আমার পুরো ছোটোবেলা জুড়েই বাড়িতে একটা দারুণ ব্ল্যাক-অ্য্যান্ড-হোয়াইট টিভি ছিলো, আপট্রন কোম্পানির – তার সঙ্গী ছিলো ছাদের উপর একটা নড়বড়ে অ্যান্টেনা, তাতে কাক-পায়রা একসাথে বসে পাড়া পাহারা দিতো, আর মা বলতেন বাইরে বাজ চমকালেই দৌড়ে গিয়ে টিভি অফ করে দিতে – বজ্রবিদ্যুত-সহ বৃষ্টি  না হলে ওই অ্য্যান্টেনা বেয়ে টিভিতে ঢুকে পড়বে যে কোনোদিন। সত্যি বলতে কোনোদিনই জানা হয়ে ওঠেনি, সত্যি ওর'ম হয় কিনা, তবে এখনো বাইরে বাজ-টাজ পড়লে অল্প-স্বল্প ভয় করে ওঠে।

 

আপট্রনের কৈবল্যপ্রাপ্তি আর কোনোদিনই হয়নি – শুধুই ডিডি ওয়ান, ডিডি টু আর মাঝে মাঝে টিভির কানটা আরো বেশ কয়েক ঘর মুলে দিলে ঝাপসা করে ডিডি থ্রি। আমাদের পাশের ঘর ভাড়াটেদের আবার বাংলাদেশের লাইন ছিলো, মাঝে মাঝে বিকেলের মলয় বাতাসে দুই অ্য্যান্টেনায় ঠোকাঠুকি লাগলে দিব্যি ঢাকার খবর শুনতে পেতাম, কিস্যু বুঝি আর না বুঝি – বেশ খানিকক্ষণ হাঁ করে দেখে নিতাম, এখন যেমন জুপিটারে নাসার পাঠানো প্রোবের তোলা ছবি দেখি অবাক বিস্ময়ে …

 

ঠিক মাঝের ঘরে একটা মান্ধাতার আমলের পুরোনো টেবিল ছিলো, তার উপরে রামকৃষ্ণ-সারদা-বিবেকানন্দের ছবি আর দুটো সাদা ফুলদানির মাঝে জ্বলজ্বল করতো আমাদের আপ্ট্রন, মাথায় মায়ের বোনা নক্সা-করা কভার পরে। আর তার চিরসাথী ছিলো তাপসদা, পাড়ার বেকার যুবক, এদিক-ওদিক অ্যাপ্লাই করে বেড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে পড়শিদের বাড়ি বাড়ি টিভি আর রেডিও সারাতো। মধ্যেমধ্যেই মাস ছয়েক কেঁপে কেঁপে, বাবার হাতের চড়-থাপ্পড় খেয়ে যেদিন আপট্রন দেহ রাখতো, আমার উপর হুকুম পড়তো – সারা পাড়া ঘুরে কোনো একটা রকের আড্ডা বা ক্যারমের বোর্ড থেকে তাপসদাকে ধরে আনা ! গাঁইগুঁই করতে করতে তাপসদা আসতো, সারাদিন লেগে থেকে সন্ধ্যে সাতটার খবরের ঠিক আগে টিভি আবার জেগে উঠতো কি করে যেন, তাপসদা কি কি চার অক্ষর বলতে বলতে রকের আডডায় ফিরতো তা জানিনা, তবে আমি ভাবতাম লোকটা নির্ঘাত ম্যাজিক জানে … শেষের দিকে তাপসদা আর টিভি কেমন মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গেছিলো, বিকেলে ঘুরতে ঘুরতে তাপসদা চলে আসতো বাড়িতে, চা খেতে খেতে টিভির পেছন খুলে কিসব চিপ-ফিপ লাগিয়ে গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে যেতো, পয়সাও নিতো কিনা কে জানে, সেদিন রাতে আপট্রনের আওয়াজে যেন একটু জোর পেতাম …

 

প্রাইমারী থেকে সবে সেকেন্ডারি উঠলাম, বিকেলে বাড়ি ফিরতাম স্কুলে বকুনি-প্যাঁদানি খেয়ে, কোনো-কোনোদিন আবার খাতায় গার্জেন-কলের চোখরাঙানি – ফিরেই মেট্রো চ্যানেলে শুরু হতো সুপার-হিউম্যান সামুরাই, সে এক অন্য লেভেলের ফিউচারিস্টিক শো, কম্পিউটারের তার বেয়ে কিছু ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া বাচ্চা গিয়ে ডাইনোরূপেণ সংস্থিতা ভাইরাসদের কেলিয়ে আসতো, আমার বাংলা মিডিয়ামের বিদ্যেয় তাদের কথাবার্তা বুঝতাম না, কিন্তু ক্যালাকেলি দেখতাম রসিয়ে-রসিয়ে … গোগ্রাসে গিলতাম মহেশ ভাটের টার্নিং পয়েন্ট, আর মানেকা গান্ধীর শো 'হেডস অ্য্যান্ড টেলস', যার একটা এপিসোড দেখে প্রায় এক বছর নিরামিশাষী হয়ে গেছিলো সেই দশ-বারো বছরের আমি !

 

এসব হলো গিয়ে সেই শেষ নব্বুইয়ের কথা, তখনও জীবনে দফা ৩০২ আসেনি, ডেবোনেয়ার তখনও কীটসের কবিতার মধ্যে লালকালিতে দাগানো একটা শব্দ, যার মানেটা দিদিকে জিগ্যেস করে নিতে হবে একদিন – সেই সময় আমার জীবনে নিষিদ্ধ আনন্দের জানলা ওই ব্ল্যাক-অ্য্যান্ড-হোয়াইট আড়াই চ্যানেলের বোকাবাক্স। সেও এক রোমহর্ষক অ্য্যাডভেঞ্চারের গল্প। ওদিকে বিষ্যুদবার পৌনে আটটা বাজবো, বাজবো করছে – বাবা মুখের সামনে আনন্দবাজার বা লাইব্রেরী থেকে আনা শঙ্কু মহারাজের ভ্রমণকাহিনী ধরে একটার পর একটা সিগারেট টানছে আর মা রান্নাঘরে তিন-চারটে রোবিন্দোসঙ্গীত আর অতুল্প্রসাদী ম্যাশ-আপ করে একটা মেলোড্রামাটিক ভজন গাইতে গাইতে রুটি বেলছে, আমার আর দিদির তো আর বীজগণিতে মন নেই, চিত্রহারে নিশ্চয়ই এতক্ষণে আর্ধেক শেষ – এমনি সময় deuce ex machina-র মতন অব্যর্থ কলিং বেল, নিতাইকাকু ওষুধ নিতে এসেছে – অর্থাৎ বাবার থাবা মিনিট দশেকের জন্য অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে – সত্যি বলছি, ঐ যে শেষ হতে হতে, কোনোরকমে ভল্যুমটা আস্তে করে লাস্ট দুটো গান শুনে নেওয়ার যে তৃপ্তি, টাকা দিয়ে কনসার্টে গিয়েও পাইনি আর কোনোদিন …

 

বাবা ঠিক করে দিতেন কোনগুলো বাচ্চাদের উপযুক্ত শো, আর কোনগুলো এক্কেরে নৈব-নৈব চ, যেমন ধরুন আপনি রোববার সক্কালে টিভি খুলে বসে গেলেন, টেলস্পিন চলেগা, ডাকটেলস-ও চলেগা, কিন্তু চন্দ্রকান্তা-কি-কাহানি? নোপ ! ওদিকে মহাভারত, রামায়ণ, স্বপ্নিল যোশির শ্রীকৃষ্ণ চলতে পারে, মাঝদুপুরে জননী, সন্ধ্যে পড়লেই জন্মভূমি, কিন্তু সি-হক্স দেখলে চ্যানেল ঘুরিয়ে দেওয়া হবেই হবে, আর সুপারহিট মুকাবিলা? ভাবাই যায় না … সে যখন নাম পালটে হয়ে গেলো আওয়াল নাম্বার, লুকিয়ে-চুরিয়ে দেড় মিনিটের গান শোনার আশায় কত মিনিট যে বাবা সায়গলকে সয়েছি, ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে …

 

তাও বিদ্রোহ তো হতোই, নীলাঞ্জনা যদি নচিকেতার হন, আমার তবে নিকি অনেজা, আর দিদির তবে আধাআধি করে এদিকে রাঘবন, ওদিকে ক্যাপ্টেন ভ্যোম, মিলিন্দ সোমান। আর বিকেল হলে মা যখন একটু গড়িয়ে নিচ্ছে, সেই ফাঁকে অকথ্য বাংলায় ডাব করা সোওয়াভিমান … প্লটের মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝতাম না, হাঁ করে কিটু গিদোয়ানিকে দেখতাম …

 

রোব্বারের বিকেলে বাংলা সিনেমাটা চলতো বটে, মাঝেসাঝে পাড়ার দু-একটা কাকা-জ্যেঠা শুদ্ধু হই-হই ব্যাপার, তবে সেন্সর-সমেত, যেই না বৃষ্টির রাত্রে দেবশ্রী ছাদে উঠে গান ধরলেন, 'আর কত রাত একা থাকবো?', বাবার চোয়াল অমনি কঠিন হলো, আর তক্ষুণি জানা গেলো শীতলা-মন্দিরের পাশে চপ ভাজা হচ্ছে, দু মিনিট দেরি হলেও একটাও কচুরি থাকবে না আমাদের জন্য …

 

যে দুটো জিনিষ এইসবের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতো অক্ষত দেহে, একটা হলো খেলা, আর এক ছিলো ডিটেক্টিভ সিরিজ, আর ছিলোও সেসব দারুণ দারুণ, কুচো বয়সে রজিত কাপুরের ব্যোমকেশ, তারপর এলো শেখর সুমনের রিপোর্টার, সুদেশ বেরির সুরাগ … সুরাগ কিন্তু এর মধ্যে একটা মাস্টারপিস, যারা দেখেননি, তারা জানেনও না সে কি জিনিষ, সুদেশ বেরি ঠিক লাস্ট মোমেন্টে এসে খুনীকে ধরবেন, আর ধরার পরেই সেই মুখের সবকটা মাসল কাঁপিয়ে সেই অমর ডায়লগঃ দিস ইস চেক, মেট !

 

বাংলাও অবিশ্যি পিছিয়ে ছিলো না, দুপুরের দিকে হতো এক-শুন্য-শুন্য, আর সপ্তাহে একদিন (?) রাত্রে 'আবার যখের ধন', যাতে আবার একটা গোরিমান-টাইপের কস্টিউম পরা ঘটোৎকচ এদিক-ওদিক ঘাড় মটকে বেড়াতো, আর দ্বিজেন বন্দ্যো যেই বলতেন 'বিমলবাবু ভাই', সব্বাই হেসে গড়িয়ে পড়তো … (অনেক, অনেক পরে বাংলায় একবার ব্যোমকেশ হয়েছিলো, সুদীপ মুখার্জীকে দিয়ে, সে যাকে বলে চাঁদেও দ, আর পোঁদেও দ, দেখতে দেখতে মনে হতো দিই এক ঠাস করে !), আর ছিলেন পঙ্কজ সাহা, বিকেলে আসতেন দর্শকের দরবারে, আর সেইসব একলা বৈশাখের দিন নববর্ষের বৈঠক নিয়ে …

 

এর মধ্যে কোত্থেকে যেনো হুহু করে বাজারে ছেয়ে গেলো কেবল লাইন, আর সে 'অনির্বচনীয় হুন্ডি শুধু দু-একজনের হাতে' … স্কুলের বাসেই তখন আসল ক্লাসটা হয়, যাদের কেবল, তাঁদের কারুর কারুর আবার কুল বাপমা, বাসে যেতে যেতে সবাই জুলজুল করে শুনতাম রাত্রে রেন্দেজভ্যুস-এ সিমি গারেওয়াল কি কি বল্লেন, আর জি-তে কি সিনেমা আসবে সে সপ্তায় …

 

আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম, আমি আর সব বন্ধুরাই, নাইন-টেনে উঠতে উঠতে বুঝলাম, ডিডি-ওয়ান আর টু ততদিনে ডাইনোসরেরও প্রপিতামহ, বন্ধুরা বড়দের সামনে ইএস্পিএন, ডিসকভারি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং আড়ালে এফ-টিভি আর রেন টিভির গল্প করতো, আগের সপ্তাহে কারা লুকিয়ে বেওয়াচ দেখেছে, আর আমরা, বাকিরা টিভির দোকানের সামনে জমা ভিড়কে জিজ্ঞেস করে নিতাম, 'দাদা, ক'টা উইকেট পড়লো?', আর পরের দিনের আনন্দবাজারে খেলার পাতাটা পড়তে পড়তে ভাবতাম শালা একদিন আমাদেরও দিন আসবে …

 

আমাদেরও দিন এসেছিলো, তবে কেবল লাইন দিয়ে নয়, সেই দুরদর্শনেই, সে এক আশ্চর্য schadenfreude, নরেন্দ্রপুরে ঢুকে দেখলাম বড়োসড়ো খেলা বাদে টিভি চলে না, খালি একচিলতে রোদ্দুর শুক্রবারের রাত, একবাটি মাংসের ঝোল আর একটা হিন্দি সিনেমা – একটা গোটা হোস্টেল একটা পঁচিশ ইঞ্চির টিভিতে হাঁ করে সুনীল শেঠঠির 'ভাই' কি সানি দেওলের 'ঘায়েল' দেখছে, এমনকি চোর চুরি করতে এসে চুরি ভুলে বোঁচকা পাশে রেখে হাত্তালি দিয়ে উঠছে, এ দৃশ্য যদি দেখতে চান, সোজা চলে আসুন কলকাতা – ১০৩-এ!

 

টিভির সাথে সম্পর্কটা সেখান থেকেই আস্তে আস্তে ফুরিয়ে এলো, নরেন্দ্রপুর শেষ করলাম, আই-এস-আইতে এসে দেখলাম একটা টিভি লাউঞ্জ আছে বটে, তবে কেউ না কেউ সবসময়ই বসে কিছু না কিছু খেলা দেখে – আর কখনো কখনো বনহুগলির মোড় থেকে ভাড়া করে আনা সিডি। এক বন্ধুর কাছ থেকে ফ্রেন্ডস দেখা শিখলাম, সেখানে দেখলাম কেউ মজার কথা বল্লেই নেপথ্যে হাসির রোল পড়ে যায়, কেমন জানি কথামৃত মনে পড়ে গেলো, ঠিক যেন ঠাকুর বসে পিজে মারছেন, আর শ্রীম ব্র্যাকেটে লিখে রাখছেন "পার্ষদবৃন্দের হাস্য" … আর যে গার্লফ্রেন্ড ছিলো তখন, তার বাড়িতে গেলেই দেখতাম একঘরে তার মা বসে কিউঁকি দেখছেন, আরেক ঘরে তার বাপ বসে সিএনবিসির ফুটনোট !

 

তারপর সে যেন কয়েকশো বছর পেরিয়ে গেলো কি করে, সিনেমায় নামার শখ চেপে চেপে একদিন একটা স্টেজে উঠে পড়লাম, দেখলাম উইংসের ধার থেকে কেমন মায়ামাখানো লাগে অডিয়েন্সের আবছা অস্তিত্ব, সে এক অন্য বসন্ত আমাদের – কমল্কুমার এলেন জীবনে, ক্রমে আলো এলো, আগুন, মুখোশ, পরচুলা ইত্যাদি নিয়ে  এলেন সন্দীপন, একদিন একটা রিহার্সালে গৌরবদা অ্য্যাক্টিং করতে করতে মেঝেয় ঠুকে ঠুকে পা-টাই ভেঙ্গে ফেললো – নাটক-ক্লাব শুরু হয়েও বন্ধ হতে হতে, এসে পড়লো আমাদের হাতের তালুতে … টিভি তখন সময়-নষ্টের নামান্তর !

 

এই তো পরশু-দিন ভারত ক্রিকেটে একদম লাস্ট ওভারে গিয়ে হেরে যাওয়ার পর এক জুনিয়রের পোস্ট দেখে মনে পড়লো দশ, না কুড়ি বছর আগের এক রাতের কথা, ব্যাঙ্গালোরে ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, আমাদের সব ব্যাটসম্যান আউট, মা-বাবা মন-খারাপ করে বাইরের ঘরে বসে আছে যাতে টিভিতে হেরে যাওয়াটা দেখতে না হয়, আমার তো বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না … এমনি সময় জ্বলে উঠলেন কুম্বলে আর শ্রীনাথ, স্টিভ ওয়া-র বলে একটা বিশাল উঁচু শট আর অম্নি আপ্ট্রন অন্ধকার, আমার চিৎকার শুনে বাবা দৌড়ে এসে এক চড় কষালেন টিভির পাশে, আর একটা বিশাল ছক্কা গিয়ে পড়লো চিন্নাস্বামীর গ্যালারিতে, আহ নস্ট্যালজিয়া !

 

তারপর অনেক কষ্টেও মনে করতে পারলাম না, শেষমেশ কি হলো সেই টিভিটার? তাপসদাই কি শেষে একদিন এসে নিয়ে গেছিলো না সকাল আটটার কর্পোরেশনের বাঁশির আওয়াজে একদিন রাস্তার ধারে নামিয়ে দিয়ে এসেছিলাম আমি-ই? মনে পড়লো না! মনে পড়লো তাপসদাকে দেখে দেখে আমার বাবাও টিভির কলকব্জা শিখে গেছিলেন দিব্যি, মাঝে মাঝে একটা ইস্ক্রুপ ড্রাইভার নিয়ে টিভি খুলে বসে পড়তেন, ঠোঁট থেকে ঝুলতো উইলস ফ্লেক! আমরা তখন মনে মনে প্রমাদ গণতাম … এই গেলো বুঝি !

 

সত্যি বলতে গেলে খুব রাগ হতো, পাশের বাড়ির টুব্লুদাই কেবল টিভির ডিস্ট্রিবিউটার, তাও নেবে না - ওরা অবশ্য ভাবতো ওইটা নেই বলেই না আমরা ফি বছর ব্যাগভর্তি নম্বর নিয়ে বাড়ি ঢুকছি আর দেশের-দশের মুখ উজ্জ্বল করছি -

 

বললে পেত্যয় যাবেন না, দেশের না'হক পাড়ার মুখ প্রায় উজ্জ্বল হয়ে গেছিলো আরেকটু হলেই, সেবার জয়েন্টে নরেন্দ্রপুরের সবাই স্ট্যান্ড-ফ্যাণ্ড করে ফাটিয়ে দিয়েছি, আর চ্যানেলে চ্যানেলে বেমক্কা ব্যাচের লোকজনের ইন্টারভিউ দেখাচ্ছে – অনেকক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরিয়েও আপট্রন সেদিন কিছুই দেখালো না, সন্ধ্যে ছটার খাস-খবর খুলেই লাফিয়ে উঠলো বাবা, কিন্তু টাইটেলেই যে টাইপো – দত্তকে কে যেন দানা করে দিয়েছে, একবার নয়, দু-দুবার !

 

ছানার শোক, না দানার শক কোনটা বাপের গায়ে বেশী লেগেছিলো সে জানিনা, কিন্তু আপ্ট্রনের গল্পের ইতি সেইখানেই …

 

সেই ছিলো এক দিন আমাদের
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments