রান্না সংক্রান্ত এটি আমার প্রথম পোষ্ট। আদতে আমি রান্না তেমন একটা ভালো পারি না, খুব বেশি আগ্রহ নেই। খাবার প্রতি আগ্রহ তেমন নেই, তবে ভালো খাবার হলে অনেক কিছুই ভালো লাগে। শুক্ত, নিম-বেগুন থেকে শুরু করে বিরিয়ানি, রেজালা অথবা লাজানিয়া, পিজ্জা – কিছুতেই অভক্তি নেই। আবার তেমন ভাবেই মুড়ি- সরষের তেল –কাঁচালঙ্কাও জমিয়ে খেতে পারি। কিন্তু ঐ আর কি, নিজের জন্যে রান্না করতে বাজে ল্যাদ লাগে, আর আমার মা এবং শাশুড়িমা – দুজনেই খুব ভালো রান্না করেন, তাই বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি থাকলে তেমন একটা দরকার হয় না রান্না করার। কিন্তু আমাদের অণু-পরিবারের সুবাদে গত কয়েক বছর ধরেই রান্নাবান্নার প্রতি একরকম আগ্রহ জন্মাচ্ছে আস্তে আস্তে। আসলে যতদিন আমাদের প্রোটন- ইলেকট্রন এর সংসার ছিল, কিছুটা হোস্টেলজীবনের মত কেটেছে, কিন্তু নিউট্রনের জন্মের পর থেকেই আমি এক অতিরিক্ত খিচখিচে, সন্দেহবাতিক মা হয়ে গেছি; আর তবে থেকেই মনে হচ্ছে একটু আধটু পোশাকি রান্না শিখে ফেলা উচিৎ নচেৎ দুদিন বাদেই নিউট্রন বাইরে খাবার বায়না ধরবে। তবে ভালো মন্দ রান্না যেমনি হোক না কেন, আমার একটু স্বাস্থ্যসচেতনতার বাতিক আছে, তাই বেশি তেলের রান্না পছন্দ হয় না; আর পছন্দ হয়না অনেক ক্ষণ ধরে রান্না করা। ভালো রান্নার চক্করেই আমাদের বাড়িতে প্রায়শয়ই টিভিতে খাবার অনুষ্ঠান চলতে থাকে; কারণ টিভিতে মুরগ-মসল্লম দেখতে দেখতে প্রোটনবাবু ডাল-ভাত চচ্চড়ি আরাম করে খেয়ে ফেলতে পারেন। এখন যে রেসিপি টা দেব এটি zeeবাংলা-র রান্নাঘর থেকে শেখা, বানিয়েছিলেন অলকানন্দা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উপকরণঃ (*আমি নিজে খুব বেশি মেপেঝুপে জিনিষপত্র দেওয়া পছন্দ করি না, তাই পরিমাণ গুলো লিখলাম না।)
১। বোনলেস চিকেন (আমি হাড় সমেত নিয়েছিলাম)- আসলে রান্নাটা যেহেতু জল ছাড়া, তাই কুকারে দেওয়া একটু অসুবিধ… তাই হাড় ছাড়া হলে সহজে সুসিদ্ধ হয়। (৩০০ গ্রাঃ মত)
২। টক দই – (আমি ঘরে পাতা দই ব্যবহার করেছি, ডাবলটোন্ড দুধের দই) বেশ অনেকটা লাগবে (পুরো রান্নাটা দইতেই হবে, জল পড়বে না, যেন সব চিকেন গুলো দইতে ডুবে থাকতে পয়ারে)(প্রায় ৪০০ মিলি দুধের দই)
৩। পিয়াজ – ১টা বড় কুচিয়ে রাখা
৪। টম্যাটো – ২টা মাঝারি কুচিয়ে রাখা
৫। কাচালঙ্কা – কুচিয়ে রাখা
৬। রসুন বাটা – বেশ খানিকটা
৭। গোটা গোলমরিচ – ১২-১৫ টা (মানে যতটা খেতে আপনাদের ভালো লাগবে, তটাই দেবেন। না খেলে বেকার নষ্ট হবে)
৮। মরিচগুঁড়ো – স্বাদ মত
৯। নুন – স্বাদ মত
১০। চিনি – স্বাদ মত
১১। তেজপাতা – ২/৩ টে
১২। সাদা তেল – অল্প (এক চামচ মত, নিজে একবার করলে পরিমাণটা বুঝতে পারবেন, কারণ দইএর উপরে তেল ভেসে উঠবে)
প্রণালীঃ
প্রথমে টক দইটাকে একটি বড় বাটিতে নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে ওর মধ্যে একে একে রসুনবাটা, নুন, চিনি, গোলমরিচগুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে চেখে দেখতে হবে উপাদেয় লাগছে কিনা। এর পর পিয়াজকুচি, টম্যাটোকুচি, লঙ্কাকুচি, গোটা গোলমরিচ, তেজপাতা, সাদা তেল এবং চিকেন দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে রাখতে হবে। যেহেতু জল দেওয়া হচ্ছে না, তাই দেখতে হবে যেন মিশ্রণ টি তে খানিকটা দই-দই মত অংশ থাকে। এরপর বাটিটাকে চাপা দিয়ে সোজা ফ্রিজে রেখে দিন ১ ঘণ্টা (আমি ৬ ঘণ্টা রেখেছিলাম মানে রাত্রে রেখে দিয়েছিলাম, সকালে রান্না করেছি; যদিও রাঁধুনি নিজে ১ ঘণ্টা রাখতে বলেছিলেন!) বা তার থেকেও বেশি।যখন সময় হবে ফ্রিজ থেকে বার করুন, একটু সময় রেখে দিন বাইরে (ফ্রিজের জিনিষ সরাসরি আগুনে চাপাতে নেই)। গ্যাস জ্বালিয়ে একটা কড়া বা ফ্রাইংপ্যান বসান। পুরো মিশ্রণটি দিয়ে দিন, বাটিতে অল্প জল দিয়ে বাটিধোয়া জলটাও দিয়ে দিতে পারেন। এবার মিডিয়াম আঁচে ২০-২৫ মিনিট রান্না করুন ঢাকা দিয়ে (সময় টা নির্ভর করবে, কতক্ষন ম্যারিনেটেড রাখা ছিল এবং চিকেন পিস গুলোর সাইজের উপর)। সিদ্ধ হয়ে গেলে সাদা থাকতে থাকতে নামিয়ে নিন। গ্রেভি কম মনে হলে জল মেশাতে পারেন, তবে স্বাদ কমবে। যদি আমার মত গ্যাস বন্ধ করতে ভুলে যান, দইটা প্রথমে শুকিয়ে যাবে, তারপর কড়ার গায়ে গায়ে লেগে যাবে, তারও পরে পুড়ে যাবে। আমার অবিশ্যি পুড়ে যাওয়া অবধি যায়নি, খালি সাদা রংটা নষ্ট হয়ে হলুদ ভাজা ভাজা মত হয়ে ছিল; প্রোটন বাবুর কথায় রেজালা রেজালা স্বাদ হয়েছিল তাতে!!
এবার মনের আনন্দে রেঁধে ফেলুন, কারণ সমস্ত উপকরণ ঘরেই আছে, আর কাল রোববার মানে বাজার থেকে চিকেন আসবেই, তাই না। এই পোষ্টটার কিছু মন্তব্য আশা করছি কিন্তু, কেমন হল জানাবেন, কেমন?
* ইচ্ছা হলে একটু শশা দিয়েও দেখতে পারেন, প্রোটনবাবুর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমি দিতে সাহস করিনি :(

হোয়াইট চিকেন অথবা রায়তা চিকেন
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments