শান্তিনিকেতনের সব আবাসিকরাই রাস্তা আগলে রাখা ষাঁড়ের গায়ে ফুল ছুড়ে ‘এই গরু হট্ ‘ বলে না – ওটা প্রবাদ মাত্র ,কোনো প্রামানিক তথ্য নেই। কিন্ত গোচনায় যে কর্কট রোগ সারে তা অমোঘ সত্য ও রাষ্ট্রের পয়সায় তার দলিল তৈরী করছে স্বয়ং আই আই টি দিল্লির পড়ুয়ারা। তা গরু নিয়ে কাজকর্ম তো বলদদেরই মানায়, নাহয় একটু খরচই হলো। বিজ্ঞান নিয়ে তো আর ছেলেখেলা করা চলে না, সে নয় এ বছর বেড়ালের বিয়েতে অত লোক আর নাই বা খাওয়ানো গেলো ‼ বেড়ালের কথায় মনে পড়লো বাচ্চা কাচ্চা না হলে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন কিংবা সারোগেসির চেয়ে বাড়িতে ষষ্ঠীর বাহন কালো বেড়াল পুষলে শুনছি বেশি কাজ দেয়। মা ষষ্ঠী আদপে লৌকিক দেবী মানে টেকনিক্যালি হিন্দু নাও হতে পারেন আর বেড়াল যখন বাহন তখন মিশর থেকে এনার আমদানি হয়ে থাকলেও খুব একটা আশ্চর্য হবার কিছু নেই। মিশরের মমি মোড়াতে যদি মখমলি কাপড় এখানে থেকে যেতে পারে তাহলে ওখানকার বেড়াল দেবতা এখানে এসে সন্তানধারণে সাহায্য করতেই পারে। আসলে গোড়ায় গলদ হলো বলদ নিয়ে – বলদপূরাণে আছে যে শুক্লা চতুর্দশীর রাতে বৈতরণীর তীরে একলা পেয়ে নন্দী ষাঁড় একবার কামধেনুর ভরপুর শ্লীলতাহানি করে। দেবগরু কামধেনু যারপরনাই অপমানিত হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কোর্টে নন্দীর নামে অভিযোগ জানায়।ইন্দ্র তৎক্ষণাৎ বিহিত চেয়ে নারদ মুনির মাধ্যমে নন্দীর মালিক অর্থাৎ মহাদেবের কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠান। নারদ সেই রিপোর্টে নিজের মতো করে আরো কয়েক পোচ রং চড়িয়ে পার্বতীর উপস্থিতিতেই শিব ঠাকুরকে তা পেশ করেন। আগের রাতে নন্দী গাঁজা বানানোর ডিউটি ফাঁকি দিয়ে নদীতটে কুকম্মে লিপ্ত ছিল জেনে বাবার মটকা এমনিতেই ফিউজ হয়ে যায়। তার ওপর আবার নারদের সামনেই পার্বতী নন্দীর প্রভুনিষ্ঠতা ও চারিত্রিক গুণবত্তা নিয়ে খিল্লি করে বসেন। তুরন্ত তলব করা হয় নন্দীকে ও তাকে দেখা মাত্রই রাগের মাথায় রুদ্রদেব হাতের সামনে আর কিছু না পেয়ে নারদের ঢেকির কোটরের মধ্যে ওই লুচ্চা ষন্ডটির অন্ডকোষ নিক্ষেপ করে তা পিষে গুঁড়িয়ে দেন। রূহ আফজা তে সেই গুঁড়ো মিশিয়েই পরবর্তীকালে রেড বুল নামক শক্তিবর্ধক ড্রিঙ্কসটি সৃষ্ট হয়। ওদিকে যন্ত্রনায় ও লজ্জায় সদ্য ষাঁড় থেকে বলদ হওয়া নন্দী কৈলাশ ছেড়ে অধুনা বেঙ্গালুরু শহরের নিকটে এক পাহাড়ের ওপর ধপাস করে ছেৎরে বসে পরে। রেড বুলে চুমুক দিতে দিতে টুরিস্টরা সেখানেই বেড়াতে যায় ও সেই জায়গাটাকে আমরা এখন নন্দী হিলস হিসেবেই জানি।
ওদিকে নন্দী ফিরছেনা দেখে মহাদেব কার্তিককে পাঠালো তাকে খুঁজে ধরে আনতে। কার্তিকের আবার বাইরে বেরোনোর সুযোগ এলেই হলো, অমনি সে সেজেগুজে চললো ময়ূরে চড়ে। কি আর করবে, বিয়ে হয়নি তাই রাস্তায় বেরোলেই কেতোর কেত একশোগুণ বেড়ে যায়। আট থেকে আশি যাকেই দেখে কাজকম্ম ভুলে ময়ূর থেকে নেমে ভুরু নাচায়, গোঁফ পাকায় এবং তাতেও কোনো পাত্তা না পেলে বাইসেপ ফুলিয়ে সে হাত পা ছুড়তে থাকে। ময়ূরও দেখলো মনিব এতো ডেসপারেট তো আমিও কম যাই কেন ? সেও রোমন্টিক মুডে পেখম মেলে ময়ূরীদের ইমপ্রেস করতে লাগলো। দিনের শেষে কার্তিক দেখলো তার কপালে কেউ না জুটলেও তার বাহনটি একটি গার্লফ্রেন্ড ঠিক জুটিয়ে নিয়েছে। বাহনটি এও জানালো যে সে আর কৈলাশে ফিরে যাচ্ছে না ও এখানেই ময়ূরীর সাথে সে সংসার পাততে চায়। কার্তিক বলল এতো মহা গেড়ো‼ একে এতটা রাস্তা তাও আবার একা একা ফিরে যাওয়া। তার মনে পরে গেলো সেই বিয়ের জন্যে দুনিয়া প্রদক্ষিণ করার নামে গণেশ তাকে কি দৌড়টাই না করিয়েছিলো আর তক্ষনই সেই পুরোনো রাগ গিয়ে পড়লো ময়ূরের ওপর। কার্তিক ময়ূরকে অভিশাপ দিলো যে তুই যেই মোহে আমাকে ত্যাগ করছিস তা কোনোদিনও পূর্ণ হবে না। তুই সকল প্রকার দাম্পত্য ও সন্তান সুখ থেকে বঞ্চিত হবি। এই শুনে ময়ূর হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো, বলল ,” দাম্পত্য সুখ বাদ দিন, আমিও না হয় আপনার মত আজীবন ব্রহ্মচারী হহয়েই থাকবো কিন্ত সন্তান সন্ততি হবার একটা উপায় আপনাকে করে দিতেই হবে স্যার, নাহলে ওই ময়ূরী কি করে মাতৃত্বের স্বাদ পাবে? ও তো কোনো দোষ করে নি। ” কার্তিক বললো ” ঠিক হ্যায় , তোর ওই চোখের জল যদি ময়ূরী পান করে তাহলেই সে গর্ভবতী হবে। এ ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় তা সম্ভব হবে না। ” ময়ূর তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে ময়ূরীকে নিয়ে রাজস্থানে চলে গেলো। আবারো বলি কালো বেড়াল না পেলে কার্তিক মাসে চিরকুমারের পুজো করলেও সন্তানহীন পরিবারে সন্তান জন্ম নেয়, তবে সেটা হতে গেলে মহিলাদের তার স্বামীর চোখের জল গিলতে হয় কিনা তা নিয়ে এখনো সেরকম কোনো গবেষণা চালু হয়নি। ভাবছি এই প্রস্তাবটা আই আই টি মুম্বাইকে দেবো, লাগে টাকা তো দেবে কাত্তিক শেঠ।
আব্দুল কুদ্দুছ এক ধুরন্ধর বাংলাদেশী স্মাগলার। সে ইন্ডিয়াতে দিওয়ালির সময় এসে কমদামে কচি এঁড়ে বাছুড় কিনে ওপারে চালান করে কেননা তখন বর্ডারে কর্মরত বিএসএফ জওয়ানরা অনেকেই ছুটিতে বাড়ি যায় ও সীমান্ত পাহারায় একটু ঢিল পরে।কুদ্দুছ এই প্রান্ত থেকে জলপথে ওই বাছুরগুলো ওপারে পাঠায় ও সেগুলো রিসিভ করে ওর শ্যালক বদরু। মাস ছয়েক খাইয়ে টাইয়ে পরের গরমে ঈদ আসতে না আসতেই বেশ নধরটি হয়ে ওঠে সেই বাছুরগুলি ও বাজারে তারা ভালো দাম পায়। লাভের বখরা অবশ্য এপার ওপার মিলিয়ে সবাই নেয় তবুও দিয়ে থুয়ে কুদ্দুছের মন্দ থাকেনা। তা গেলো বছর দিওয়ালির সময় কনসাইনমেন্ট পাঠিয়ে দেওয়ার পর আরো এক সপ্তাহ সে থেকে গেছিলো পাওনা গন্ডা মেটানোর জন্য। কেননা সে ওই দেশে বাংলাদেশী টাকায় পেমেন্ট করলেও তা এই দেশে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতীয় টাকায় রূপান্তরিত হতে আরো কিছু দিন সময় লেগে গেছিলো। কিন্ত ওই যে বলে না, দরিয়ার পরের ঢেউয়ে হাঙ্গর আসছে না মুক্ত তা কেউ জানেনা। কুদ্দুছ ফাঁসলো ৩০শে অক্টোবর দিওয়ালি আর ৮ই নভেম্বর নোটবন্দির মাঝখানে। দালাল তাকে ৮ তারিখে পুরোনো নোটে যে ১ লক্ষ টাকা দিলো তার পুরোটাই পরেরদিন অচল হয়ে গেলো। কেসটা দাঁড়ালো অনেকটা সেই ছোটবেলার ধাঁধার মত মানে বাছুরগুলো ওপারে, কুদ্দুছ মিঞা এপারে ,পাওনাদার এপারের , তার নাগরিকত্ব ওপারের – সে এক জটিল পরিস্থিতি। তবে আগেই বলেছি কুদ্দুছ আদপে হেব্বি চালাক, এক বেড়ে ফন্দি আঁটলো সে। কিছুদিন পাওনাদারের ভয় গা ঢাকা দিয়ে সে সোজা পারি দিলো গোরক্ষপুরে। সে শুনেছিলো গো সংক্রান্ত সব ঝামেলা থেকে রক্ষা পেতে গেলে ঐটাই মোক্ষম জায়গা। ন্যাড়া হয়ে,পৈতে পরে,তিলক লাগিয়ে সে নিজের ভোল পাল্টে ফেললো, নাম নিলো কুঞ্জবিহারি গোস্বামী। নতুন অবতারে সেজে সে সোজা গোরক্ষা মাঠে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথের পায়ে পরে বলল সে একজন একনিষ্ঠ গোরক্ষক ও সেক্যুলার গোভক্ষকদের তাড়নায় সে নিজের রাজ্য অর্থাৎ পশ্চিম বাংলা ছেড়ে তার শরণে আসতে চায়। পুরোনো নোটে এক লক্ষ টাকা ভেট চড়িয়ে সে এও বলল যে এই তার সারাজীবনের জমানো সামান্য পুঁজি ও এখন তাও অচল। তাই সেটাও সে নিস্বার্থভাবে ওই মঠকেই দান করল। বাছুরের মতো দেখতে নিরীহ প্রাণীটির প্রতি যোগাজীর কেন জানিনা তৎক্ষণাৎ মায়া পরে গেলো।তার ওপর গরুর কখন খিদে পেয়েছে, কখন হাগু পেয়েছে, কখন গরু ডিপ্রেসেড, কখন আনন্দিত – তার এই সব গোসংক্রান্ত অগাধ জ্ঞান দেখে সব্বাই তাজ্জব বনে গেলো । সামনে আসন্ন নির্বাচনের জন্য কুঞ্জবিহারী কে গোরক্ষা কমিটির সম্পাদক বানিয়ে দিলেন যোগিজি। তারপর আর কি , নির্বাচন হলো, গরু পার্টি জিতলো, যোগিজি এখন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। জেতার পরেই প্রয়াগে এক বিশাল গোহিতৈষী মেলা করা হলো কুঞ্জের তত্বাবধানে। সব মিলিয়ে কুঞ্জবিহারি হয়ে গেলো যোগাজীর পয়া পাত্র। তার আন্ডারে এখন প্রচুর গোশালা ও গোচিকিত্সালয়। রামদেব থেকে মোদী , গরু সম্বন্ধে কিছু বলার আগে কুঞ্জকে কনসাল্ট করে নেয়। সবই ভালো যাচ্ছিলো কিন্ত হালে একটা খবর শুনে একটু ভেবেচেকেই গেলুম মাইরি। তবে আর পাঁচ কান না করলে আপনাদেরকে বলতে পারি সেই জব্বর খবর। শুনছি কুঞ্জবিহারীর পাল্লায় পরে যোগিজি নাকি দিন কয়েক হলো গোমূত্রের চেয়ে গোমাংসে বেশি গুণ খুঁজে পাচ্ছেন ‼

হাউ মাউ ‘কাউ’
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments