সম্ভবতঃ ৯৩ সাল। মা বলল রাজস্থান বেড়াতে যাবে। আমি বায়না ধরলাম আমাকেও নিতে হবে। তখন থ্রি বা ফোর এ পড়ি। অতএব সে বায়না না মেনে উপায় কি! উঠে পড়লাম ট্রেনে। সঙ্গে একটা পাতলা বই – "জয়বাবা ফেলুনাথ"। বইটা ট্রেনেই প্রায় শেষ করে ফেলেছিলাম। সেটা আসলে দাদার বই, ভাইফোঁটায় পাওয়া। সেই প্রথম ফেলুদার সঙ্গে মোলাকাত। তারপর দাদার ফেলুদাগুলো সব নিজের হেফাজতে নিয়ে নিলাম। আর প্রত্যেক বছর বইমেলা থেকে আর কিছু কিনি বা না কিনি ফেলুদা একটা কিনবই। আনেকগুলো অবশ্য কিনতে হয়নি। জন্মদিন, ভাইফোঁটা আরো নানা উপলক্ষ্যে ঠিক হাতে এসে গেছে। নাহ! ঢাউস ফেলুদা সমগ্র আমার নেই। ঐ হার্ডকভার পাতলা বইগুলোই আমার পছন্দ। আজও মাঝে মাঝে যখন এক এক টা বই র‍্যাক থেকে নিয়ে খুলি, হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা, ন্যাপথলিনের গন্ধ আর উপহারের পৃষ্ঠায় লেখার সঙ্গে পাক দিয়ে ওঠে সেই উপুর  হয়ে শুয়ে ফেলুদা পড়ার দুপুরগুলো, যখন চাকরির দায়িত্ব নেই, সংসারের সমস্যা নেই্‌ এমনকি পড়াশোনার চাপটাও উধাও হয়ে যায় ফেলুদার আঙুলের তুড়িতে।

হবে নাই বা কেন! ফেলুদা-ই তো আমার শৈশবের হিরো, কৈশোরের বন্ধু, যৌবনের আইডল। হ্যাঁ কোন রাষ্ট্রনেতা বা অভিনেতা নয়, মনের মণিকোঠায় নায়ক বা আদর্শ যদি কেউ থেকে থাকে সে ছিল ঐ ফেলুদা। আর কে আছে যে স্রেফ মগজাস্ত্রের জোরে দুঁদে বদমাসদের ঘায়েল করতে পারে! ফেলুদার প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই, কিন্তু ওর ভিলেনরাও কি কম প্রতিভাবান! লখনৌএর ইতিহাস গুলে খাওয়া বনবিহারী সরকার, ঘড়ি বিশেষজ্ঞ মহাদেব চৌধুরী, অভিনয় আর ছদ্মবেশ ধারণে তুখোড় বিশ্বনাথ মজুমদার, হিপনোটিজমে ওস্তাদ সুনীল তরফদার, ভ্রমণ কাহিনীর সংগ্রাহক অবিনাশ পাকড়াশি – এমন বিচিত্র সব প্রতিভার প্রতিপক্ষ পেতে যেকোন নায়ককে হেদিয়ে যেতে হবে। এই "ভিলেন"দের অনেকের কাছেই কিন্তু অপরাধের মুখ্য মোটিভেশন হল শখ, অর্থলালসা নয়। বনবিহারীবাবু আওড়ঙ্গজেবের আংটি উদ্ধারের জন্য স্পাই লাগিয়েছিলেন কি সেটা বেচে পয়সা কামাবেন বলে? মহাদেব চৌধুরী যে অষ্টাদশ শতকের পেরিগ্যাল রীপিটারের খোঁজে টমাস গডউইনের কবর খোঁড়াখুঁড়ি করেছিলেন তা কি ঘড়িটা পাচার করার জন্য? শম্ভূচরণ বোসের তিব্বত ভ্রমণের পাণ্ডুলিপি হস্তগত করার জন্য কালকা মেলের কামরায় মিস্টার পাকড়াশির বাক্স বদলের নাটকের পেছনে কি শুধুই ঐ বইটা ছাপিয়ে বড়লোক হওয়ার তাড়না ছিল? বরং শয়তানি বুদ্ধিতে এদের থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকা মগনলাল মেঘরাজ এই জায়গাতেই পিছিয়ে আছে। ঘোষালবাড়ির গণেশ চুরি করা বা কাঠমাণ্ডুতে জাল ওষুধের ব্যবসা কোন জায়গাতেই তাকে এক অশিক্ষিত বড়লোক ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যায়না। লালমোহনবাবুর মত নিরীহ মানুষকে হেনস্তা করার মধ্যে দিয়েও তার মোটা দাগের শয়তানি চরিত্রটাই বেরিয়ে আসে।

এহেন বিচিত্র প্রতিভার অধিকারী ভিলেনদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে গেলে ফেলুদাকেও স্রেফ পিস্তল চালানো আর আঙুলের ছাপ বা সিগারেটের টুকরো বিশ্লেষণে কাজ জানলে তো চলবে না! গুরু শার্লক হোমসের মত সে বলতে পারে না, "A fool takes in all the lumber of every sort that he come across, so that the knowledge which might be useful to him gets crowded out, or at best is jumbled up with a lot of other things … You say that we go round the sun. If we went round the moon it would not make a pennyworth of difference to me or to my work." বরং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে তাকে পড়াশোনা করতে হয়। সে ক্রিমিনোলজি হোক কি ম্যাজিক, ক্রিকেট হোক কি রামায়ণ-মহাভারত, কোপার্নিকাসের সৌর তত্ত্ব হোক কি ইউরোপের রেঁনেশাস যুগের শিল্পকলা। এমনকি টেলিপ্যাথি, প্ল্যানচেটের মত বিষয়, যেগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, সে সংক্রান্ত বইও সে পড়ে সমান আগ্রহে। তার নিজের কথায়,

"আমি যেটা বিশ্বাস করি সেটা হল এই যে, প্রমাণ ছাড়া কোন জিনিস বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করা বোকামো। মনটা খোলা না রাখলে যে মানুষকে বোকা বনতে হয় তার প্রমাণ ইতিহাসে অজস্র আছে। এককালে লোকে পৃথিবীটা ফ্ল্যাট বলে মনে করত জানিস? আর ভাবত যে একটা জায়গায় গিয়ে পৃথিবীটা ফুরিয়ে গেছে, যার পর আর যাওয়া যায় না। কিন্তু ভূপর্যটক ম্যাগেলান যখন এক জায়গা থেকে রওনা হয়ে ভূপ্রদক্ষিণ করে আবার সেই জায়গাতেই ফিরে এলেন, তখন ফ্ল্যাটওয়ালারা সব মাথা চুলকোতে লাগলেন …"

শুধু বই পড়ে জ্ঞান আহরণ নয়, ফেলুদা চষে বেড়িয়েছে গোটা ভারতবর্ষ। রহস্য সমাধানের তাগিদে ছুটে গেছে কাঠমাণ্ডু, হংকং, লণ্ডন। কিন্তু দিনের শেষে সে একজন মধ্যবিত্ত বাঙালী। গোয়েন্দা হিসেবে পসার জমিয়েও কাকার বাড়িতেই থেকে যায়। রজনী সেন রোডের ফ্ল্যাট ছেড়ে নিজের ফ্ল্যাটে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও কাকার এক ধমকেই ঠাণ্ডা হয়ে যায়। গাড়ি কেনা বা সেক্রেটারি রাখার প্রয়োজন বোধ করে না। বড়দের দেখলেই সিগারেট পেছনে লুকিয়ে ফেলে। বাঙালীয়ানা ফেলুদার মজ্জায়। লালমোহনবাবু "ভূশণ্ডির মাঠ" এর নদু মল্লিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুনে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। রাজশেখর নিয়োগীর খাওয়া দেখেই ধরে ফেলতে পারে সে বাংলার বাইরে মানুষ! ছাপোষা বইয়ের দোকানি সুধীর ধর থেকে ধনী ব্যবসায়ী দীননাথ লাহিড়ী – সবার সঙ্গেই একইরকমভাবে কথা বলে যামিনী রায়ের আঁকা ছবির সামনে রঙিণ মাছের অ্যাকুয়ারিয়ামের পাশে সোফায় বসে। সে নিজে সংসার করেনি বটে কিন্তু তোপসে আর লালমোহনবাবুর সঙ্গে আসমবয়সী বন্ধুত্বের টান কোন পরিবারের চেয়ে কম নয়। তোপসের মত ভাই আর লালমোহনবাবুর মত বন্ধু যে এজগতে সহজে মেলে না সেটা ফেলুদা ছাড়া কে-ই বা জানে!

তবে বাঙালী মধ্যবিত্তের সব বৈশিষ্ট্যই তার আছে তা নয়। সকালে সে ল্যাদ না খেয়ে যোগব্যায়াম করে, ভাট দিয়ে সময় নষ্ট করে না, পাংচুয়ালিটির পান থেকে চুন খসলে বিরক্ত হয়। মনে প্রাণে বাঙালী বলেই বাঙলার ঐতিহ্যকে যখন বাঙালীরাই ধ্বংস করতে থাকে তখন তার আক্ষেপের শেষ থাকে না। তোপসে কে বলেছিল,

"দিল্লী আগ্রার তুলনায় কলকাতা খোকা শহর হলেও এটাকে উড়িয়ে দেওয়া মোটেই ঠিক নয়। এখানে তাজমহল নেই, কুতুব মিনার নেই, যোধপুর-জয়শলমীরের মত কেল্লা নেই, বিশ্বনাথের গলি নেই – এসবই ঠিক। কিন্তু ভেবে দেখ তোপসে – একটা সাহেব মশা মাছি সাপ ব্যাঙ বন-বাদাড়ে ভরা মাঠের এক প্রান্তে গঙ্গার ধারে বসে ভাবল এখানে সে  কুঠির পত্তন করবে, আর দেখতে দেখতে বনবাদাড় সাফ হয়ে গিয়ে সেখানে দালান উঠল, রাস্তা হল, রাস্তার ধারে লাইন করে গ্যাসের বাতি বসল, সেই রাস্তায় ঘোড়া ছুটল, পালকি ছুটল, আর একশো বছর যেতে না যেতে গড়ে উঠল এমন একটা শহর যার নাম হয়ে গেল সিটি অফ প্যালেসেজ। এখন সে শহরের কি ছিরি হয়েছে সেটা কথা নয়; আমি বলছি ইতিহাসের কথা। শহরের রাস্তার নাম পালটে এরা সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চাইছে …"

শুধুমাত্র পাণ্ডিত্য আর মগজাস্ত্র নয়, নায়কের শিরদাঁড়াটাও গড়পরতা মানুষের চেয়ে শক্ত হবে, তার নৈতিক মূল্যবোধ স্ফটিকের মত স্বচ্ছ হবে এ প্রত্যাশাও অনুচিৎ নয়। ফেলুদাকে দেখেছি মগনলালের দেওয়া টাকার বাণ্ডিল ছুঁড়ে ফেলে জবাব দিতে "বিনা পরিশ্রমে আমি পারিশ্রমিক নিই না মিস্টার মেঘরাজ!" দেখেছি অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই জেনেও একটা বাচ্ছা ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের খরচায় রাজস্থান ছুটতে। দেখেছি "খুনির হাত থেকে উপহার নেওয়ার বাসনা নেই" বলে অপরাধবিজ্ঞানের ওপর লোভনীয় বই ফেরৎ দিয়ে আসতে। "কৈলাসে কেলেঙ্কারি"তে সিধুজ্যাঠা তদন্তের খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে ফেলুদা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলঃ "প্রস্তাবটা আপনার কাছ থেকে এসেছে ঠিকই, কিন্তু আমি যদি নিজে এ ব্যাপারে উৎসাহ বোধ না করতাম তাহলে এগোতাম না। … দেশের মন্দিরের গা থেকে মূর্তি ভেঙে নিয়ে যারা বিদেশীদের বিক্রি করে, তাদের অপরাধের কোন ক্ষমা নেই।" "গোরস্থানে সাবধান"এ ফেলুদার মক্কেল কে ছিল? অষ্টাদশ শতকে কবরের তলায় চলে যাওয়া টমাস গডউইন? কিসের আশায় পেরিগ্যাল রীপিটারকে বাঁচানোর জন্য ফেলুদা বনের মোষ থুরি গোরস্থানে মশা তাড়াতে গেছিল?

অবশ্য ক্রমশঃ বোঝা গেছে ফেলুদা কোন সুপারম্যান নয়, আমাদের মতই দোষগুণে মেশানো রক্তমাংসের মানুষ।টিনটোরেটোর যিশু যত ফেলুদার বয়স বাড়তে থাকে তার মগজাস্ত্রের ধার কমতে শুরু করে। ছিঁচকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামুলি তদন্ত করে সাফল্য পায় বটে কিন্তু বনবিহারী সরকার বা মহাদেব চৌধুরীর মত প্রতিভাবান প্রতিদ্বন্দীদের আর দেখা মেলে না। "জয়বাবা ফেলুনাথ" বা "যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে" যে মগনলালকে ফাঁদে ফেলে নাস্তানাবুদ করেছিল ফেলুদা সেই মগনলালের ডেরা থেকে গোলাপি মুক্তো উদ্ধার করতে গিয়ে তাকে রাইভ্যাল গ্যাঙের আন্টিস্যোশালদের সাহায্য নিতে হয়। যে ফেলুদা "গোঁসাইপুর সরগরম"এ আত্মারামের আত্মা নামানোর জোচ্চুরি ফাঁস করে দিয়েছিল, সেই ফেলুদা "ভূস্বর্গ ভয়ংকর"এ ডাঃ মজুমদারের প্ল্যানচেটের বুজরুকি নিয়ে কিছুই বলে না। এমন কি নিজের ওপর দুবার হামলা কে চালিয়েছিল তাকেও ধরতে পারে না। তাই "নয়ন রহস্য"তে দেখি ফেলুদার গল্পের পাঠকরা দলে দলে চিঠি লিখে অভিযোগ করছে, "ফেলু মিত্তিরের মামলা আর তেমন জমাটি হচ্ছে না, জটায়ু আর তেমন হাসাতে পারছেন না, তপেশের বিবরণ বিবর্ণ হয়ে আসছে…"। আর এই চিঠির ধাক্কাতেই ফেলুদা ঠিক সাধারণ লোকের মতই লালমোহনবাবুর ভাষায় হতোদ্যম, বিষণ্ণ, বিমর্ষ, নিস্তেজ, নিস্প্রভ এমনকি মেদামারা হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক যেটা সেটা হল অফিসের বড়বাবুর মতই ফেলুদা এর দায়টা নিজের ঘাড় থেকে সরিয়ে ফেলতে চেয়ে বলে, তোপসে প্রকাশকদের চাপে বিভ্রান্ত হয়ে পড়াতেই না কি এই কাণ্ড!

ফেলুদার আর যে জিনিসটা খারাপ লাগে তা হল মেয়েদের সে একেবারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। তার বেশিরভাগ মক্কেল হয় বিপত্নীক, নয় অকৃতদার। স্রষ্টা যুক্তি দেবেন, ফেলুদার গল্পগুলো ছোটদের জন্য লেখা। এখানে প্রেম বা যৌনতাকে ঠাঁই দেওয়া যায় না। কিন্তু প্রেম বা যৌনতা ছাড়া কি নারীচরিত্র থাকতে পারে না? ফেলুদা মনকে খোলা রাখতে বলেছিল, কিন্তু তার স্রষ্টা কি মেয়েদের সম্পর্কে সমাজের টিপিকাল মানসিকতার ফাঁদেই পড়লেন না? 

অবশ্য এইসবে ফেলুদার নায়কত্বে কালি পড়েনি। অনুসরণ তো মানুষকেই করা যায়, শয়তান বা ভগবান কে তো নয়! ফেলুদার সঙ্গে প্রথম মোলাকাৎ হয়েছিল "সোনার কেল্লা"র দেশে বেড়াতে গিয়ে। আর ফেলুদার সঙ্গে বেড়ানোর সম্পর্ক আলাদা করে বলার কিছু নেই। তোপসে শুনলে বলত টেলিপ্যাথি! যদিও তোপসেকে ও একবার বলেছিল, "দেখিস ফেলুদার গল্প যেন ট্যুরিস্ট গাইডবুক না হয়ে যায়!" তবু বেড়াতে যাওয়ার আগে সেখানকার পটভূ্মিতে ফেলুদার কোন গল্প থাকলে চোখ বুলিয়ে নিতে ভুলি না। ফেলুদা কে দেখেছি কোথাও যাওয়ার আগে সিধুজ্যাঠার কাছ থেকে সেই জায়গা সম্পর্কিত বইপত্র এনে পড়াশোনা করে নেয়। আমার কোন সিধুজ্যাঠা নেই, তবে গুগলজ্যাঠা আছে। তাই তার সাহায্যেই বেড়ানোর জায়গাটার ইতিহাস ভূগোল সম্পর্কে ঘাঁটাঘাঁটি করে নিই। "বোম্বাইয়ের বোম্বেটে" তে তোপসে বলেছিল, "পায়ে হেঁটে ঘুরে না দেখলে নতুন শহর দেখা হয়না এটা আমরা তিনজনেই বিশ্বাস করি।" সেই মুম্বাইতে হেঁটে বেড়াতে গিয়ে কি বিপত্তিতে পড়েছিলাম তা আগে একবার বলেছি। ফিরে আসি সেই রাজস্থান ভ্রমণের কথায়। আমরা যখন ফিরছি সেদিন কলকাতা থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। আমরা অবশ্য দেখেছিলাম ট্রেনের জানলা দিয়ে। সোনার কেল্লাতেই ফেলুদা বলছিল না, "সৌরজগতের গ্রহগুলোই আবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে এলিপটিক কার্ভে!" এভাবে প্রদক্ষিণ করতে করতে যখন সূর্য আর পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে তখনই তো সূর্যগ্রহণ হয়। … " এখানেও জিওমেট্রি … সমস্ত জীবনটাই জিওমেট্রি!" 

  

 

ছবি সৌজন্যেঃ "ফেলুদা ইলাস্ট্রেশন অ্যালবাম", সন্দেশ, অগ্রহায়ণ ১৪০২ – অগ্রহায়ণ ১৪০৩।

চারদিকে গোল উঠেছে শুনছি, ফেলুদার নাকি ৫০ বছর পূর্ণ হল। কথাটায় একটু ভুল আছে। ফেলুদার প্রথম অ্যাডভেঞ্চার "ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি" ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল সন্দেশে, ১৩৭২ সালের অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ সংখ্যায়। অর্থাৎ ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর এবং ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়। সেই হিসেবে এবছর ফেলুদা ৫১ পূর্ণ করে ৫২য় পা দিল। কিন্তু তাতে কী? "যাহা বাহান্ন তাহাই যদি তিপ্পান্ন হয়" তবে "যাহা একান্ন তাহা পঞ্চাশ হবে না কেন?"

ফেলুদার সাথে
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments