শতদ্রু-র কথা

এখন কেউ কেমন আছো জিজ্ঞেস করলেই,
কেমন যেন খুন চাপে মাথায়…
সেই অফিস-CAB গুলোর পিছনের কাঁচে
HOW AM I DRIVING, সাথে একটা দাঁত-ক্যালানো SMILEY?
অনেকটা সেরকম লাগে নিজেকে।

ভালো তো থাকতেই হবে,
আর পাঁচজনের থেকে।
নইলে কেন এই অবিরাম ছুটে চলা,
নিরন্তর সিঁড়ি ভাঙা?
খেলবো না বললেও চলবে না…
মাঠ থেকে ফেরার রাস্তাটাই ভুলে মেরে দিয়েছি!

এ ছোটা দিগন্তের দিকে নয়।
দিগন্ত টানে না আর
ঘর ও না…

বাড়ির নাম ভালো-বাসা
আরেক অন্তহীন ন্যাকামি…
ইঁট, পাথর, সিমেন্ট, বালির জঙ্গলে
বহুদিন আগে মরে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া একটা লাশ,
ঘুরে ফিরে বেড়ায়।
ইচ্ছে করে, না দেখার ভান করি,
সপ্তাহান্তে কথাও বলে দুএকটা…
মনে পড়িয়ে দেয় এক কালে গানও গাইতো
কোন প্রস্তর-যুগে, কে জানে!

যখন ছোট ছিলাম…
আমি কে, কোথা থেকে এলাম
কোথায় যাব, এ জীবনের পরে
ভাবনা গুলো কুরে কুরে খেত।
অনন্তের মাঝে বিন্দু-সম অস্তিত্বের ভার নিতে না চেয়ে
একছুটে মায়ের আঁচলে লুকোতাম
পৃথিবীর সবথেকে নিশ্চিন্ত নিরাপদ আশ্রয় ভেবে…

বড় হলাম, আশ্রয় বদল হল।
কলেজ, বন্ধু, প্রেম, বিয়ে
ভুলেই গেছিলাম ভয় পেতে – বহুদিন

এখন আবার, ভয়-টা ফিরে আসছে…
বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।

ঋতুজার কথা

দুপুর গুলো কাটতে চায় না আর
একা একা কথা বলি, আরও ফাঁকা হয়ে যাই…
খাঁ খাঁ গলি রোদে পুড়ছে – ভালোবেসে।

ফেরিওয়ালার হাঁক,
পাশের গাছে চড়াই-এর কিচিরমিচির
নিজের হাতের চুড়িগুলোর ঠুনঠুন
…সব এক লাগে।

এ ঘর ও ঘর করি,
গীতাঞ্জলী-র পাতা উলটাই,
আখতারী বেগম গজল শোনায়,
মন ভালো করার চেষ্টায়।
মাঝে মাঝে হঠাৎ-কালো-মেঘও
একসাথে ভেজার ডাক দেয়…
ছাতের দরজা হাট করে খুলে দেয় কালবৈশাখী

কিন্তু আমি যে জীবাশ্ম হয়ে গেছি

এরকম এক দুপুরেই, তোতন আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল
শতদ্রু তখন অফিস টুরে, দিল্লীতে…
দুদিনের জ্বর এসে, নিয়ে গেল ওকে
কত আলোকবর্ষ দূরে, কে জানে!

বছর-কয়েক পরে

ডিভোর্সটা নিয়েই নিলাম শতদ্রু-র থেকে
বিছানা আলাদা আগেই…
মন দুটো তো আরও আগে।
কেমন যেন পালিয়ে বেড়াত শেষদিকে
আমিও তো দূরে, ক্রমে দূরে সরে গেছি
তাই, একেবারে মুক্তি নিয়ে
এখন আমি কালিম্পং-এ
কচিকাঁচা গুলোর আঁকার দিদিমণি।

দিনের বেলাটা বেশ কাটে
ওদের ফুল, পাতা, পাখী চেনাতে, আঁকাতে
ছুটির পরে কোনওদিন উমার সাথে,
কোনওদিন একাই -
হাঁটি, পাহাড়ের বাঁক চিনি
শীতটাকে জড়িয়ে নিই গায়ে
মেঘ কুয়াশার লুকোচুরি দেখি
অলস নিরুদ্দেশ পায়ে…

সূর্য যখন পাহাড়ের কোলে টুপ করে ডুবে যায়
ঘরে ফিরি অনিচ্ছুক।
সেই এক ঘর, এক রাত্রি
এক আলো, এক অন্ধকার
প্রতিটা কোণ এত চেনা যে, চোখ বন্ধ করে
বলে দিতে পারি, কোথায় কি আছে
ফাঁকা ঘরটা যেন গিলতে আসে…

শতদ্রু দূরে ছিল, তবু ছিল তো
এখন
আমি আর আমার একলা অন্ধকার
রাতে ঘুমের মধ্যে বড্ড চেনা হিমঘরটাকে খুঁজি
খুঁজি একটা ঠাণ্ডা ছায়ামানুষকে
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাই
হোক না দূরত্ব সহস্র মাইল

ভ্য় পেয়ে ঘুম ভাঙে…
একা অন্ধকারে

পাখী ডাকছে, ভোর হল বলে।

হিমঘরে দুজন
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments