কি লেখা যায় কিছুই মাথায় আসছিল না। তাই মনে হল কিছুই যখন মাথায় আসছে না তখন এই ব্যাপারটা নিয়েই লিখে ফেলা যাক।

 
  • এটা আবার কি!
রাইটার্স ব্লক, কি লেখা যায় বুঝে উঠতে না পারা, নতুন কোন লেখার আইডিয়া না পাওয়া, লেখার কথা ভাবলেই মাথা ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যাওয়া, এসবই হল রাইটার্স ব্লকের লক্ষন।
 
 
  • রাইটার্স ব্লকের কারণ
উৎসাহের অভাব হতে পারে  ধরা যাক কেউ ব্লগে নানা রকমের লেখা লিখছেন, কিন্তু কমেন্ট পাচ্ছেন খুবই কম, মাঝে মাঝে হয়ত কমেন্ট বক্স ফাঁকা পড়ে যাচ্ছে! ফলে আস্তে আস্তে তাঁর লেখার ইচ্ছা হারিয়ে যেতে পারে। রাইটার্স ব্লকের কবলে পড়তে পারেন।
 

হতে পারে জানার অভাব। প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটারদের ক্ষেত্রে এমন হয়। ধরা যাক কোন আর্টিকেল রাইটারকে এমন একটা বিষয়ে লিখতে দেওয়া হল যেটা সম্পর্কে তিনি প্রায় কিছুই জানেন না। গুগল, উইকি ইত্যাদি প্রচুর সার্চ দিয়ে যখন পাতার পর পাতা তথ্য নিয়ে আসলেন তখন হঠাৎ পড়ে গেলেন রাইটার্স ব্লকে। কিছুই আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। কারণ এ ধরণের কাজে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণের ক্ষমতা প্রায় নেই।
 
অপ্রাসঙ্গিক দিকে চলে যাওয়া হতে পারে। ধরা যাক কোন ঔপন্যাসিক একটা উপন্যাস লিখছেন। এখন লিখতে লিখতে তিনি চলে গেলেন মূল চরিত্রের দশ বছর অতীতে, সেখানে তার দাদাভাই সম্পর্কে কিছু কথা লিখলেন, এবার দাদাভাইয়ের গল্পে চলে গেলেন, শেষপর্যন্ত এই উপ কাহিনী যদি অনেকদূর এগিয়ে যায় তাহলে অতীত থেকে বর্তমানে ফেরার প্ল্যানিং করার সময় খেই হারিয়ে ফেলে ঔপন্যাসিকও হতে পারেন রাইটার্স ব্লকের শিকার।
 
রাইটার্স ব্লক দেখা দিতে পারে লেখকের ব্যক্তিগত জীবনে শারীরিক অসুস্থতা, অশান্তি, মানসিক উৎকণ্ঠা, প্রভৃতি কারণে, এটাই সাধারণত হতে দেখা যায়। আরও অনেক কারণেই হতে পারে।
 
 
 
  • সেরেছে, আমায় তো দেখছি রাইটার্স ব্লকে ধরেছে, কি করি!
জানিয়ে রাখা দরকার, লিখতে না পারা বা লেখার প্রতি আকস্মিক অনীহা মানেই রাইটার্স ব্লক নয়। ধরা যাক কেউ সময়ের অভাবে লেখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিখতে পারছেন না। এ জিনিসটা কিন্তু রাইটার্স ব্লক নয়। এমন আরও কিছু কিছু জিনিস রাইটার্স ব্লক নয়। [সূত্র ১]
 
 
 
  • বিখ্যাত লেখকরাও পার পাননি
রাইটার্স ব্লক থেকে পার পাননি বহু বিখ্যাত লেখক। স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ, ফিটজেরাল্ড, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, ভার্জিনিয়া উলফ, লিও টলস্টয়, জোসেফ কনরাড প্রমুখ প্রবাদপ্রতিম লেখকদেরও রাইটার্স ব্লকের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে।
 
কোলরিজের কথাই ধরা যাক, যুবক বয়সটা তাঁর লেখার স্বর্নযুগ। রাইম অফ দ্যা অ্যানসিয়েন্ট ম্রেরিনার, কুবলা খান, প্রভৃতি অসাধারণ কবিতা যাঁর হাত দিয়ে বেরিয়েছিল তিনিই কিনা শেষ পর্যন্ত এক মারাত্মক রাইটার্স ব্লকের কবলে পড়লেন! লিখতে চাইছেন, অথচ লিখতে পারছেন না। কবির জন্য এ এক ভয়ানক যন্ত্রণা! আস্তে আস্তে আফিমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন। স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হল, যাঁর সাথে মিলে "লিরিক্যাল ব্যালাডস" বের করেছিলেন সেই প্রাণের বন্ধু ওয়ার্ডসওয়র্থের সাথে মনোমালিন্য হল। কোনদিনই আর লিখতে পারলেন না সেই লেখা যা তিনি লিখতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি সাহিত্য সমালোচক এবং জার্নালিস্ট হিসাবে অনেক কাজ করেছেন, কিন্তু কবি হিসাবে তাঁর রাইটার্স ব্লক কখনোই কাটেনি।
 
 
 
  • কিভাবে রাইটার্স ব্লক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?
আন্তর্জালে এ বিষয়ে অনেক প্রচলিত টিপস পাওয়া যায়, এর থেকে কয়েকটা আমার বেশ কার্জকরী মনে হওয়ায় উল্লেখ করলাম…
 
১> দাঁতে দাঁত চেপে জোর করে লেখার দরকার নেই। এক কাপ গরম চা/কফি (শীতকালে) বা সেভেন আপ (গরমকালে) খেয়ে ফেলুন । এবার কিছুক্ষণ আপনার প্রিয় গান শুনুন। মনটা লেখালেখি থেকে অন্য দিকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করুন। পারলে একটা টানা ঘুম দিন। দেখবেন এক সময় রাইটার্স ব্লক কেটে গেছে।
 
২> নেটের প্লাগটা ডিসকানেক্ট করে দিন। অত্যধিক সোশ্যাল হতে গিয়ে ফেসবুক, টুইটার নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে অনেকসময়েই নিজের অজান্তেই আমরা রাইটার্স ব্লকের কবলে পড়ি । লেখার টেবিলের কাছে চেয়ার টেনে বসে পড়ুন। আস্তে আস্তে লেখার ইচ্ছা জাগবে। অবশ্য লেখালেখি যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে করেন তাহলে আলাদা কথা!
 
রাইটার্স ব্লক সম্বন্ধে আরও জানার জন্য সূত্রের লিঙ্কগুলো দেখতে পারেন। এ বিষয়ে উইকিপিডিয়ার আর্টিকেলটা [সূত্র ২] পুরো পড়ে ফেললে অনেক কিছুই জানা যায়।
 
  • তথ্যসূত্র

১) www.sff.net/People/LisaRC/isit.htm

২) http://en.wikipedia.org/wiki/Writer's_block

৩) www.scribd.com/doc/22510594/Famous-Writers-Who-Have-Suffered-From-Writer-s-Block

৪) www.newyorker.com/archive/2004/06/14/040614fa_fact

রাইটার্স ব্লক
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments