এই পর্বে লিখছেন অরিন্দম গোস্বামী। পেশায় বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক। কথাসাহিত্যের ওপর গবেষণা করেছেন। প্রকাশিত গ্রন্থঃ "সুবোধ ঘোষঃ কথাসাহিত্য"। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে থাকে। 

 

সকাল আটটা বাজতে আর কয়েক মিনিট বাকি। ভীড়ে থিকথিক করছে স্টেশন। সাতটা চল্লিশের লোকালটাই এখনো আসেনি। বাইরে চড়া রোদ। প্ল‍্যাটফর্মের ছাউনির তলাতেও এসে থাবা বসাচ্ছে তার ঝালাস। পাশেই কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে এক গোছা মেয়ে-পুরুষ। এই সময় কেন যে এরা ট্রেন ধরতে আসে! সমীরও আসে না , নেহাত তাকে আজ একটু হাসপাতাল ঘুরে যেতে হবে …… ট্রেন আসার ঘোষণা হলো। এপাশে অপেক্ষা করা জনা-চারেকের দলটাকে দেখেই মনে হয়, কোনো ফ‍্যাক্টরিতে কাজ করে। লেট হলেই হপ্তায় কাটা – একজন বললো। মানুষের বিরক্তিকর সংলাপ …. রুটি-রুজি, ট্রেন লেট ….. এবার ট্রেন ঢুকছে। একটু পেছালো সমীর। একে একে কামরাগুলো ওকে পেরোচ্ছে – ভেতরে থিকথিকে ভীড়। একটা দরজা সামনে এসে থামতেই একগাদা লোক ঝাপিয়ে পড়লো সেখানে। – নামতে দিন, আগে নামতে দিন … – আরে, নামুন না ছাই তাড়াতাড়ি …  এই, এই বাচ্চা আছে, ধাক্কা মারবেন না …  আরে, আমার ঝোলাটাতো আটকে গেছে , মাঝের রডটায় …  উঠুন, উঠুন, ট্রেন ছেড়ে দেবে তো … হুইসলের আওয়াজ শোনা গেলো। দরজা ছুঁয়ে থাকা মানুষজন এবার মরিয়া। – একটু পা রাখার জায়গা দিন – একটুখানি … ট্রেন নড়ে উঠলো। সমীর হ‍্যান্ডেলটা ধরতে পেরেছিলো শুধু, এবার ছেড়ে দিলো। ঝুলন্ত মানুষ নিয়ে এগোতে লাগলো একটা-দুটো দরজা। হঠাৎ সমীরের পায়ের কাছে ঠং করে পড়লো একটা গোল টিফিনবক্স। পড়েই রাগে গরগর করতে করতে গোল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে সেটা এগিয়ে চললো মসৃণ প্ল‍্যাটফর্ম ধরে। তারপর এক প্রবল বিক্ষোভে একেবারে ফেটে পড়লো। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো তিনটে চারভাঁজ করা রুটি – আলুর তরকারি। সেই মুহূর্তে প্ল‍্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের গার্ডসাহেব – মুখ বাড়িয়ে , সেটা দেখতে পেলেন কিনা – কে জানে!

 

ভৈরবী
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments