বিশ্বকাপ জ্বর ছাড়তে না ছাড়তেই আলটপকা ভাইরাল জ্বরে পুরো কাবু হয়ে গেলুম ভাই। তাই জ্বরের ঘোরে হাবি জাবি যা লিখব তার দায়িত্ব কোনমতেই আমার ওপর বর্তাতে পারবে না ! আর বর্তালেও বা কি? সোজা সাপ্টা কথা বলতে আমি একদম ডরাই না। যেরকম ডরাই না হামাসের বোমা বা ইসরাইলের মিসাইলকে। আইসিস-এর ফতোয়া কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তালিবানদের মুন্ডপাতও আমি হামেশাই করে থাকি । আবার এই আমিই রাষ্ট্রসংঘকে ধমক লাগাই যখন ইউক্রেনে রাশিয়ান দাদাগিরি নিয়ে তারা ,’ আহা দেখো দেখি কি কান্ড, ওরকম করলে তো দেখছি ভারী মুশকিলের ব্যাপার হবে…’ গোছের, পাহাড়ি সান্যাল মার্কা ডায়লগবাজি করে। প্রত্যুত্তরে অবশ্য পুতিন কমল মিত্রের মত ছোট্ট লাইন ঝেড়ে দেয় , ‘না, এ কোনমতেই সম্ভব নয় ‘, কিন্তু গৃহপালিত গর্দভের চেয়েও অসহায় ভাবে রাষ্ট্রসংঘ আবার সেই এক টোনে ঘ্যানঘ্যান করে চলে , ‘একটু মাথা ঠান্ডা করে ভাবো দেখি যে কত মানুষ এর সাথে জড়িয়ে! আমি বরং কাল একটিবার বেলার দিকে এসে তোমার মতটা জেনে যাব ‘। পুতিন রাতের মধ্যে যা করার করে দিল। করবেই তো শালা জোর যার মুলুকও তার, সে মগ বা বালতি যারই হোক না কেন। মগেদের মুলুক তো এখন বামনগাছি গেলেই দেখা যায়, বীরেদের ভূমি মানে বীরভূমে পড়লে অবশ্য মগদেরকেও আজ লিলিপুট বলে মনে হত! বালতি দের মুলুক মানে বালতিস্তান আবার আজব জায়গা ! কিছুটা ভারত, কিছুটা তিব্বত , আবার বেশিরভাগটাই পাকিস্তানে পরে। অঞ্চলটা ডোগরি , তিব্বতী , দার্দি , কালাশ (এরা আবার আলেক্সান্ডারের বংশধর )আর না জানি কি সব জাতিদের চারণভূমি। কারাকোরামের পাদদেশে বালতিদের স্থান যা বুঝলাম , মরুদ্যান মাঝে জেরুসালেম সেখানে নেহাতই বাচ্চা ! আসিরিয়ানরা সিন্ধু সভ্যতার আমলে মহেনজোদারোতে ব্যবসা করতে আসতো বটে কিন্তু লোক লস্কর নিয়ে জমি বাগাবার ফন্দি বা সাহস তাদের ছিল না। দেশে কিন্তু তাদের রাজারা শুনেছি শত্রুদের জ্যান্ত অবস্থায় ছাল ছাড়িয়ে নিত আর দেওয়ালে আঁকা দেখলেই বোঝা যায় যে পায়ের তলায় পিষে ফেলা ছিল রোজ কা কাম । আইসিস বা আল কায়দার সু-সভ্যরা যখন মধ্য প্রাচ্যে একই ভাবে চামড়া গোটাচ্ছে কিম্বা বোরখা পড়া এক নাপাক মহিলাকে পাথর ছুড়ে ছুড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ওইপারে চালান দিচ্ছে ঠিক তখনই ওই একই অঞ্চলে কারা যেন গণতন্ত্র রক্ষার্থে স্যাটেলাইটের সাহায্যে গ্রাম ধরে ধরে টুকি টুকি বলে বোম ফেলছে । আমাদের বীরভূমের বীর-রাও বোম মারতে বলে বটে তবে মার্কিন শান্তিপ্রেমী ও গণতন্ত্রকামী সরকার তা আদপে করেও দেখায়।

ওই যে জ্বরে পরে ভুলভাল বকলে ইতিহাস মনে রাখে না। মুলুক সন্ধান করতে গিয়ে একটা মজার জিনিস লক্ষ্য করলাম , মানুষ পিপড়েদের মত রেজীমেন্টেডও নয় আবার আরশোলা বা টিকটিকি-দের মত কেওটিকও নয়। মানুষ অবশ্য সব কিছুই অথছ কিছুই না, নিরাকারে ব্রহ্ম থেকে পরকীয়ায় পরমব্রহ্ম অব্দি ভাজে ভাজে ম্যানিপুলেসন ! আসলে মানুষের মনে বেজায় লোভ ও দেহে নিদারুন চাহিদা। অসীম তার এগোবার আকাঙ্খা, তাই এই জন্মে আমরা সবাই মুলুকের সন্ধান করে চলি। যারা সার বুঝেছে তারা বলে মোক্ষপ্রাপ্তি , মানে মোক্ষম মুলুক পাওয়া । বাকিরা এখানেই স্বর্গ পাবে বলে স্থলপথে ট্যাঁক ছোটায় , জলপথে টরপেডো মারে আর বায়ুপথে বম ড্রপ করে । প্রত্যেক শতাব্দী নাকি আগের শতাব্দীর কমবেশি কার্বন্-কপি , ধরনে আলাদা হলেও মোটের ওপর এক। কিন্তু ছকটা এরকম প্রেডিক্টেবেল হলেও তো ঝামেলা ! কাল কি হবে জেনে গেলে আর তো আমাদের বাঁচার কোনো রসদই থাকবেনা, থোর বড়ি খাড়া থেকে বড়জোর কচু কলাই খুন্তি হবে। ছোট্টবেলা থেকে শুনছি মঙ্গল গ্রহে জমি পাওয়া যাবে, NASA-এর পিয়নটাও বলল,’ বেশ ফাঁকা জায়গা, বিঘে দশেক কিনে রাখলেই কেল্লা ফতে।’কিন্তু ভয়জারের ভিডিওতে যা দেখলাম, যার একদম ভয় নেই সেও যারপরনাই ভয় পেয়ে যাবে। না গাছ, না নদী, এমনকি একটা কুয়ো বা কুকুর পর্য্যন্ত নেই ! লাল মাটির দেশই যদি যাব , আমাদের এখানে বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া কি দোষ করলো যে হুট্পুটিয়ে মঙ্গল পারি দিতে হবে ? রাশিয়ানরা তবে বেজায় শেয়ানা , প্রথমে কুকুর তারপর পেন্সিল হাতে গ্যাগারিন আর তেরেস্কোভা ,ব্যাস। তারপর সব জয়েন্ট ভেঞ্চার। ওরা দেখল এ ভাবে জমি খোঁজার বহুত হ্যাপা , তারপর আলু না ফললে ভদকা হবে না ! তাই হিসেব উল্টে নিয়ে বাড়ির কাছে সোজা ক্রিমিয়ায় কামান দাগা শুরু করলো।চিনারা আবার এক কাঠি বাড়া, আমেরিকার কাছ থেকে জ্বালানি কিনলো একটা রকেট দাগবে বলে আকাশে , সেই জ্বালানির সিকি ভাগ খরচা করে একটা আধা রকেট ছাড়ল ও বাকিটা দিয়ে লাখ খানেক চিনে পটকা বানিয়ে তিব্বত, উইঘুর , ভিয়েতনাম যেখানে রংবাজি করার দরকার, ক্ষুদে চোখ বন্ধ করে বিন্দাস সেগুলোকে ফাটিয়ে গেল।

তাহলে দান খয়রাতি বাদ দিলে যা হিসেব দাড়ালো তা হলো, প্রথমে আদিযুগ। মিশর , গ্রিক , রোমান, চীনা কেউ জায়গা ছাড়বেনা। আর্য্য অনার্য্য রাও ছাড়বেনা। আলেক্সান্ডার থেকে সীজার , ডেভিড থেকে দরায়ুস , সমুদ্রগুপ্ত থেকে অশোক, সাতবাহন থেকে শুঙ্গ , কিন থেকে হানরা জায়গা বানাচ্ছে। আর সক্রেটিস, বুদ্ধ, যিশু , কনফুসিয়াস ,মহাবীররা জায়গা খুঁজছে। মজার ব্যাপার বীর আলেক্সান্ডার ভারতে এসে বাঁদর দেখে যারপরনাই আনন্দ পেয়েছিলেন, হাতির ঘায়ে নাস্তানাবুদ বনেছিলেন ও বলা হয় মশার কামড়ে পগার পার হয়েছিলেন। কিন্তু জায়গা কি পেল এরা? জায়গা তো সেই রইয়েই গেল। মধ্যযুগে অবশ্য ইউরোপ অন্ধকার ও এশিয়ায় ইসলাম। আরো মারামারি , তুর্কি, চেঙ্গিজ সব এক সে বড়কর এক ! অনেক হলো দেশ এবার চল পরদেশে জায়গা খুঁজতে। কলম্বাস পাঁঠা ওদিকে আর ভাস্কো দা গামা এদিকে। জমি থেকে পাওয়ার জায়গা উঠে এলো মুনাফায়ে, ধর্মস্বার্থে ! এর পর আধুনিক ইতিহাস বড়ই একঘেয়ে, উপনিবেশ তৈরী আর মসনদ কব্জা। ‘ঠাকুর এ দেখি আজব গ্যারাকল , সাত সাগর পেরিয়ে এলো করতে কি যে ছল, সাহেবের ফন্দি কি তা বল ?’ আর যা মোঘল , শক , হুন, পার্সি , তুর্কি পারেনি তা দেখিয়ে দিল ওই রেডফেসওয়ালা বেণেরা। এখানে জায়গা বলতে না টাকা না জমি না ধর্ম । জায়গা তারা করলো খালি ,’পাওয়ার’ পাওয়ার জন্য। এই পাওয়ারের জোরে যা পাওয়না তা সময় মত পাওয়া যায়, সেটা তারা মোক্ষম বুঝেছিল । পিপড়ে ছাড়াও লাভের গুড় খাওয়া যায়, ছোট হলেও বড়কে ঠকানো যায় । কিন্তু বেশি দিন সেই খাওয়া টিকলো না। এমন পর পর দুটো গাম্বাট কিং কং ও গডজিলা গোছের যুদ্ধ লাগলো যে সবার কিরকম গুলিয়ে গেল। কেউ বুঝলো না যে কে কি চায় বা কেই বা কি পাবে। জাপান পেল বম আর হিটলার কাঁচকলা। ইস্রায়েল তবে জমি পেল, জায়গা কিনা জানিনা। আরবরা খেপে গেল, রাশিয়া চীন লালে লাল, ভিয়েতনামের পুড়ল কপাল। অবশ্য বাংলাদেশের বরাত খুলল, নিজেদের জায়গা নিজেরাই পেলো। সাদ্দাম, গদ্দাফি হাওয়া হয়ে গেলো তো প্যালেস্তিন। দুটো গাঁজায় টান মেরে ফুঁকে দিলে গাজা উড়ে যাবে। ঘরে ঘরে ডাইনোসর লেলিয়ে রেপ করাতে হয়। শালা লেকের ধারে কুত্তা মরছে তার কোনো চিন্তা নেই ওদিকে ওনারা চললেন ,বামনগাছি থেকে গাজা প্রতিবাদী নেটযাত্রা করতে গুগল ম্যাপে ! তবে পাড়ায় বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকে একটা ভ্যাকুয়াম তৈরী হচ্ছে, মানে বাংলা ভাষায় জায়গার অভাব।

বললাম না জ্বর হয়েছে, এসব মারপিট, জমি, বাড়ি, পালেস্তিনের শিশুদের খুলি ও সব থেকে বেশি রেপের মত মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে ভুলভাল আলোচনা করতে আমার মোটেই ভালো লাগছেনা আর ! আপনারা পারলে বিটকেল চিন্তা নিয়ে জেগে থাকুন, নাহলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে প্লুটোতে (যা কিনা আজ গ্রহ-মর্যাদা-চ্যুত) জায়গা কিনুন। কলকারখানা করুন, এয়ারপোর্ট করুন, মল করুন , মুত্র করুন। আরে ফাঁকা জায়গা তো কেউ কিচ্ছু বলবে না। ফিরে এসে দেখবেন যে বাকিরা এই পৃথিবীতে ঠিক সেই আগের মত শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে, হয় খাটে আর না হলে কবরে ।

সোজা সাপ্টা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments