আজ উনিশে নভেম্বর।পুরুষ দিবস।আজ সারাদিন মরা( MRA) অর্থাৎ মেন রাইটস অ্যাকটিভিস্টরা কেঁদে কেঁদে ফেসবুক নোংরা করে বেড়াবে।আমি ফেসবুকে নেই,তাই এখানে আম্মো রুণু স্মরণ করে ওয়াল এট্টু নোংরা করব।গ্রুপের নিয়মবিরুদ্ধ হলে অ্যাডমিন অবশ্যই ডেলিয়ে দিতে পারেন।
রুণু কে?রুণুর নিজের ভাষায় “একা আমি নয়,অনেক মহাপুরুষের বিরুদ্ধেই এরকম কুৎসা রটানো হয়েছে।” অর্থাৎ রুণু হচ্ছে মহাপুরুষ।মানে বায়োলজিকালি পুরুষ বলতে যা বোঝায় তার এককাঠি ওপরে।মহা অর্থাৎ মারাত্মকভাবে পুরুষ।এরকম এক মানুষকে নিয়ে আজ পুরুষ দিবসে কয়েক লাইন লেখা যায়।
প্রথমে রুণুর স্মরণীয় কিছু চিন্তা ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা যায়।
(১)রুণু সুভাষ চন্দ্র বোসের ভক্ত ছিল।
(২) রুণু আমাদের মহিলা বলে রেফার না করে মা বোন বলে রেফার করত (আর মন্দ লোকে কিনা তাকেই রেপিস্ট বলে)।
(৩)রুণু ট্রামভাড়া বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় ঢিল খেতে খেতে হাতজোড় করে অনুরোধ করে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেছিল(গান্ধিজী থাকলে ওকে “পাগলা কাঁদাবি নাকি” বলে বুকে টানতেন না?)।
(৪) রুণু নকশালদের ‘এমনিতে’ খুব ভালবাসত।
(৫) রুণু মহিলা নকশালদের ধরলে,যেমন আমাদের এখান থেকে পুতুলকে ধরেছিল,কখনই তাদের স্পর্শ করত না।ধমকধামক বা জেরাও নয়।জাস্ট সেন্ট্রাল লক আপে নিয়ে গিয়ে বন্ধ করে দিত।

বলাই বাহুল্য উপরিউক্ত তথ্যগুলো আমি “সাদা আমি কালো আমি” থেকে পেয়েছি।এখন লোকের বৈশিষ্ট্য হল যা তাদের অপছন্দ হয় তা তারা পড়তে চায় না।যেমন গান্ধিবিরোধীরা হিন্দ স্বরাজ না পড়েই তাঁকে গালি দেয়( আমি এরকম করি না,হিন্দ স্বরাজ পড়েই গালি দিই)।যাঁরা মনুসংহিতাকে গালি দেন,তাঁরা অনেকেই মনুসংহিতা পড়েননি।একই কথা রুণুসংহিতা অর্থাৎ সাদা আমি কালো আমির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।একবার জেলে এক চোর নব্বইয়ের দশকে রুণু সংহিতার দুটো ভলিমকে পিঁড়ি বানিয়ে তার উপর বসে বই পড়ছিল,ভাবুন!তো কথাটা হল পড়াটা দরকার।তবে সচেতন হয়ে। যেমন এক মহিলা একবার রুণুসংহিতা পড়ে এতই রুণুমুগ্ধ মানে রুণুর গুণমুগ্ধ হয়ে গেছিলেন যে তাঁর স্টকহোম সিন্ড্রোম দেখা দিতে শুরু করে।এর ফলে তিনি ফেসবুকে অনেকের বিরক্তিরও কারণ হন।যা হোক অপছন্দের বই পড়ার প্রসঙ্গে আসি।

মলয়া দেবী,রাজ্যশ্রী দেবী,মীনাক্ষী দেবী,অর্চনা দেবী,গৌরী দেবী ও লতিকা দেবী – যাঁদের দিনের পর দিন উলটো করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ ছিল রুণুর বিরুদ্ধে তাদের ব্যাপারটা রুণু কিভাবে ব্যাখ্যা করেছে জানার জন্য আমার সাদা আমি কালো আমি বইয়ের দুয়ের পরবর্তী খণ্ডগুলো দরকার ছিল।প্রথম দুটোর পিডিএফ পাওয়া যায়।পরেরগুলোর খোঁজে কলেজ স্ট্রীট গেছিলাম। অভিজ্ঞতা যা হল কোনোদিন ভোলার নয়।প্রথমে যে দোকানে গেলাম, সেখানে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক জানালেন নেই।তারপর আমি পিছন ফিরতেই অত্যন্ত তিক্ত ও শ্লেষাত্মক স্বরে আরেকজনকে বললেন,”এখানে এই বই খুঁজতে এসেছে।”
আমি চিরতা গিলে এগিয়ে গেলাম।আরেকটা বড় পাবলিশারের দোতলা দোকান যারা অন্য সম্পাদনার বইও রাখে।সেখানে লালুদা নামে এক ব্যক্তির কাছে আমাকে আমার যা প্রয়োজন বলতে বলা হয়েছিল।আমি বইয়ের নামটা বলতেই ভদ্রলোক প্রচণ্ড রেগে চেঁচাতে শুরু করলেন,”ওসব বই হবে না।কবে আউট অফ প্রিন্ট হয়ে গেছে।”
আমি এবার রীতিমত অস্বস্তিতে পড়ে পা চালিয়ে নেমে এলাম।তৃতীয় গন্তব্য কফি হাউসের তিনতলার একটি দোকান।এখান থেকে আমি আমার দ্রোহকাল উপন্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক নন ফিকশন পেয়েছি।এই দোকানে পুলিশের লোক নজর রাখে।দোকানে এক খুব শান্ত সংযত ভাবে কথা বলা মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক ছিলেন, তিনি জিজ্ঞেস করছিলেন কেন বইটা খুঁজছি বা রুণুর ব্যাপারে কেন জানতে চাই ইত্যাদি।দ্রোহকালের কথাটা জানালাম।উনি আমাকে সোমেন গুহের বইটা দিতে পারলেন,যেটায় রুণুর ট্রায়ালের বিস্তারিত বর্ণনা আছে।রুণু কেসে হেরে যায় ও কারাদণ্ড হয়।(যদিও কার্যকর হয়নি,সে অন্য প্রসঙ্গ)
যাই হোক যেটা বলার তা হল এখানেই সব চেয়ে ভাল ব্যবহার পেয়েছি।আমার চেহারাটা যেহেতু ছোটখাট তাই আমাকে অনেকেই ‘তুমি’ বলার চেষ্টা করে যেটা আমার পছন্দ নয়।প্রথম সাক্ষাতে কেউ ‘তুমি’ বললে আমার মধ্যে একরকম খুনে instinct দেখা যায়,পাঠক সাক্ষাতে এসে পরীক্ষা করে দেখলে বুঝতে পারবেন। এই ভদ্রলোকও আমাকে ‘তুমি’ সম্বোধন করছিলেন,বিনা অনুমতিতেই। যদিও সেটা বাদ দিলে কথাবার্তা সুন্দর।যাই হোক আমি ওঁর ওপর রাগ করতে পারলাম না তার কারণ ওঁর দুটো কথা।বললেন এক পুলিশের খোঁচড় ঐ বইটার খোঁজ করছিল,কারণ রুণুর নাকি স্মরণসভা হবে।ভদ্রলোক তাকে যাতা বলে দিয়েছেন।
আমি অভিভূত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,”আপনি পুলিশের খোঁচড় চিনতে পারেন?”
উনি স্মিত মুখে বললেন,”হ্যাঁ আসলে জেলটেল খেটেছি তো!”
আমি আমার মুগ্ধতাটা গোপন করতে করতেই একজন সাদা রঙের অভিজাত চেহারার বুড়োমানুষ ঢুকলেন।জেলখাটা মিষ্টি কাকু ওঁর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন,একটা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল। বুড়োমানুষ রুণুর বইয়ের কথা শুনেই আমার ওপর রেগে গেলেন,এবং বেশ তিক্তভাবে বললেন,”বইটা কি খুব দরকার?”
আমি বললাম,”কলেজ স্ট্রীটে এসে যেখানেই বইটা খোঁজ করছি সবাই এত বিচিত্র ভাবে রিঅ্যাক্ট করছে রুণুবাবুর নামটা শুনলেই।বেশ রেগে যাচ্ছে।”
সাদা রঙের রিটায়ার্ড মাস্টারমশাই প্রায় চেঁচিয়ে উঠে বললেন,”রুণু যে রকম লোক,তার গায়ে থুতু দেওয়া উচিত।”
জেলখাটা মিষ্টি কাকুই তাঁকে শান্ত করলেন,”আরে ও একটা উপন্যাস লিখছে বলে খুঁজছে।”
যাই হোক আলাপ পর্বটা এরপর আর খারাপ হল না।আরো দুএকটা কথাবার্তা বলে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম।যেটা বলার জন্য এত কথা লেখা,তা হল শেষের দোকানের ভদ্রলোকের জেল খেটেও অদ্ভুত সংযত আচরণ।অন্যেরা কিন্তু জেল খেটেছেন বলে কিছু প্রকাশ করেননি,তাও নৈর্ব্যক্তিকতা বজায় রাখতে পারেননি।রাখা উচিত আমি বলছি না,কিন্তু শেষের ভদ্রলোকের সংযম আর খুব শান্ত ভাবে হাসিমুখে জেল খাটার কথাটা বলে দেওয়া- এই দুটো আমার চমৎকার লেগেছে।জানি না কেন জেল খেটেছেন,রাজনৈতিক কারণেই সম্ভবত।
যাই হোক রুণু যে নিজের নামের মহিমার কথা বার বার লিখেছে, কলেজ স্ট্রীটে গিয়েই তার মাহাত্ম্য বুঝতে পারলাম।এবার আমার লেখাটা রুণুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি যারপরনাই অশ্লীল ছড়া দিয়ে শেষ করছি।ছড়াটা যদি গ্রুপের নিয়মভঙ্গ করে,আমাকে জানাবেন।আমি ডিলিট করে দেব।
ছড়াটি নিম্নরূপ,

রুণু রুণু রুণু
বঞ্চিত রুণু।
লালবাজারের
বালবাজারি,
বকচোদিকারী
হনু।
পাকানো চিংড়ি সম
ক্ষুদ্রতম নু*।

রুণু স্মরণে
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments