মনে হচ্ছে, বেশ অসময়েই লিখতে বসলাম

অসময় বলছি এই জন্যেই, যে এখনও তো রক্তের দাগ শুকিয়ে যায়নি। রয়েছে, ভীষণ প্রবল ভাবেই রয়েছে। অবিশ্যি কবেই বা শুকিয়েছে যে আজকে নতুন করে বলার আছে। তবু বলতে হচ্ছে

চলছিল, অনেকদিন ধরেই চলছিল। সময় সময় লুকিয়ে থাকি, দেখতে চাই না এসব। তবু, সেই লুকোনো ডেরা থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে চোখের সামনে ধরে – দেখতে তোমায় হবেই – অশ্ববাহিতশকটের ঘোড়ার মত চোখের দুইদিক বেঁধে দিয়ে – অতএব দেখতে থাকো রক্তের স্রোত, দেখো, অভিজিৎ রায়ের খুলি ভেদ করে বেরিয়ে আসা তাজা মগজের ছবি, দেখো আইসিসের নাবালক জঙ্গির হাতে ধরা সদ্যছিন্ন শ্বেতমুন্ডের ছবি, যা থেকে এখনও বেরিয়ে আসছে জমাট না বাঁধা শোণিতপ্রবাহ, এই দেখো, খোলা তলোয়ার হাতে উল্লাসের ছবি। জন্মে তুলতে পেরেছ হিংসা, যথেষ্ট হিংসা ? এখনও পারোনি!! আবার দেখো,

নাকি তুমি যে মতে বিশ্বাস করো, সেই মতাবলম্বীদের অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেলে ? ভয় কাটাও, আরও দেখো, চলে এসো আমার সাথে, মনে রাখবে, লজ্জা, ঘৃণা, ভয় এই তিনের সামান্যতম অবশিষ্টাংশও বাধা দেয় উচ্চস্তরের মানুষ হয়ে উঠতে

মূর্খ তো, সে কারণেই বোধহয়, এই রকম একটা সময়ে, এই পরিবেশে মনে পড়ে গেল ছেলেবেলার এক শিক্ষকমশাইয়ের কথা – বছরে দুটো, একটা ওপরে, একটা নিচে। মানে হল, একটি ক্লাস নাইনের ছেলে, ক্লাস দোতলায় হত, আরেকটা টেনে, ক্লাস এক তলায়। দূর্ভাগ্য বলুন বা সৌভাগ্য, একবার দেখতে পেয়েছিলাম। উদমা কেলিয়ে জিজ্ঞেস করলেন – নাম কি ? কোনোক্রমে নাম বলে ছেলেটি যখন ভাবছে – এবার রেহাই, তখনই হুংকার – এখনও মনে আছে ?

হ্যাঁ, আমার মনে আছে, আমার নাম, আমার উর্ধ্বতন চতুর্থ পুরুষের নাম আমার মনে আছে, তারপর কখনও জানতাম না, ফলত বাদ গেছে। আপনাদের দেখানো ছবি বিশ্বাস করুন, আমার মধ্যে এতটুকু হিংসার সঞ্চার করতে পারেনি।

আর তিনটে সম্ভব হয়নি, একটাকে তাড়িয়ে দিয়েছি, স্থানচ্যুত করেছি মন থেকে। আর যে দুটো রয়েছে, তার সাথে জুড়েছে করুণা আপনাদের প্রতি, আপনাদের প্রতি যাঁরা নিরন্তর হিংসা দেখিয়ে আমাকে বিক্ষিপ্ত করতে চেয়েছিলেন, বদলে দিতে চেয়েছিলেন দীর্ঘ যত্নে লালিত, অনুশীলিত মূল্যবোধ। এছাড়াও জানতে পেরেছি, প্রতিবাদ করা যায়, হ্যাঁ হিংসাকে পাশে না রাখলেও করা যায়, শুনলে হয়ত অবাক হয়ে যাবেন, আপনারা যেমন আছেন, সেই রকম সেই সব মানুষজনও আছেন এই সর্বংসহা ধরিত্রীর বুকে, আর ওই যে লুকোনো ডেরা থেকে জোর করে বের করে এনে আপনাদের পিছু পিছু দৌড় করাতে চেয়েছিলেন, সেই বের করে আনাই কাল হয়েছিল, আজ ভাল করে তাকিয়ে দেখুন, সময়ের ফেরে আমি এখন আপনাদের মুখোমুখি, খুলে ফেলেছি চোখের বাঁধন, ক্ষমতা থাকে নষ্ট করে দিন আমার এবং আমাদের এই নিরস্ত্র রক্তচক্ষু -

কথা দিচ্ছি – এই মৃত্যু উপত্যকাতে দাঁড়িয়েই আমরা প্রেম করব, সহবাসে লিপ্ত হব, সৃষ্টি করব নতুন জীবন, তবে তার আগে, ঠিকই শুনছেন, তার আগেই এই উপত্যকায় ফিরিয়ে আনব প্রাণ

মনে রাখবেন – শিবতরাইয়ের সেই পাগল, বটুকের অমোঘ উক্তি – প্রাণের বদলে প্রাণ যদি না মেলে, মৃত্যু দিয়ে যদি মৃত্যুকেই ডাকা হয়, তবে ভৈরব এত বড়ো ক্ষতি সইবেন কেন? সাবধান, বাবা, সাবধান, যেয়ো না ও পথে

 

 

বিধিবদ্ধ অনুরোধ – আপাতত যা পড়লেন প্রলাপ ভেবে ভুলে যাবেন অথবা নিস্ফলের আস্ফালন মনে করে ক্ষমা করে দেবেন

An eye for an eye makes the whole world blind
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments