প্রথমেই বলে নি, আমি ডাক্তার নই। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, কিন্তু তাও এই পোষ্ট করছি। কারন আমি এমন এক আজব দেশে বাস করি, যেখানে শৌচাগার অপেক্ষা মোবাইল ফোন-এর সংখ্যা বেশি, আর শিশুচিকিৎসকের অভাব যে কত বেশি তা বলা বাহুল্য মাত্র। চর্যাপদ কোনোভাবেই হাতুড়ে চিকিৎসা অর্থাৎ না জেনেশুনে যা হোক চিকিৎসা করা সমর্থন করে না, তবুও এই পোষ্ট করছি। কারন আমরা মনে করি “নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো”। অর্থাৎ অসুখ করলে যত শীঘ্র সম্ভব ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে নিজে নিজে চিকিৎসা করা একেবারেই উচিৎ নয়—তবুও সেরকম সুযোগ না পেলে যেন কোন শিশুকে কষ্ট পেতে না হয়; ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে একটু ফার্স্ট-এড দেওয়া যেতে পারে। এখানে আমরা একটি তালিকা বানানোর চেষ্টা করছি সেই সমস্ত ওষুধের যেগুলো কিনা নতুন মায়েদের সঙ্গে সর্বদাই থাকা উচিত।
১। আরনিকা-৩০ – যে কোন শারীরিক আঘাত, হঠাৎ লাগা মানসিক আঘাত, ভ্যাক্সিন ইনজেকশন দেওয়ার পরে ব্যাথা কমাতে আরনিকা এক বাক্যে তৈরি। বাড়িতে, খেলার মাঠে, বেড়াতে গিয়ে সব সময় হাতে থাকা উচিৎ।
২। অ্যাকনাইট – হঠাৎ লাগা ঠাণ্ডা, শুকনো হাওয়া থেকে লাগা ঠাণ্ডায় ব্যবহৃত হয়।
৩। shamomilla – শিশুদের অকারন পেত-ব্যাথা বা কলিকের সমস্যা, দাঁত ওঠার সময় ব্যাথার সমস্যায় এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। সাধারনত যে শিশুরা একটু বেশিই কাঁদতে পছন্দ করে, যাই দেখিয়ে ভলানর চেষ্টা করা হোক না কেন, “অউর দিখাও, অউর দিখাও” করতে থাকে, তাদের ঠান্ডা করার অব্যর্থ ওষুধ এটি।
৪। ferrum phos ৬ – এটি হোমিওপ্যাথি আয়রন বলা হয়। যেকোনো ধরনের ইনফেকশন, ঠাণ্ডা লেগে জ্বর (aconite এর বিপরীত, অর্থাৎ যদি ধীরে ধীরে জ্বর আসে), সঙ্গে দুর্বলতা, গলা ব্যাথা, ল্যাদ খাওয়, ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যায়। আয়রন থাকার কারণে সরাসরি কোষে পৌঁছে অক্সিজেনেসন বাড়ায়, তাড়াতাড়ি রোগ সারাতে সাহায্য করে।
৫। belladona – রোদ্দুর লেগে জ্বর, সানস্ট্রোকে, মাথা ব্যাথা-জ্বর, ছোটোখাট জ্বরের জন্যে ব্যবহৃত।
৬। heaper sulphur – গলায় এবং মুখে ঠাণ্ডা লেগে ঘা, সরদি জমে যাওয়া এই সমস্ত অবস্থায় এটি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
৭। mother arnica liquid – পড়ে গিয়ে ফুলে গেলে, বা যে জায়গায় ব্যাথা হতে পারে (রক্তপাত হয়নি, কেটে যাওয়ার ওপর লাগালে হিতে বিপরীত হবে!!) সেই জায়গায় তুলো করে ভিজিয়ে এটি লাগানো উচিত।
৮। callendula cream/liquid – যেকোনো কাটা ছড়া, শুষ্ক ত্বক সমস্যায় ব্যবহার হয়।
শিশুদের জন্যে যে কোন ওষুধ-ই ৩০ বা ৬ ক্ষমতায় ব্যবহার করা উচিত। এবং ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে এক-দু বারের বেশি নিজে ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত ণয়।

হোমিওপ্যাথি কিট
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments