সেই জমা গল্পটা বাকি থেকে গেছিল। আজ শেষ করব বলে একেবারে উঠে পড়ে লেগেছি। পাশে রইল চা আর হলদিরামের বাদাম ভাজা…  ৪৫০ তাপমাত্রা! তাও গলায় না ঢাললে মাথার জট এক্কেরে খুলবে না। যাগগে বাজে বকা আই মিন লেখা থামাই কাজের কথায় আসি।

 

আলিনগরের গপ্পটায় তেমন বিশেষ কিছু নেই। আলিনগর নামকরণ হয় আমাদের  নবাব সিরাজদৌল্লার নানা জি অর্থাৎ দাদু আলিবর্দি খাঁ এর নামানুসারে এবং তা আমাদের তখনকার কলকেতা শহরের। যদিও বিতর্ক আছে – ব্যাণ্ডেলের কাছে একটি জায়গা আছে যার নাম নাকি আলিনগর। সেখানেই নাকি ক্লাইভ বাবাজী আর সিরাজ মিঞা আলিনগরের চুক্তি করেছিল বলে অনেক পণ্ডিতের মতামত। যদিও এ নিয়ে আমি কোনো বই আজ পর্যন্ত দেখিনি। তবে যাঁর মুখে শুনেছি তিনি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রখ্যাত অধ্যাপকের কাছে আমি এ কথা শুনেছি। যাগগে সে সব কথা। আলিনগরে ফেরা যাক।

 

আলিনগরে যাওয়ার আগে একটু অতীত ঘেঁটে আসি। নাহলে ব্যাপারটা অনেকেরই হয়তো বোধগম্য হবে না। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে হয় ব্রিটিশের সাথে এই লবাবদের ক্যাচালটা ঠিক কেন লাগল?? আজ তারই বিশ্লেষন করব।

 

সাদারা ভারতে এসেছিল বেওসা করতে। এটা আমরা সবাই জানি। প্রথম এসেছিল পর্তুগাল, ১৪৯৮ খ্রীষ্টাব্দে ভাস্কো ডা গামা "উত্তমাশার অন্তরীপ" (cape of good hopes) টপকে যখন কালিকট বন্দরে এল তখন সারা য়ুরোপের কাছে ভারত হয়ে গেল উন্মুক্ত প্রান্তর।

 

এর আগেও আলেকজান্দার 'সিকন্দর শাহ' ভারতে এসেছিল তা সবাইই জানেন নিশ্চই? কবে সেই 'দ্য গ্রেট অশোকা' ফুটল আর তারপর থেকে আর  আর কোনো য়ুরোপীয় দেশই আর ভারতে আক্রমণ করতে পারে নি? অথচ ভারতের অবস্থা তখন 'ইন্দ্রে শচীর' মত। একে একে শক, হুণ,আরব, মোঙ্গল, পাঠান মোঘল সবাই একে একে ভারতর্ষে এসে লুটে লাট করে নিয়ে চলে গেল (কেউ কেউ রয়েও গেল)  অথচ 'মাইটি' য়ুরোপীয়ানরা পারল না?  'জিসাস!' না 'সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ!' পঞ্চদশ শতকে তো  ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ওলন্দাজ, জার্মানী এই দেশগুলি তো সারা য়ুরোপ মাতিয়ে বেড়াচ্ছিল আর একে অপরের  ল্যাঙে আগ বাড়িয়ে ল্যাঙ লাগিয়ে নিজেরাই ল্যাঙ খাচ্ছিল! নৌশক্তিতে এদের মত ধুরন্ধর তো কেউ নেই!  তবুও তাদের কেন এত সাহস হয়নি ভারতে আসার? এর পেছনে নিশ্চই কোনো কারণ আছে? কি সেই কারণ? চলুন দেখা যাক!

 

হেহে কারণ অতিব সাধারণ। আসলে য়ুরোপীয়রা যতই হম্বিতম্বি দেখাক না কেন? ভূমধ্যসাগর হয়ে ওই সুয়েজখাল টপকে আরব সাগরে পাড়ি দেওয়ার প্যাসেজ বা পথটুকুও "মাইটি" রা খুঁজে পাচ্ছিল না। খুঁজে হয়ত পেত! কিন্তু সেসময় ইহুদী-মুসলিম আর পরে ইহুদী-খ্রীষ্টান এবং মুসলিম-খ্রীষ্টানে এমন বিবাদ যে এ বলে ওকে মার তো ও বলে একে কাট! বাধ্য হয়েই ওদের থামতে হয়েছিল। তাই এই এতটা সময় লেগে গেল! ঘুর পথে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হল। সে চেষ্টা করতে গিয়ে যে বাছাধনদের চোখের জলে নাকের জলে কতবার যে  বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। তবে অভিযান থেমে থাকেনি! একের পর এক দেশ পাল্লা দিয়ে সারা সাগর চষে বেড়িয়েছে আর নতুন নতুন দেশ আবিষ্কার করেছে।  অবশেষে ১৪৯৭ তে সেই উত্তমাশা পাওয়া গেল। উত্তমাশার অন্তরীপ! যা ভারতের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী।

 

যাই হোক য়ুরোপীয়ানরা(পর্তুগীজ ব্যতীত) প্রথম ব্যবসা করার অনুমতি নিতে হয়েছিল মুঘল সম্রাটদের কাছ থেকে। হিসেব করে দেখলে বোঝা যায়, পর্তুগীজরা যখন ভারতে(১৫০৫ ধরা যাক) এসে ব্যবসা শুরু করেছিল তখনও মুঘলদের পত্তনই হয়নি। তবুও শতাব্দী পরেও নিজেদের একচেটিয়া অধিকার বজায় রাখতে পারে নি।  ১৬১২ খ্রীষ্টাব্দে ইংরেজ এল ভারতে, দিল্লীর মসনদে তখন জাহাঙ্গীর। চাইল ব্যবসা করার অনুমতি। জাহাঙ্গীর বিচক্ষণ মানুষ, ভেবে দেখলেন আমদানি রপ্তানিতে এই সুযোগে দু হাত ভরে রাজকোষে কিছু পয়সা-কড়ি জমা পড়বে, তাই দিলেন দেদার অনুমতি। তখনও আমাদের কাছে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ 'ইয়োর হাইনেস' হন নি আর ব্রিটিশও 'মাইটি' হয়নি। মুঘল সাম্রাজ্যের কাছে এক্কেরে চুনোপুঁটি। বস্তুত তখন সারা বিশ্বও যদি মুঘলের পেছনে লাগতে যেত তবে হয়তো সারা পৃথিবীর নামই হত 'হিন্দুস্তান', যাগগে সেসব কথা, বড় ভাববিহ্বল হয়ে পড়ছি।

 

এত কিছু বলে ফেললাম!  এখনও আসল গল্পে আসিনি। আসল গল্প তো এবার! তার আগে একচুমুক চা মেরে দিই, অনেকক্ষণ লিখলাম……  তাই ততক্ষণের জন্য একটা ছোট্ট ব্রেক…

 

ফিরে এলাম চা পান বিরতির পর। এবার ইনিংসটা একটু জাঁকিয়ে খেলতে হবে শেষ বেলা পর্যন্ত। তাই ধৈর্য্য ধরে থাকুন।

 

শুরু করা যাক, সাদা চামড়া রা তো অনুমতি পেয়ে গেল কিন্তু তখনও তাদের মনে ভারতের বুকে ব্যবসা ছাড়া অন্যকিছু করার কথা মাথায় আসে নি। তারা নিজেদের ক্ষমতা পরিমাপে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। তারা জানত মুঘলদের সাথে এঁটে ওঠা তাদের মতো পুঁচকে দেশের পক্ষে সম্ভব নয়।  তাই তিলমাত্রের জন্যও তারা ভাবেনি ভারতবর্ষে এসে ভারতবর্ষ শাসন করবে! তবে ভাবনা শুরু হল, আরও ভালভাবে বলা যায় স্বপ্ন শুরু হল আওরঙ্গজেবের আমলে। সবই ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু আওরঙ্গজেব এমন কয়েকটি কাণ্ড করেছিল যে  ইংরেজরা আর না ভেবে পারল না। কি করল? ……

 

দিনের আলো অস্তাচলে। ওভারও সমাপ্ত! আবার কাল দেখা হবে!

হওয়া না হওয়ার মাঝে ২
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments