে চুরিটা এমন কিছু নতুন দুর্ঘটনা নয়, আর ওই মোবাইলটাও আমি দেখেছি, এমনিতেই খ-দা সস্তা দামের সেট ব্যবহার করার পক্ষপাতী, তাছাড়া পুরনো হয়েছিল, কাজেই সেটার জন্য এত শোকাহত হয়ে পড়ার যথেষ্ট কারণ খুঁজে না পেলেও আমাকে পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে সাময়িক ভাবে সমব্যথী হতেই হল। গলায় যথাসম্ভব কাতরতা এনে জিজ্ঞেস করলাম – কি করে ? কখন ? এবারে গ-বউদির একটু ধাতস্থ হয়ে মুখ খুলল – আর বোলো না, কি করে যে হল!! তোমার দাদা সকাল বেলাতে খুঁজতে গিয়ে আর পাচ্ছে না।

আমি – নতুন নাকি ওই আগেরটাই ?
ঘ – না না, নতুন কোত্থেকে আসবে? আগেরটাই
আমি – বাজানো হয়েছে ?
ঘ – হ্যাঁ, সুইচ অফ বলছে
আমি – তারপর কি করেছিস ?
গ-বউদি – কি আর করব ? ক-কে বললাম, তোমায় খবর দিতে বলল

এই সময় দেখা গেল ক-দা প্রবেশ করছে

ক – শুনেছিস ?
আমি – হুঁ
ক – এখন কি করবে ?
আমি – সেটা জানতেই কি ডেকেছ ?
ক – ঘ-এর উদ্দেশ্যে – কি রে বলিসনি ?
ঘ – মুর্খদাদা তো এই এল
ক – তাতে কি হয়েছে ? আগের কাজটা আগে করবি তো
আমি – ঠিক আছে, ল্যান্ড লাইন থেকে আগে সিমটা ব্লক কর, মোবাইল পাওয়া যাবে না, তবে থানায় গিয়ে একটা জিডি করিয়ে নে। কারণ এদের নতুন সিম নেওয়ার নিয়ম কানুন আমার জানা নেই।

এভাবেই ঘণ্টা খানেক কেটে গেল। আমি ভাবছি লুচিটা আমার নিজের বাড়িতে গিয়েই খেতে হবে কিনা, এমন সময় শোকস্তব্ধ বাড়িতে একমাত্র নির্লিপ্ত মানুষ খ-দা স্নান সেরে বেরিয়ে বাজারের থলিটা হাতে নিয়ে গ-বউদির উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়ল – হ্যাঁ গো, আমার ঘড়িটা কোথায় রেখেছ ?

 

 

 

বেশি খুঁজতে হল না, খুব তাড়াতাড়ি খ-দা’র মনে পড়ে গেল আগের দিন রাতে শুতে যাওয়ার সময় নিজের হাতে ঘড়িটা মোবাইলের পাশেই রেখেছিল

যে পথে গিয়াছে মোবাইল
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments