আজ একজন অচেনা মানুষের সাথে দেখা হল, যিনি দাবী করে বসলেন যে তিনি  নাকি  নিজেকে  সম্মোহিত করে রাখতে পারেন।

তাকে আমি একটাই কথা বললাম- আপনি তো নিজেকে প্লাগ আউট করেই রাখতে পারেন। কেন খামোখা মিক্সড ওয়ার্ল্ড এনটিটি হতে চান ?

উত্তর এলো – বুঝলেন , এই সম্মোহন হল একটা ক্লিন্সিং প্রসেস । ধরুন লম্বা সময় স্নান করার পরে বেরিয়ে এলেন , তখন শরীর আর মন দুটোই পুরো ক্লিন । আপনার মনে হচ্ছে এখন আর নোংরা ঘাটব না । তাই তো ? ঠিক এরকম সময়েই উঠোনে যদি কেশরের মতো ফুলে ওঠা স্পঞ্জি শ্যাওলা দেখে ফেলেন বা এই ধরুন মিহি সাদা বালির ঢিবি ; হাতে তেমন কাজ যদি না থাকে সেদিকে মন , পা ও পায়ের নখ যাবেই যাবে । আমরা ইটারেশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্যে সব সময়ে তৈরি । ভালো লাগার জিনিস কে বারবার , আরও বেশী বার পাওয়ার জন্যেই আমাদের যতো চেষ্টা , যতো ছটফটানি । শুধু পারপাসএর অ্যাসিওরেন্স টা পেলে ই আমরা খোঁজ করি – কই ইন্সট্যান্স কই ? না খুঁজে পেলে ক্রিয়েট করি ।

আমার দিকে প্রশ্ন এলো – আপনার এরকম প্রসেস ভালো লাগে না ? এতো উচ্চমার্গের সিসনিং পাথ , মনে হয়নি কোনোদিন নিজেকে একটু হাঁটিয়ে দেখি ?

আমি বললাম – সেরম যদি বলেন , তবে বলি আমি নিজের ভালো লাগা আর ভালো না লাগা ব্যাপারটাকে একটা ট্রেনিং প্রসেস এর মতো ভেবে নিয়েছি । আগন্তুক বললেন – সেটা কেমন ব্যাপার ? আমি বললাম এই দেখুন – একটা জিনিস ধরুন আজকে আমার ভালো লাগছে । কালকে আমি জোর করে নিজেকে বোঝাই এটা আমার ভালো লাগে না , লাগতে পারে না । ওই জিনিসটার প্রতি খুঁচিয়ে অ্যালার্জি তৈরি করি । আবার তার পরের দিন মলম লাগানোর কায়দায় নিজেকে বোঝাই , ভালো না লাগা আবার কি ? ভালো না লাগা এক্সিসট করে না, কারণ ভালো লাগাটাই তো আছে কি না বুঝে ওঠার আগে এই গত পরশুদিন বেঞ্জিন ভেপারের মতো নেই হয়ে গেছিল । মনটা যেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বোকা বোকা মুখ করেছে , একটা চকোলেট ধরিয়ে দিয়ে আবার আমি তাকে পরশু-র ভালো লাগা ব্যাপারটা আজকে নতুন করে ভালো লাগালাম । একদম বেগিনিং থেকে শুরু । মেমোরি অফ ইন্সট্যান্স আছে , অথচ মেমোরি অফ ইম্প্রেশন , ইনফারেন্স কিচ্ছুটি নেই ।

উনি বল্লেন-কোনও লাভ হয়?

আমি বললাম হয় । এটা করে ফেলতে পারলে তখন সব সয় – গ্রোথ , স্ট্যান্ড , ক্ষয় । কষ্ট হয় না ।

উনি খুশি হলেন বেশ। বললেন টেকনিক টা তো ভালোই । আউটকাম – টা এই সম্মোহনের প্রায় কাছাকাছি ই । তারপরে ফোন নম্বর চাইলেন, বল্লেন দেখা হলে ভালো লাগবে ।

আমি বললাম আজকে দেখা হল , পারলে কালকের মধ্যে আমায় ভুলে যান । পরশু দেখা হলে আবার মনে করবেন আজকের কথা। খুব , খুউউউব ভালো লাগবে । উনি তখন আমার দিকে অপলক তাকিয়ে । একবার মাথা ঘুরিয়ে নিলেন। কি একটা ভেবে আবারো তাকালেন , তখনো পুরো ব্যাপারটা যে সিঙ্ক ইন করেনি সেটা ওনার চোখ দেখেই বুঝলাম । উনি তাকিয়ে রইলেন । একবার " আচ্ছা এরকম ব্যাপার ! " গোছের মাথা ঝাকিয়ে উনি নিজের জগতে ডুবে গেলেন । আমার দিকে তাকিয়েও উনি তখন আর আমাকে দেখছেন না । " কালকের এবং পরশুদিনের" জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন বোধহয় ! ওঁর প্রস্তুতিতে আর বাগড়া দিলাম না , একটু নিজের মতো থাকতে দিলাম-ই না হয় ওঁকে ।

আমাদের দুজনের মাঝখানের এক অদ্ভুত ও অভূতপূর্ব নিস্তব্ধতাকে সি অফ করে দিয়ে আমরা নিজের নিজের পথ ধরলাম।

 

 

সিজনিং – ট্রেনিং
  • 4.00 / 5 5
2 votes, 4.00 avg. rating (80% score)

Comments

comments