টাইম ট্র্যাভেল নিয়ে আনিমের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু স্টেইনস;গেট এর প্রসঙ্গ আসলেই একটু নড়েচড়ে বসি। অনেকগুলো কথা মনের মধ্যে সাজিয়ে নিই। কারণ স্টেইনস;গেট বাকিদের থেকে একটু আলাদা। টাইম ট্র্যাভেল জিনিসটার বিভিন্ন প্রভাবের মধ্যে বিশেষ একটা প্রভাবের দিকে স্টেইনস;গেট এর ফোকাস রয়েছে। বাটারফ্লাই এফেক্ট।

 

ধরা যাক আপনি কোনওভাবে সময়ভ্রমণে সক্ষম। আপনি দশ বছর অতীতে চলে গেলেন। আপনার গ্রামের রেলস্টেশানে এসে দাঁড়িয়ে এক ঠোঙা ঝালমুড়ি খেলেন। দুটো মুড়ি স্টেশানের মাটিতে পড়লো। তারপর আবার বর্তমানে ফিরে আসলেন এবং তব্দা খেয়ে গেলেন। এর মধ্যে পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়ে গ্যাছে। আপনার বাড়িঘর কিছু আর নেই। লোকাল পাবলিকে ঘেটো বানিয়ে বসবাস করছে।

 

এটাই বাটারফ্লাই এফেক্ট। ঐ স্টেশানে মাটিতে দশ বছর আগে মুড়ির দানা দুটো ছিলো না। তাতে আপনি একরকম দুনিয়া দেখতে পেয়েছেন। ঐ তুচ্ছ মুড়ির দানাদুটো এখন থাকার ফলে টাইমলাইনে যে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে তাতে পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনাক্রম একটু একটু করে পাল্টাতে পাল্টাতে দশ বছর পরে আজ বিশাল একটা পরিবর্তন হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। আজ এই মুহূর্তে একটা প্রজাপতি মেদিনীপুরের সমুদ্রসৈকতে ডানা ঝাপটালে তার প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ পরে ইন্দোনেশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় দেখা দিতে পারে – অনেকটা এইরকম একটা তুলনা থেকে বাটারফ্লাই এফেক্ট কথাটা এসেছে।

 

স্পয়লার না দিয়ে যদ্দূর সম্ভব রাখঢাক করে বলা যায়, স্টেইনস;গেট এর গল্পটা টাইম ট্র্যাভেলের পদ্ধতি বা তাত্ত্বিক ব্যাপারস্যাপারের চাইতে তার এই বিশেষ প্রভাবটার উপর ভিত্তি করেই তৈরি। এবং কি অসম্ভব মুন্সিয়ানার সাথে তৈরি! শুধু যে বিষয় নির্বাচন ভালো তাই নয়, সাথে মিউজিক, চরিত্রনির্মাণ সবই দুর্দান্ত রকম ভালো। প্রতিটি ওপেনিং এবং এন্ডিং মিউজিক দুর্দান্ত। যথেষ্ট সময় নিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিটি চরিত্রকে তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য অবশ্য প্রথম দিকের এপিসোডগুলো একটু স্লো লাগতে পারে অনেকের।

 

গল্পে রোমান্টিক ব্যাপারস্যাপারও আছে। এবং সেটা নিছক টাইমপাস করতে নয়, রোমান্টিক সম্পর্কগুলোর এখানে বেশ গুরুত্বও আছে। স্টেইনস;গেট এর বিশাল কাল্ট ফলোয়িং আছে। এবং স্টেইনস;গেট সেটা ডিজার্ভ করে।

 

এপিসোড সংখ্যা:

২৪

এন্ট্রি:

MAL

 
স্টেইনস;গেট -আনিমে রিভিউ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments