সন্ধের কিছু পরে চাঁদ উঠেছিল, অতি বিলম্বিত। সুর থেকে মীড় গড়িয়ে পড়ে যেমন, মধুগামিনী, অনূঢ়ার নির্লাজ আতপ যেভাবে স্ফুরিত হয় ক্রমে প্রেমিকের স্পর্শে, শুক্ল পঞ্চমীর পোকায় কাটা চাঁদ, গৌরীপুর জুটমিলের পাঁশুটে চিমনির পিছন থেকে। বোমা গুলির শব্দ ইদানিং আর… দাঙ্গার রাত্রি শেষে মানুষের কালঘাম জয়ী হয় প্রতিবার! মাদুলির ভিতর থেকে কথা বলে ওঠেন সহস্র মন্ত্রের ঋষিরা। তাঁদের মার্শমেলো হাসি লেগে থাকে মানুষের কোমরে ও কবজিতে। চাঁদের মানুষ তাঁরা, মহাকাব্যের নিশ্চয়তায় বাঁধা তাদের পাঁচালী জীবন।

ইদানিং এইসব স্বপ্নই দেখে চলি আমি। বসন্তের হলদেটে পাতারা সারাদিন ঝরে চলে অবিরাম। প্রেমহীন মদের স্বেদগন্ধে খুঁজে পাই সহস্র চিরুনি। স্বর্গের উপকূল থেকে ভেসে আসে শীত, রিফিউজি শিশুর বেশে। মুঠো ভরা তার অনাত্মীয় বালি আর কাদা, যা কিছু আপন। জীবনের প্রেম আর বিভ্রমকে মৃত্যুর তুলি দিয়ে এঁকেছিল যে সমস্ত কবি আর শিল্পীরা, আজ তারা শেষ ট্রেন ধরে চলে গেছে শহর থেকে বহু দূরে। বিমর্ষ রাতের ওপারে নতুন কোনও দিনের আশ্বাস যোগাবার কেউ নেই আর। সূর্যের উজ্জ্বলতা চেটে নিয়েছে চেরনোবিলের টিকটিকি। তার কাঁচের চোখের ভিতরে থেকে চেয়ে আছে এক বোবা নারী। আমাদের মা সে। সন্তানের শবযাত্রার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে পুরুষকার ঘৃণা, নির্বাক ভঙ্গিমায়।

জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়া ময়দানের কালচে প্রান্তর দিয়ে টলমল হেঁটে আসছে চার্ণকের ভুত। হাতে রক্তাক্ত ভোজালি, অন্য হাতে মৃত মোরগ ঝুঁটি। প্রতিটা সভ্যতার পত্তনে এভাবেই দলে দলে প্রাণ দিয়েছে অজস্র মোরগ ও ইঁদুরেরা। পরানখাগী মা-মাগী প্রকৃতিকে রক্ত দিয়ে স্নান করাতে করাতে অমৃতের পুত্রকন্যাদের কেটে গেছে সহস্র বছর। নদীর স্রোতের বাঁকে ভেসে গেছে মাহেঞ্জোদারো-মানুষের সৌখীন খড়ম, ঘোলাটে চশমা, আচারের বয়াম। তাদের জন্য  কোথাও কোনো শহিদ মিনার তৈরি হয়নি। আমাদের নিয়েও হবেনা। আমাদের হারিয়ে যাওয়া ছাতারা চিঠি লিখে জানাবেনা কুশল সংবাদ। সভ্যতার যুদ্ধবিদ্ধস্ত চৌমাথায় ফাটল ধরা দেওয়ালের গায়ে ঝোলানো লেটারবক্সে কেউ ফেলে যাবেনা আমাদের ঠিকানা লেখা প্রেমপত্র। 

র‍্যান্ডম দুঃখবিলাসিতা
  • 4.00 / 5 5
1 vote, 4.00 avg. rating (81% score)

Comments

comments