সপ্তাহ দু-এক আগে, হঠাৎ করে চর্যাপদের পাতা উল্টোতে গিয়ে দেখলাম, গত বছরের বাছাই চর্যাপদ এসে গেছে, আর কিভাবে যেন আমার একটি লেখাও বাছাই হয়ে গেছে, তার মাঝে। বলা বাহুল্য, যে নির্বাচিত হতে পেরে, আমার খুব-ই ভালো লাগলো, এবং সেই ভাললাগাটা মোটেও খুচরো ভালো লাগা নয়। আর যে কোন পুরস্কার মানুষের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়, তাই আমিও একটু আত্মানুসন্ধান করতে বসলাম; ভাবলাম, ভাগ্যিস গোষ্টী-ব্লগে লিখি, তাই দীর্ঘদিন না লিখলেও দায়িত্ব এড়ানো যায়। আসলে গত আগস্ট থেকে পুরো দস্তুর কাজে যোগদান করার পর, হাতে উদ্বৃত্ত সময় সত্যি কম, তবে এতটাও কম নয়, যে দু সপ্তাহেও একটা লেখা দেওয়া যায় না, তাই এই লেখাটা নিয়ে বসলাম; নিজের কথা না হয়, অন্য কোন সময় বলব, আপাতত শিশুপালনে মন দেওয়া যাক। নিউট্রন-এর দিকে তাকিয়ে প্রথমেই মনে হল সর্দি-কাশির সমস্যার কথা, কারণ আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে, নিউট্রন বাবু হ্যাঁচ্চো শুরু করে দেন, যার অর্থ, প্রতি দেড় মাস অন্তর একবার করে কোন না কোন ঘরোয়া টোটকার সাহায্য নিতে হয়।
৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্যেঃ
১। স্তন্যপান। স্তন্যপান এবং স্তন্যপান। ৬ মাসের থেকে কম বয়সী শিশুদের জন্যে, স্তন্যপান ছাড়া সত্যি সেভাবে অন্য কোন ওষুধ নেই। ব্যাকটেরিয়ার সাথে জুদ্ধ করতেই হোক, কিম্বা দেহকে হাইড্রেটেড রাখতেই হোক, স্তন্যপান করানোই ভরসা।
২। এখন শিশুর জন্মের সময়-ই সমস্ত ডাক্তার একটি নাকের ড্রপ লিখে দেন; এগুলি সাধারনত কোন ওষুধ নয়, শুধুমাত্র নুন-জল বলা যেতে পারে, এমনকি বাড়িতেও তৈরি করা সম্ভব, তবে তার থেকে স্ট্যান্ডার্ড কোন ন্যাসাল ড্রপ কিনে নেওাই ভালো, যত বার খুশি ব্যাবহার করা যায়, কোন সাইড এফেক্ট ছাড়াই।
৩। সাধারনত সরদি-কাশি হলে খুব কম শিশুই ঘুমোতে পারে; কোলে নিয়ে বসএ থাকাটাই রীতি, তবু যদি বিছানায় শোয়াতে পারেন, তাহলে শিশুর মাথা একটু উঁচু করে রাখা উচিত, যাতে শ্বাস নিতে অসুবিধা কম হয়।
৪। এছাড়াও যথা সম্ভব নাক পরিস্কার করে দেওয়া, উপযুক্ত জামাকাপড় পরানো, যাতে বুক চাপা থাকে, এবং ঠান্ডা না লাগতে পারে, বারবার স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জামাকাপড়, বিছানা পরিচ্ছন্ন রাখা যাতে জার্ম ছড়াতে না পারে, ইত্যাদি লক্ষ্য রাখা উচিত।
৫। হাতে-পায়ের চেটোতে সরশের তেল হাল্কা গরম করে লাগানো যেতে পারে, তবে দেখতে হবে, যে তেল লাগানোর পরে যেন হাত-পায়ে ঠান্ডা না লাগে! সুতির মোজা পরিয়ে রাখতে পারলে ভালো হয়।
৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সীদের জন্যেঃ
৬। প্রচুর বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং গরম সুপ (টোম্যাটো সুপ, ভেজিটেবল সুপ/ টোম্যাটো -রসুন এবং ১০ মাসের বেশি হলে চিকেন সুপ) খাওয়ানো।
৭। রসুন এবং জোয়ানের পুঁটলিঃ রুটির চাটুতে, দুটো বড় মাপের রসুন কোয়া, এবং এক মুঠো যোয়ান, গরম করার পর ঠান্ডা হলে একটি পরিস্কার রুমালে নিয়ে পুঁটলি তৈরি করুন, শিশুর বালিশের তলায় রেখে দিন, মাঝে মাঝে নাক বন্ধ হয়ে গেলে সরাসরি শোঁকাতে পারেন।
১ বছরের বড় শিশুদের জন্যে
৮। পাঁচনঃ বিভিন্ন প্রকার পাঁচন তৈরি করা যায়। আমি নিজে পছন্দ করি, এক কাপ জলে ১ সেমি মত কুড়িয়ে রাখা আদা, ৫ টি গোলমরিচ, ৫টি লবঙ্গ, ২ চামচ মধু দিয়ে ফুটিয়ে আধ কাপ করতে হবে। একবারে ২ চামচ করে দিনে ৩/৪ বার দেওয়া যেতে পারে।
৯। দুধে হলুদবাটা মিশিয়ে খাওালে কাশির জন্যে যাদুর মত কাজ করে।
১০। হলুদবাটা এবং আখের গুঁড় মিশিয়ে ঘুমনোর আগে খাওয়ানো যেতে পারে।
১১। যোয়ান এবং তুলসি পাতা মিশিয়ে জল ফুটিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে, বুকে জমে থাকা সর্দি এবং কাশির জন্যে খুব ভালো কাজ করে।
১২। আদা-পাঁচনঃ আদা, তুলসি পাতা, লবঙ্গ, তেজপাতা, এবং আখের গুড়/ মধু জলের সাথে ফুটিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
৩ বছরের বড় শিশুদের জন্যেঃ
১৩। ভেপার নেওয়ানোঃ একটি বড় কেতলি তে ফুটন্ত গরম জল দিয়ে, তাতে দু ফোঁটা ভেপারের ওষুধ দিয়ে রাখতে হবে। কেতলির জল ঢালার মুখটা দিয়ে বেরিয়ে আসা গরম ধোঁয়া শ্বাসের সাথে নিতে হবে।
১৪। গারগেল করাতে পারলে সব থেকে ভালো হয়।
১৫। গরম জলে মধু এবং পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খাওাতে পারলে ভালো হয়।
সমস্ত শিশুদের জন্যেঃ
১৬। পর্যাপ্ত বিশ্রাম
১৭। প্রচুর পরিমাণে জল এবং অন্যান্য গরম পানীয়
১৮। ঘরে মশক-নিবারণী ওষুধ/কয়েল না লাগানো
১৯। ঘরের মধ্যে ভিজে জামাকাপড় শুকোতে না দেওয়া এবং
২০। যথা সম্ভব জীবাণুমুক্ত থাকা।

এসব কিছু করার পরেও সর্দি-কাশি না কম্লে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। এখনকার দিনে বেশিরভাগ ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে চান না; তবে খুব বেড়ে গেলে না দিয়ে উপায়ও থাকে না! তবে দেখা দরকার স্টেরএড যাতে এড়িয়ে চলা যায়। “corti” গ্রুপের কোন ওষুধ লিখে দিলে, ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত স্টেরএড কিনা জেনে নেওয়া এবং কেন স্টেরএড দেওয়া জরুরি তা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে।
স্টেরএড খাওয়ার থেকে ঢের বেশি ভালো, স্টেরএড ইনহেল করা। তাই ‘করটি’ গ্রুপের ওষুধ খাওানোর থেকে ভালো নেবুলাইজার দিয়ে ওষুধ নিতে পারলে। নেবুলাইজার নিতে হবে শুনলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বাচ্ছা একটু অপছন্দ করলেও সত্যি এটা ভালো উপায়, তবে দেখতে হবে নেবুলাইজার যেন বছরে একবারের বেশি না নিতে হয়।
সবশেষে একটা কথা বলব, বাচ্চা থাকলে, সরদি-কাশিও থাকবে, তাই অতিরিক্ত ভয় না পেয়ে, স্বাভাবিক ভাবে শিশুকে বড় করা উচিত।

সর্দিকাশি-র কিছু ঘরোয়া চিকিতসা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments