[ পূর্ব সূত্র বা গোড়ার কথা : গত বৎসর থেকে কেবল মাত্র কিবোর্ড যুক্ত অর্থাৎ কিন্ডলের সব থেকে শস্তা মডেলটি টাটা গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত ক্রোমা স্টোরগুলিতে এবং য়্যামাজন য়্যুয়েসের অধীনস্থ ভারতীয় সংস্থা জাঙলি-কমে পাওয়া যাচ্ছিল। গতো মাস থেকে কিন্ডলের সর্বোৎকৃষ্ট মডেল পেপারহোয়ায়ট য়্যামাজনের ইন্ডিয়ান আর্ম য়্যামাজন-ইনে উপলব্ধ করা হয়েছে। কিন্ডলের মডেলগুলি অবশ্য  অফিশিয়ালি বাঙলা বা অন্যান্য ভারতীয় ভাষা সাপোর্ট করে না। তবে একটু বুদ্ধি খাটালেই সে বাধাটি ডিঙুনো যায়! ]

ফুল-বউ, আঁধার কোটা, দাদা শ্বশুরের ঘড়ি, দেওয়ানের চটি, ছিটওয়ালা কাক, গুমগুমি – মোট ছ'টি গল্প আছে অবন ঠাকুরের বইটিতে। প্রথম গল্প ফুল-বউতে এসেই হোঁচট খেতে হয়। ঘরটায় ভর্তি পোড়া মাংস আর তাজা রক্তের ঝাঁঝা গন্ধ। অবন ঠাকুর তো স্বচ্ছন্দে লিখে দিলেন। কিন্তু একে কি শিশুপাঠ্য বলা চলে? দ্বিতীয় গল্প আঁধার কোটায় আছে কোন এক বুড়ির শেয়ালের নাড়িভুড়ি খাওয়ার  আর  মড়ার চুল ছিঁড়ে সলতে পাকানোর কথা। খুব একটা শিশুবান্ধব বলতে পারছি না এই গল্পটিকেও। গল্পের মধ্যে দু' দু' খানা কোবতে "রা নাহি দেয় রাধা" এর স্টায়লে ঠুসে দিয়েছেন অবনী বাবু যা স্বভাবত:ই শিশুদের কাছে বিরক্তিকর হবে। তৃতীয় গল্প দাদাশ্বশুদের ঘড়ি আয়তনে বৃহৎ। তরক্ষু, মুক্ত-কেশী, প্রভৃতি শক্ত শক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যা একেবারেই শিশুদের উপযোগী নয়। এই গল্পটিতেও একটি কোবতে আছে। চতুর্থ রচনা দেয়ানের চটি বনফুলের ছোটো গল্পের স্টায়লে লেখা। পঞ্চম গল্প ছিটওয়ালা কাকে কিছুটা হাস্য রস বিদ্যমান। এ গল্পেও  মনের আনন্দে কোবতে ঠুসে দিয়েছেন অবনীন্দ্র বাবু। সর্ব শেষ গল্প গুমগুমি কিয়দংশে থ্রিলার শ্রেণী ভুক্ত বললে অত্যুক্তি হবে না।

[ যে সমস্ত গ্রন্থের স্বত্ব সমাপ্ত হয়েছে, কিছু ভারতীয় সংস্থা সেই সমস্ত বইগুলিকে ডিজিট্যাল ফর্ম্যাটে বের করে বিনা মূল্যে বিতরণ করছেন, অবনীন্দ্র নাথ ঠাকুরের হানাবাড়ির কারখানা তারই মধ্যে একটি - লেখক কৃত সমালোচনাটি চর্যা পদের মাধ্যমে ইন্টার্নেটে প্রথম বার প্রকাশিত। ] 

 

 

এখন যা পড়ছি কিন্ডলে : হানাবাড়ির কারখানা
  • 5.00 / 5 5
1 vote, 5.00 avg. rating (91% score)

Comments

comments